corona virus btn
corona virus btn
Loading

সম্প্রীতির অনন্য নজির! কুল দেবতার পুজো শেষে ব্রাহ্মণ বাড়িতে রোজ নমাজ পড়ছেন এলাকার মুসলিমরা

সম্প্রীতির অনন্য নজির! কুল দেবতার পুজো শেষে ব্রাহ্মণ বাড়িতে রোজ নমাজ পড়ছেন এলাকার মুসলিমরা

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা জরুরি । তাই মসজিদের ছোট্ট পরিসরে একসঙ্গে নমাজ পাঠ সম্ভব নয়। তাই এলাকার চট্টোপাধ্যায় বাড়ির সদস্যদের কাছে ছাদে উঠে নমাজ পাঠের আবেদন রেখেছিলেন তাঁরা । কথা শেষ হওয়ার আগেই অনুমতি দেন তাঁরা ।

  • Share this:

#কালনা: ব্রাহ্মণ বাড়িতে এখন নমাজ পাঠের ব্যস্ততা তুঙ্গে । দৈনিক ঘরের পূজার্চনা তো আছেই , সেই সঙ্গে রয়েছে নমাজ পাঠে আয়োজন । আর তা ঘিরেই যত ব্যস্ততা । সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে কুল দেবতার পুজো সেরে চলছে ছাদ পরিষ্কার । পরিচ্ছন্ন ছাদে পাতা হচ্ছে শতরঞ্জি । একটু পরেই নামাজ পড়তে আসবেন মুসলিম ভাইরা । সেই জন্যই ব্যস্ততা কালনার চট্টোপাধ্যায় বাড়িতে ।

ভাগীরথীর তীরে মন্দির শহর কালনার ডাঙাপাড়া । এখানে হিন্দু মুসলিম উভয়েই থাকেন গা ঘেঁষাঘেঁষি করে । একে অপরের সুখ-দুঃখের শরিক হন । তাই মুখ ফুটে বলা যায় সব কথাই । চট্টোপাধ্যায় বাড়িতে এসে মনের কথাটি বলেছিলেন নাজির শেখ, লুতুব মিঞারা । করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা জরুরি । তাই মসজিদের ছোট্ট পরিসরে একসঙ্গে নমাজ পাঠ সম্ভব নয়। একে ঝড়-বাদলের দিন, তার ওপর রোজার মাস । এলাকায় চট্টোপাধ্যায় বাড়ির ছাদটা বেশ বড় । তার ওপর আবার ছাউনি রয়েছে । তাই বাড়ির সদস্যদের কাছে ছাদে উঠে নমাজ পাঠের সুযোগ দেওয়ার আবেদন রেখেছিলেন তাঁরা ।

কথা শেষ করতে হয়নি । তার আগেই সানন্দে সেই প্রস্তাবে রাজি হয়েছিলেন বাড়ির প্রত্যেকেই । রমজান মাস শুরুর আগে থেকেই চট্টোপাধ্যায় বাড়িতে চলছে নমাজ পাঠ । পরিবারের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে , শুধু রমজান মাস নয় , পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত মসজিদের বদলে এখানেই নমাজ পাঠ করতে হবে । পরিবারের সদস্য চাঁপা চট্টোপাধ্যায় বললেন, বিপদের দিনে বা কোনও সমস্যায় পড়লে সবার আগে এই কাকু দাদাদের পাশে পাই । সহযোগিতার জন্য তাঁরা সবার আগে এগিয়ে আসেন । তাই তাঁদের নমাজ পাঠের জন্য জায়গা দিতে পেরে আমরা আপ্লুত । ভগবানের কাছে আমরা সকলকে ভালো রাখার কামনা করছি । মুসলিম ভাইরাও আল্লার কাছে সেই দোয়াই তো করছেন ।

স্থানীয় বাসিন্দা নাজির শেখ জানান, লকডাউনের জেরে মসজিদে নমাজ পাঠে খুবই অসুবিধা হচ্ছিল । ভীষন সমস্যায় পড়েছিলাম । আমাদের আবেদনে এই পরিবার সব রকম সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন । আমরা কৃতজ্ঞ ।

Saradindu Ghosh

Published by: Shubhagata Dey
First published: May 26, 2020, 4:07 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर