মোমবাতি, প্রদীপ জ্বালালেই তাপে পুড়ে মরবে ভাইরাস, আজব দাবি বিজেপি নেতার

মোমবাতি, প্রদীপ জ্বালালেই তাপে পুড়ে মরবে ভাইরাস, আজব দাবি বিজেপি নেতার

  • Share this:

    #মাইসুরু: করোনা ভাইরাসকে খতম করার জন্য হামেশাই কিছু নাকিছু নতুন নিদান শোনা যায় বিজেপি নেতাদর মুখে ৷ কখনও গো করোনা গো গান গেয়ে করোনা ভাইরাস তাড়ানোর প্রচেষ্টা তো কখনও করোনা প্রতিষেধক হিসেবে গোমূত্র পানের নিদান ৷ আবার কখনও দিনে ১৫ মিনিট থেকে আধঘণ্টা চড়া রোদে বসার পরামর্শ ৷ তেমনই করোনাকে জব্দ করার নতুন উপায় শোনা গেল কর্নাটকের মাইসুরুর বিজেপি বিধায়ক এসএ রামদাসের মুখে ৷ তার মতে, মোমবাতির আলোয় পুড়ে ধ্বংস হবে করোনা ৷

    করোনাযুদ্ধে নরেন্দ্র মোদির টাস্ক ৷ রবিবার রাত ৯টায়, ৯মিনিটের জন্য আলো নিভিয়ে একজোট হয়ে লড়াইয়ের বার্তা দেশবাসীকে। দরজা-জানলা-বারান্দায় প্রদীপ-মোমবাতি বা মোবাইল জ্বালিয়ে রাখুন। শুক্রবার ভিডিওবার্তায় এমনই আর্জি জানান প্রধানমন্ত্রী। ৷ সেই টাস্ক নিয়ে সমালোচনার ঝড় বইছে বিরোধী এবং বিশেষজ্ঞদের মধ্যে৷ কিন্তু বিজেপি নেতাদের মধ্যে উচ্ছ্বাসের শেষ নেই ৷ প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদির দেওয়া এই টাস্ক প্রচারে নিজেদের মতো করে নেমে পড়ছেন ৷ মাইসুরুর বিজেপি বিধায়কের দাবি, প্রধানমন্ত্রী সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক কারণেই মোমবাতি, প্রদীপ জ্বালানোর কথা বলেছেন ৷ করোনাকে ধ্বংস করতে এরাই হাতিয়ার ৷

    মোমবাতি, প্রদীপ জ্বালালে কীভাবে ধ্বংস হবে করোনা তাও বিস্তারিত বলেছেন বিজেপি বিধায়ক রামদাস ৷ তাঁর দাবি, সব আলো নিভিয়ে মোমবাতি, প্রদীপ জ্বালালে পোকারা যেভাবে ওই আলোর দিকে ধেয়ে যায় ও পুড়ে মারা যায়, তেমনভাবেই ঘরে থাকা ভাইরাসও একই কাজ করবে, আর আলোর কাছে এসে তাপে মারা যাবে ৷

    ভাইরাস মারার এমন যুক্তি রামদাসের মুখেই নয়, শোনা গিয়েছিল দিলীপ ঘোষের মুখেও ৷ কিছুদিন আগেই রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন, শাঁখ বাজালেও পোকার মতোই মরবে করোনা ভাইরাস ৷

    এখানেই শেষ নয়, বিজেপি বিধায়ক রামদাসের দাবি, ২২ মার্চ হাততালি ও থালা বাজাতে বলার পিছনেও ছিল করোনা ভাইরাসকে মারার অন্যতম উপায় ৷ বিজ্ঞানসম্মত কারণেই হাততালি দিতে বলেছিলেন মোদি ৷ হাততালি দিলে হাতের তালু গরম হয় ও তাতে উৎপন্ন শব্দের মধ্যেও একটা অন্যরকমের শক্তি থাকে ৷ এইভাবেও খতম হয় করোনা ভাইরাস ৷ যদিও বিজেপি নেতাদের এমন দাবি শুনে ক্ষুব্ধ বিশেষজ্ঞরা ৷ তাদের মতো মানসিকভাবে উদ্বুদ্ধ করতে যে উদ্যোগ মোদি নিয়েছেন তা এই ভুল কথার আড়ালে খোরাকে পরিণত হচ্ছে ৷ করোনা নিয়ে আতঙ্কে দেশ, এর মধ্যে এইধরনের ভুল প্রচারের ফলে মানুষ অন্ধবিশ্বাস ও কুসংস্কারাচ্ছন্ন হয়ে বিভ্রান্ত হবেন ৷

    শুক্রবার জাতির উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও বার্তা নিয়ে প্রথম থেকেই কৌতুহল বাড়ছিল। প্রধানমন্ত্রী কী বার্তা দেন, তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে শুরু হয় জল্পনা। অবশেষে সেই জল্পনা ভেঙে দেশবাসীর কাছে ন’মিনিট সময় চেয়ে নিলেন প্রধানমন্ত্রী। মারণ ভাইরাসের বিরুদ্ধে দেশবাসীকে এককাট্টা করতে আগেই হাততালির দাওয়াই দেন প্রধানমন্ত্রী। করোনা ভাইরাসের অন্ধকার থেকে দেশকে আলোর পথে নিয়ে যেতে এবার তাঁর নয়া দাওয়াই। পাঁচ এপ্রিল অর্থাৎ রবিবার রাত ন’টায় ন’মিনিটের জন্য ঘরের আলোর নিভিয়ে রাখার আর্জি জানান প্রধানমন্ত্রী। তবে অন্ধকার নয়। বাড়িতে থেকেই প্রদীপ , মোমবাতি, টর্চ জ্বালানোর অনুরোধ করেছেন মোদি। তাও যদি না হয়, মোবাইলের ফ্ল্যাশ লাইট জ্বালানোর অনুরোধ করেন তিনি।

    গত পঁচিশে মার্চ দেশ জুড়ে লকডাউন ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী। ঠিক তার ন’দিনের মাথায় দেশবাসীকে আরও সচেতন হওয়ার ডাক দিলেন প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু, আলো জ্বালাতে বলেও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার কথা আরও একবার স্মরণ করিয়ে দেন তিনি।

    করোনা যুদ্ধে দেশবাসীকে এককাট্টা করার মোদির এই নয়া কৌশল নিয়ে দেশ জুড়ে চড়া প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয় ৷ বিরোধী নেতাদের কটাক্ষ থেকে নেটিজেনদের প্রশংসা, বিভিন্ন মহল থেকেই আসতে থাকে প্রতিক্রিয়া ৷

    Published by:Elina Datta
    First published:

    লেটেস্ট খবর