corona virus btn
corona virus btn
Loading

Coronavirus| করোনা মোকাবিলায় দেশের মানুষকে পাশে চেয়ে ১০টি শর্ত রাখলেন মোদি

Coronavirus| করোনা মোকাবিলায় দেশের মানুষকে পাশে চেয়ে ১০টি শর্ত রাখলেন মোদি
photo source collected

মানুষকে পাশে নিয়েই করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইতে নামতে চান মোদি।

  • Share this:

#নয়া দিল্লি: করোনা ভাইরাসের দাপট এখন সারা বিশ্বজুড়ে। মানুষ কার্যত গৃহবন্দি হয়ে পড়ছে। বিভিন্ন দেশের সরকার নিয়ম মেনে তাদের বাসিন্দাদের কোয়ারেন্টাইনে পাঠাচ্ছেন। ভারতবর্ষেও দ্রুত গতিতে ছড়িয়ে পড়ছে করোনা ভাইরাস। আজ তাই এই ভাইরাস নিয়ে মানুষকে সর্তক করতে ও কিছু বিধি নিষেধ জারি করতে জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেন, "করোনা ভাইরাস সারা বিশ্বতে যেভাবে ছড়িয়ে পড়েছে তা সত্যিই ভয়ের।" তিনি শুরুতেই বলেন, "বন্ধুরা আপনাদের কাছে যতবার যা চেয়েছি সব পেয়েছি আপনারা আমায় নিরাশ করেননি। আপনাদের আশীর্বাদ সবসময় পেয়ে এসেছি। সবাই মিলে আমরা এগিয়ে চলছি। ১৩০ কোটি দেশবাসীর কাছে আগামী কয়েকটা সপ্তাহ চাইছি। আপনাদের সময় চাই।'' এরপরই রবিবার জনতা কার্ফুর ঘোষণা করলেন প্রধানমন্ত্রী।

করোনাভাইরাসের মোকাবিলায় দেশবাসীকে ঘরে থাকার পরামর্শ দেন মোদী। সেই অভ্যাস তৈরি করতে রবিবার, ২২ মার্চ 'জনতা কার্ফিউ' পালনের বার্তা দিলেন। বলেন,''আগামী রবিবার ২২ মার্চ সকাল ৭ থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত সকল দেশবাসীকে জনতা কার্ফু পালনের অনুরোধ করছি। ওইদিন কোনও নাগরিক ঘরের বাইরে বেরোবেন না। রাস্তায় যাবেন না। পাড়াতেও কারও সঙ্গে মিশবেন না। নিজের ঘরেই থাকুন। জরুরি ক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্তদের তো বাইরে বেরোতে হবে। তবে সাধারণ নাগরিকরা দেশহিতে আত্মসংযমের কর্তব্য পালন করুন।'' কিন্তু কেন এই 'জনতা কার্ফিউ'? মোদি ব্যাখ্যা করে বলেন," ২২ মার্চ জনতা কার্ফিউয়ের মাধ্যমে আমরা ভবিষ্যতের জন্য নিজেদের তৈরি করবো। এজন্য রাজ্য সরকারদের অনুরোধ করছি তারা যেন সঠিক নেতৃত্ব পালন করেন। এনসিসি, এন এস এস কয়েকটি যুব সংগঠন ও খেলাধুলো সংক্রান্ত সব সংগঠন এগিয়ে আসুন। সবার কাছে রবিবার জনতা কার্ফিউয়ের আবেদন রাখছি"। এছাড়াও তিনি বলেন, "ভিড় থেকে বাঁচুন। ঘরের বাইরে যাবেন না। আপনারা ভাবছেন, ঠিক আছি, আমার কিছু হবে না। বাজারে ঘুরবেন, রাস্তায় যাবেন। এভাবে ভাবছেন করোনা থেকে বাঁচবেন! এটা ঠিক নয়। নিজের সঙ্গে ও প্রিয়জনের সঙ্গে অবিচার করে ফেলবেন। এজন্য সকল দেশবাসীকে অনুরোধ আরও কয়েক সপ্তাহ জরুরি কাজ না থাকলে বাড়ির বাইরে বেরোবেন না।'' তিনি আরও বলেন, "‘যারা প্রতিনিয়ত করোনা পরিস্থিতির জন্য কাজ করে চলেছেন, সেবা করছেন, তাদের ধন্যবাদ দিতে রবিবার ২২ মার্চ, বিকেল পাঁচটায় প্রত্যেক দেশবাসী নিজের বাড়ির দরজায়, বারান্দায় দাঁড়িয়ে হাততালি দিন ৷ শুধু হাততালিই নয়, পাঁচ মিনিট ধরে থালা বাজিয়ে, ঘণ্টা বাজিয়ে তাদের উৎসাহ দিন ৷’ একইসঙ্গে প্রত্যেক রাজ্য সরকারকে ওইদিন বিকেল পাঁচটায় সাইরেন বাজানোর জন্য প্রধানমন্ত্রীর অনুরোধ করেন ৷ যাতে সবাই একসঙ্গে ধন্যবাদজ্ঞাপনের কর্মসূচি শুরু করতে পারেন ৷ প্রসঙ্গত ইতালিতে এভাবে জরুরি সেবার সঙ্গে যুক্ত লোকেদের ধন্যবাদ জানানোর প্রচলন আছে ৷

করোনা আতঙ্কের জন্য পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে অনেকেই ঘরে চাল, ডাল, আলুর মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী মজুত করতে শুরু করেছেন।বাজারের অবস্থা যেদিকে এগোচ্ছে তাতে এমন চললে কয়েকদিনের মধ্যেই কৃত্রিম খাদ্য সংকট তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। আর তা আন্দাজ করেই সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। প্রধানমন্ত্রীর বার্তা, এতদিন বাজারে গিয়ে যেভাবে কেনাকাটা করতেন, সেভাবেই যেন জিনিস কেনেন সবাই। এর ফলে কালোবাজারি বা খাদ্য সংকট দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা কমবে। সবমিলিয়ে করোনা আতঙ্ক কাটানোর সঙ্গে সঙ্গে বাজারের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার জন্য দেশবাসীকে বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী।

এছাড়াও যেভাবে শেয়ার মার্কেটে ধস নামছে তাও চিন্তার বিষয়। মোদি এই দিন ভাষণে বলেন, 'করোনা ভাইরাস মহামারীর জেরে তৈরি হওয়া আর্থিক সঙ্কটের কথা মাথায় রেখে সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, Covid-19 ইকোনমিক রেসপন্স টাস্কফোর্স গঠন করবে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে৷ আর্থিক সমস্যা মেটাতে এই টাস্কফোর্স সব ধরনের জরুরি পদক্ষেপ করবে৷' এই দিন তিনি অসংগঠিত শ্রেণী যারা মূলত বাড়িতে পরিচারিক বা পরিচারিকার কাজ করেন তাদের জন্য মানবিকতার বার্তা দিলেন মোদি৷ এই সকল কাজের মানুষদের শরীর খারাপ হলে, বা প্রয়োজনে আইসোলেশনে থাকতে হলে তাদের মাইনে সহ ছুটি দেওয়ার কথাই ঘোষণা করলেন মোদি৷ উচ্চবিত্তদের উদ্দেশ্যে মোদির আর্জি যাদের থেকে প্রতিদিন সাহায্য পান, যাদের সহযোগিতা ছাড়া দিন গুজরানো অসম্ভব, তাদের প্রতি সমবেদনা দেখান৷ এক্ষেত্রে সহনাগরীকের প্রতি সমবেদনা দেখানোর অনুরোধ রেখেছেন দেশের প্রধানমন্ত্রী৷

বয়স্ক ব্যক্তিদের জন্য তিনি বলেন, "প্রত্যেক ভারতীয় সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে। আগামী কয়েক সপ্তাহ জরুরি কাজ ছাড়া বাইরে বেরোবেন না। ৬০-৬৫ বছরের ঊর্ধ্বে প্রবীণরা বাড়িতেই থাকুন।" বেসরকারী চাকুরি যারা করেন তাদের বাড়ি থেকে কাজ করার কথা বলেন মোদি। সরকারী চাকুরেদের কেও অলটারনেটিভ সপ্তাহে কাজে আসতে বলেন। যুব গোষ্টিকে সচেতন হতে বার্তা দেন তিনি। প্রয়োজন ছাড়া হাসপাতালে ভিড় জমাতে বারণ করেন। প্রয়োজনে ফোনে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে বলেন। দরকারে সম্ভব হলে কারও যদি অপারেশনের ডেট থাকে তাহলে তা একমাস পিছিয়ে দিতে বলেন। জাতির জন্য ভাষণে প্রধানমন্ত্রী তাঁর দেশের মানুষকে পাশে থাকার আর্জি জানান। এই ভয়ানক পরিস্থিতিকে সামাল দিতে হলে সকলকে এক সঙ্গে মিলিত হয়ে এগিয়ে আসতে হবে। করোনা ভাইরাস কোনও যুদ্ধের চেয়ে কম ভয়ানক নয়। তাই মানুষকে পাশে নিয়েই এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইতে নামতে চান মোদি।
Published by: Piya Banerjee
First published: March 20, 2020, 12:08 AM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर