করোনা ভাইরাস

?>
corona virus btn
corona virus btn
Loading

উপসর্গহীন থেকে জটিল- করোনার রহস্যময় ধারা নির্ধারণে কী বলছেন বিজ্ঞানীরা?

উপসর্গহীন থেকে জটিল- করোনার রহস্যময় ধারা নির্ধারণে কী বলছেন বিজ্ঞানীরা?
(NIAID/National Institutes of Health via AP)

পরীক্ষা করে দেখেছেন বিজ্ঞানীরা- শিশুদের তুলনায় প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে করোনার সঙ্গে লড়াই করার ক্ষমতা কম।

  • Share this:

#কলকাতা:  বিজ্ঞান সত্যি রহস্যময়। ঠিক যেমন প্রকৃতির মতিগতি বুঝে ওঠা দায়, তেমন ভাবেই রোজ নিয়ম করে সময় না দিলে বিজ্ঞানের আনাচ-কানাচও শেষ পর্যন্ত থেকে যায় অধরাই! সেই জন্যেই এক দিকে যেমন প্রকৃতি তার ভাইরাস আক্রমণ নিয়ে সারা বিশ্ব জুড়েই মানুষের সভ্যতাকে করে তুলেছে ব্যতিব্যস্ত, অন্য দিকে বিজ্ঞানের দরজায় কড়া নাড়া নিয়েও বেড়েছে ব্যস্ততা। প্রায় রোজ এই মর্মে প্রকাশ পাচ্ছে এ দেশের, সে দেশের নানা বিজ্ঞানীদের গবেষণার ফলাফল। উদ্দেশ্য সবার এক- কী করে করোনাভাইরাসের সংক্রমণকে আটকে দেওয়া যায়, কী করে মানুষের হাতের নাগালে এগিয়ে দেওয়া যায় মারণ এই ব্যাধির প্রতিষেধক টিকা!

তবে টিকা আবিষ্কারের কাজটা তো আর ছেলেখেলা নয়! তার জন্য সবার আগে দ্বারস্থ হতে হয় শারীরবিদ্যার। দেখতে হয় খতিয়ে- ভাইরাস শরীরে প্রবেশ করার পর ঠিক কী কী তাণ্ডব চালিয়ে যাচ্ছে। দেখতে হয় এও মেপে-বুঝে- সেই তাণ্ডবের সঙ্গে কেনই বা যুঝে উঠতে পারছে না আমাদের শরীর।

ঠিক এই মর্মেই করোনাভাইরাস যেন লুকোচুরি খেলে চলেছে আমাদের সঙ্গে। কেন না, কার শরীরে কী রকম প্রভাব ফেলবে এর সংক্রমণ, তা স্পষ্ট করে বলে দেওয়া যায় না। যেমন, এই এক ভাইরাসের সংক্রমণের ফলে কেউ কেউ থাকেন প্রায় উপসর্গহীন। আবার কারও শরীরে এর প্ভাব পড়ে মারাত্মক, দিন কয়েকের মধ্যেই সেই হতভাগ্যকে চলে যেতে হয় সংসারের মায়া কাটিয়ে।

এখানেই শেষ নয়। রয়েছে আরও কিছু রকমফেরের ব্যাপার। পরীক্ষা করে দেখেছেন বিজ্ঞানীরা- শিশুদের তুলনায় প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে করোনার সঙ্গে লড়াই করার ক্ষমতা কম। এ জায়গায় এসে নিউ ইয়র্ক অ্যালবার্ট আইনস্টাইন কলেজ অফ মেডিসিনের অধ্যাপক বেটসি হেরল্ডের বক্তব্যের দিকে তাকানো যেতে পারে। তাঁর দাবি, আসলে করোনা কাকে বিপদে ফেলবে আর রেয়াত করবে, তার পুরোটাই নির্ভর করছে শরীরের অভ্যন্তরীণ রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতার উপরে। তাঁর বিশ্লেষণ বলছে, এ ব্যাপারে শিশুরা কয়েক কদম এগিয়ে থাকে বড়দের চেয়ে। তাদের শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা আর অ্যান্টিবডি তৈরির ক্ষমতা- দুই বড়দের চেয়ে বেশি। আসলে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এর মাত্রা হ্রাস পেতে থাকে, ফলে সংক্রমণজনিত বিপদের ভয়ও থাকে বেশি।

তেমনই রয়েছে প্রোটিনের ভূমিকাও। বিজ্ঞানীরা বলছেন, ভাইরাস শরীরের কোষে ঢোকা মাত্রই টাইপ ১ নামে এক ধরনের প্রোটিন তৈরি হতে থাকে যা শত্রুকে বংশবিস্তারে বাধা দেয়। কিন্তু যাঁদের করোনা সংক্রমণে মৃত্যু হয়েছে, তাঁদের দেহে টাইপ ১ প্রায় তৈরিই হয়নি।

ঘুরে-ফিরে তাই শেষ পর্যন্ত এসে ঠেকতে হচ্ছে শরীরের অভ্যন্তরে ঘটে চলা ব্যাপার-স্যাপারে। কেন না, রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা যদি কম থাকে, তা হলে কিছুতেই কিছু হওয়ার নয়। তা বলে টিকা আবিষ্কারের কাজ তো আর থেমে থাকতে পারে না। মানুষের শরীর যতই দুর্বল হোক, বিজ্ঞান যদি তাকে ঠেকনো দিতে না পারল, তবে আর তার কৃতিত্ব কীসের!

Published by: Siddhartha Sarkar
First published: October 1, 2020, 10:53 AM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर