Oxygen Man: SUV বেচে অক্সিজেন সিলিন্ডারের পর এবার 'অক্সিজেন ম্যান' চালু করলেন কোভিড হেল্পলাইন!

Oxygen Man: SUV বেচে অক্সিজেন সিলিন্ডারের পর এবার 'অক্সিজেন ম্যান' চালু করলেন কোভিড হেল্পলাইন!

শাহানওয়াজ শেখ।

'অক্সিজেন ম্যান '(Oxygen Man)নামে পরিচিত শাহনাওয়াজ শেখ (Shahnawaz Sheikh) এক ফোন কলেই রোগীদের অক্সিজেন সরবরাহ করে চলেছেন।

  • Share this:

#মুম্বই: করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে বিপর্যস্ত গোটা দেশ। এমনকি বিভিন্ন রাজ্যে দেখা দিয়েছে চরম অক্সিজেন সংকট। কোভিড রোগীর জন্য শয্যার অপ্রতুলতা, ওষুধপত্র এবং অক্সিজেনের অভাবে দেশের হাসপাতালগুলো প্রায় বিকল হয়ে পড়েছে। আর এই ছবি যেন দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার দুর্দশাকেই মানুষের কাছে প্রকট করে দিয়েছে আরও একবার। এমন যুদ্ধপরিস্থিতিতে যখন গোটা দেশে অক্সিজেন সংকট চলছে। অনেকেই মৃত্যুর কোলে ঢোলেও পড়েছেন অক্সিজেনের অভাবে। ঠিক সেই সময় মুম্বইয়ের মালাডের এক বাসিন্দা মানুষের কাছে দেবদূতের মতোই হাজির হয়েছেন।

'অক্সিজেন ম্যান ' (Oxygen Man)নামে পরিচিত শাহনাওয়াজ শেখ (Shahnawaz Sheikh) এক ফোন কলেই রোগীদের অক্সিজেন সরবরাহ করে চলেছেন। এই অতিমারীতে মানুষের যাতে অক্সিজেন পেতে সমস্যা না হয় সে জন্য তিনি একটি টিমও তৈরি করেছেন বন্ধুদের নিয়ে। খুলেছেন একটি কন্ট্রোল রুমও। জানা যায়,গত বছর শাহনওয়াজের এক বন্ধুর স্ত্রী কোভিডে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। অটোয় করে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে অক্সিজেনের অভাবে মৃত্যু হয় ওই রোগীর। সেই ঘটনা নাড়িয়ে দেয় শাহনওয়াজকে। আর তার পর থেকেই শপথ নেন যে অক্সিজেনের অভাবে যেন আর কারও মৃত্যু না হয়। শুরু হয় তাঁর 'অক্সিজেন ম্যান' হওয়ার সফর।

কিন্তু অক্সিজেন সিলিন্ডার সরবরাহের জন্য তো টাকারও প্রয়োজন। হাতের সবটুকু সম্বল শেষ হয়ে গেলে অবশেষে অক্সিজেনের চাহিদা মেটাতে নিজের ২২ লক্ষের ফোর্ড এনডেভারটাই (Ford Endeavour) বেচে দেন এই ৩১ বছর বয়সী 'অক্সিজেন ম্যান'। গাড়ি বিক্রির অর্থে শাহনওয়াজ নতুন করে ১৬০টি অক্সিজেন সিলিন্ডার কিনেছেন। এখনও পর্যন্ত তিনি প্রায় ৪ হাজারেরও বেশি মানুষকে সাহায্য করেছেন।

ধীরে ধীরে অক্সিজেন সরবরাহের চাহিদাও বেড়েছে বহুগুণে। তিন মাস আগে, তিনি প্রতি দিন অক্সিজেনের জন্য ৫০টি করে ফোন কল পেতেন। সেই সংখ্যা এখন দাঁড়িয়েছে ৫০-৬০০ তে।শাহনওয়াজ এবং তাঁর টিম অক্সিজেন সিলিন্ডারগুলিকে দিয়ে আসেন এবং কী ভাবে ব্যবহার করবেন তা বুঝিয়ে দেন। এছাড়া ব্যবহারের পরে ফাঁকা সিলিন্ডারগুলি তাঁদের কাছে ফেরত নিয়ে আসেন। এভাবেই দিনরাত্রি এক করে কোভিড-রোগীদের জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করে চলেছেন মুম্বইয়ের এই যুবক।

Published by:Raima Chakraborty
First published: