Mt Everest : এভারেস্টে ক্রমশ বাড়ছে করোনার দাপট

এভারেস্ট অভিযানে বাড়ছে করোনার ঝুঁকি

করোনা ছুঁয়েছে পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ এভারেস্টকেও। সেখানের বেস ক্যাম্পেও ক্রমে বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা

  • Share this:

    #কাঠমান্ডু: পৃথিবীর বয়স জানতে চাইলে দেখ সমুদ্রের দিকে। হৃদয় জানতে চাইলে দেখ পাহাড়ের দিকে। বহু যুগ আগে এই তত্ত্ব দিয়ে গিয়েছেন চাণক্য থেকে কনফুসিয়াস। পৃথিবীর ওপর যে ঝড়ই বয়ে যাক না কেন, এই কথার কোনও পরিবর্তন সচরাচর দেখা যায় না। সমুদ্রের অচেনা গহবর রহস্য ভেদ করা এবং হিমালয়ের মাথা নোয়াবার সাধ্য নেই কারও। মানুষ যা পারেনি তা করে দেখাতে চলেছে একটা ভাইরাস। এমনিতেই গত কয়েক বছর ধরে হিমালয়ের এভারেস্টের কাছে হিমবাহ অতি দ্রুত গলতে শুরু করায় বেরিয়ে আসছে বহু অভিযানকারীর মৃতদেহ।

    পবর্তারোহীদের জন্যে অন্যতম আকর্ষণীয় একটি স্থান এই হিমালয়- কিন্তু এর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ এভারেস্টে পৌঁছানো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে ক্রমশই। সুতরাং কতটা মারাত্মক এই এভারেস্ট এবং হিমালয়ের অন্য শৃঙ্গগুলোর সাথে তুলনায় কী পাওয়া যায়? রেকর্ড বলছে এই পর্বতশৃঙ্গ জয় করতে গিয়ে মৃত্যু বরণ করেছেন মাত্র ২৮০ জন। যদিও এই মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে, তবে মৃত্যুর হার- অর্থাৎ যারা বেস ক্যাম্পের ওপরে আরোহণের সময়ে মারা গেছেন তাদের অনুপাত ১%। ২০১০ সাল পর্যন্ত, এভারেস্টে মৃত্যুর সংখ্যা ৭২জন এবং ৭৯৫৪ জন বেস ক্যাম্পের ওপরে আরোহণ করেছেন।

    বেশিরভাগ মৃত্যু ঘটেছে তুষার ধস বা পতনের কারণে, আর এসব কারণ লাশ উদ্ধারেও বাধা সৃষ্টি করে বলে জানানো হয়। এ তো গেল অভিযান করতে গিয়ে মৃত্যুর কথা। কিন্তু এবার করোনা ছুঁয়েছে পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ এভারেস্টকেও। সেখানের বেস ক্যাম্পেও ক্রমে বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। এপ্রিল মাসে প্রথমবার বেসক্যাম্পে এক বিদেশি পর্বতারোহীর শরীরে করোনা সংক্রমণের খবর পাওয়া যায়। নেপাল সরকারের সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, বেস ক্যাম্পে চারজনের শরীরে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের প্রমাণ মিলেছে। যদিও বেসরকারি মতে সেই সংখ্যাটি ৩০।

    ২০২০ সালে এভারেস্টে ওঠার অনুমতি দেওয়া হয়নি, সে কারণেই এবছর রেকর্ড সংখ্যক পর্বতারোহীকে অভিযানের অনুমতি দেয় নেপাল সরকার। কিন্তু এবারের অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকেই একের পর এক করোনা আক্রান্তের খবর আসতে থাকে। পোল্যান্ডের পর্বতারোহী পল মাইকেলস্কি একটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে লিখেছেন, ‘এখনও পর্যন্ত ৩০ জনকে উদ্ধার করে কাঠমান্ডু নিয়ে যাওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে তাঁদের ফুসফুসের সমস্যা ছিল। পরে করোনা সংক্রমণ ধরা পড়ে। ’ বেস ক্যাম্প ছাড়ার পরে পর্বতারোহী রোজিতা অধিকারীর শরীরে করোনার সংক্রমণ ধরা পড়ে। তিনি জানান, নেপাল সরকার এখনও করোনা সংক্রমণের ঘটনা অস্বীকার করছে।

    বেস ক্যাম্পে অনেকের শরীরেই যে করোনা সংক্রমিত হয়েছে তার প্রমাণ রয়েছে। এরপরেও সরকার কেন সত্যিটাকে চাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে?  নেপালে শেষ কয়েকদিনে অনেকটাই সংক্রমণ বেড়েছে। দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা ৬ হাজার ৭শ ছুঁয়েছে। তবু নেপালের অর্থনীতিকে চাঙ্গা রাখতে পর্যটনশিল্পে কোনো কড়া নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেনি নেপাল সরকার। একবছর এভারেস্ট অভিযান বন্ধ থাকায় নেপাল সরকারের বিপুল ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছিল। এবার সেই আয়ের রাস্তা খোলা রাখতে গিয়ে সংক্রমণ বাড়ছে। কিন্তু যাই হোক, পৃথিবীর সর্বোচ্চ শৃঙ্গে মারণ ভাইরাসের দাপট নতুন করে চিন্তা বাড়িয়েছে চিকিৎসকদের।

    Published by:Rohan Chowdhury
    First published: