অতিমারিতে রোজ শতাধিক নিরন্নকে বিনামূল্যে খাবার মা-ছেলের!

মা ও ছেলে।ছবি: ফেসবুক।

আজ, সেই মা-ছেলের জুটি লকডাউনে রোজ শতাধিক ক্ষুধার্তের মুখে বিনামূল্যে খাবার তুলে দিচ্ছে৷

  • Share this:

    #নয়াদিল্লি: প্রথম অর্ডার এসেছিল প্রতিবেশিনীর কাছ থেকে৷ উপার্জন হয়েছিল ৩৫ টাকা৷ মাথার উপর ছাদহীন সংসারে সেটুকুই ছিল খড়কুটো৷ সেটা অবলম্বন করেই ছেলেকে বড় করার স্বপ্ন দেখেছিলেন মুম্বইয়ের বসিন্দা এক মহিলা৷ শুধু বড় করাই নয়৷ চেয়েছিলেন সবকিছুতেই সেরাটা পৌঁছে দেওয়া তাঁর পিতৃহীন একমাত্র ছেলের কাছে৷ আজ, সেই মা-ছেলের জুটি লকডাউনে রোজ শতাধিক ক্ষুধার্তের মুখে বিনামূল্যে খাবার তুলে দিচ্ছে৷ মুম্বইয়ের যুবক হর্ষ তাঁর জীবনের গল্প শেয়ার করেছেন সম্প্রতি৷ তার পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে তাঁর এবং তাঁর মায়ের সংগ্রাম ও উদ্যোগ৷

    ১৯৯৮ সালে পথ দুর্ঘটনায় তাঁর বাবাকে হারান হর্ষ৷ সংসারের হাল ধরেন তাঁর মা৷ শুরু করেছিলেন ঘরে রান্না করে সেই খাবার বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার কাজ৷ মা রান্না করতেন৷ ছোট্ট হর্ষ সে সব পৌঁছে দিত নির্দিষ্ট ঠিকানায়৷ প্রথম উপার্জন ছিল ৩৫ টাকা৷ আজও মনে আছে৷

    লোকের মুখে এই হোম ডেলিভারির কথা ছড়িয়ে পড়ে দ্রুত৷ তবে বেশিদিন এই ব্যবসা বেশিদিন চালাননি তাঁরা৷ এক ক্রেতার পরামর্শে আরও বড় করলেন ব্যবসা৷ সত্তর হাজার টাকার প্রাথমিক পুঁজিও দিয়েছিলেন তিনিই৷ তাঁদের উদ্যোগের শ্রীবৃদ্ধি হতে সময় লাগেনি৷ বাণিজ্যে লক্ষ্মী বসত করার পরে হর্ষ ফিরে গিয়েছিলেন যে ইন্টারন্যাশনল স্কুলে তিনি পড়তেন সেখানে৷ মনে রেখেছিলেন, ছাত্রাবস্থায় তাঁর পড়ার খরচ মকুব করেছিল স্কুল কর্তৃপক্ষ৷ পরেও সে টাকা ফিরিয়ে নিতে চায়নি স্কুল৷

    সাহায্যের টাকা ফেরত নেননি অতীতের সেই ক্রেতাও৷ তাঁদের কাছ থেকেই অন্যকে সাহায্য করার শিক্ষা পেয়েছেন, জানিয়েছেন হর্ষ৷ সেই শিক্ষা ভুলতে চান না এই তরুণ৷ গত বছর লকডাউনে তাঁরা বিনামূল্যে খাবার বিতরণ শুরু করেন৷ খুব কম সময়ের এই মহান উদ্যোগে মধ্যে পেয়েছিলেন অর্থ সাহায্যও৷

    সেই ছবি পাল্টায়নি এ বছরও৷ অতিমারির দ্বিতীয় তরঙ্গেও তাঁরা রোজ শতাধিক ক্ষুধার্তের মুখে খাবার তুলে দিচ্ছেন৷ এ বারও কর্মকাণ্ডে পেয়েছেন বিপুল অর্থসাহায্য৷ অনেকেই জানতে চেয়েছেন কেন তাঁরা অতিমারি এবং লকডাউনে নিজেদের জীবন বিপন্ন করছেন? কিন্তু বিপদ আছে জেনেও পিছিয়ে যেতে চান না হর্ষ এবং তাঁর মা৷ মনে রেখেছেন, একদিন অন্যদের থেকে সাহায্য না পেলে তাঁরাও আজ এখানে পৌঁছতে পারতেন না৷

    তাঁর মা চেয়েছিলেন হর্ষ কোনও কর্পোরেট সংস্থায় চাকরি করুন৷ কিন্তু তিল তিল করে বড় করে তোলা ব্যবসা ছেড়ে যেতে ইচ্ছে হয়নি হর্ষের৷ বরাবর ভাল ফল করেও স্নাতক স্তরের পরে তিনি থেকে গিয়েছেন ব্যবসা নিয়েই৷ তাঁর হাতে অনলাইন সংযোগের পরে ব্যবসা আরও বেড়েছে৷ ভবিষ্যতে আরও পল্লবিত করতে চান অতীতের খড়কুটোকে৷

    অর্পিতা রায়চৌধুরী

    Published by:Raima Chakraborty
    First published: