কলকাতা থেকে ওড়িশা, পায়ে হেঁটে ৫০০ কিলোমিটার পাড়ির উদ্দেশে রাস্তায় শ্রমিকরা

লকডাউন পরিস্থিতিতে প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা পরিযায়ী শ্রমিকরা চেষ্টা করছেন নিজেদের রাজ্যে ফিরতে। ইতিমধ্যেই বেশ কিছু রাজ্য থেকে চালু হয়েছে শ্রমিক স্পেশাল ট্রেন। সবাই অবশ্য সেই ট্রেনে যাতায়াতের সুযোগ পাননি। অনেকে আবার এই ট্রেন সম্বন্ধে জানেনই না।

লকডাউন পরিস্থিতিতে প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা পরিযায়ী শ্রমিকরা চেষ্টা করছেন নিজেদের রাজ্যে ফিরতে। ইতিমধ্যেই বেশ কিছু রাজ্য থেকে চালু হয়েছে শ্রমিক স্পেশাল ট্রেন। সবাই অবশ্য সেই ট্রেনে যাতায়াতের সুযোগ পাননি। অনেকে আবার এই ট্রেন সম্বন্ধে জানেনই না।

  • Share this:

#কলকাতাঃ দূরত্ব ৫০০ কিলোমিটারের আশেপাশে। গাড়ি নিয়ে সেই দুরত্ব পেরোতে সময় লাগে প্রায় সাড়ে আট ঘন্টা। এই ৫০০ কিলোমিটার পথ, পায়ে হেঁটেই চলেছেন সংগ্রাম, রঞ্জন, কেশবরা। মহানগরের বিভিন্ন প্রান্তে এরা প্রত্যেকেই জল 'ভারী' বা বয়ে বেড়ানোর কাজ করেন। লকডাউনের জেরে আপাতত কোথাও প্রবেশ নিষিদ্ধ। কলকারখানা বন্ধ। ফলে জল বইতে ডাকছে না কেউই। ৪০ দিন ধরে চেয়ে চিন্তে জোগাড় করে খাবার মিলছিল। আস্তে আস্তে সেই পথও বন্ধ। ফলে পায়ে হেঁটেই কলকাতা থেকে ওড়িশার পৌঁছতে চাইছেন তাঁরা।

লকডাউন পরিস্থিতিতে প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা পরিযায়ী শ্রমিকরা চেষ্টা করছেন নিজেদের রাজ্যে ফিরতে। ইতিমধ্যেই বেশ কিছু রাজ্য থেকে চালু হয়েছে শ্রমিক স্পেশাল ট্রেন। সবাই অবশ্য সেই ট্রেনে যাতায়াতের সুযোগ পাননি। অনেকে আবার এই ট্রেন সম্বন্ধে জানেনই না। যেমন বেহালায় কাজের জন্য আটকে থাকা রঞ্জন, সংগ্রাম, কেশব। হেঁটে যাওয়া কতটা কষ্টের সেটা ভালই জানেন তাঁরা। শুধু মনের জোরকে সম্বল করেই রাস্তায় বেরিয়ে পড়েছেন। দিনের বেলায় প্রখর রোদে হাঁটা অসম্ভব। তাই রাতেই হাঁটবেন বলেই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। শুধু আশা একটাই যদি ওড়িশা সীমান্তে পৌছনোর পরে সরকার তাদের বাড়ি পৌঁছানোর ব্যবস্থাটুকু করে দেয়। সেই আশা নিয়েই পিঠে ব্যাগের বোঝা নিয়ে পথ চলছে বাড়ির একমাত্র রোজগেরে কেশব।

এদিন তিনি জানিয়েছে "বাড়িতে আমি একমাত্র রোজগেরে। এখানে কাজ করে মাস গেলে আয় হত ৭০০০ টাকা। খাওয়া দাওয়া সামলেও বাড়িতে ৩০০০ টাকা পাঠাতে পারতাম। এখন তো তাও পারছি না। বাড়ির লোক বলছে ফিরে আসতে, ঘরে তাও খাবার জুটবে।" কেশবের কথা ধরেই সংগ্রাম বলতে শুরু করেন, " থানায় গেলাম পাস জোগাড় করতে। থানা বলল কাউন্সিলরের কাছে যেতে। কাউন্সিলর জানান পাস দিতে পাবেন না। জিজ্ঞাসা করেছিলাম হেঁটে যেতে পারি তো! তাও আমাদের কিছু জানান হয়নি। কেউ কিছু বলছে না। শেষমেশ আমরা ঠিক করেছি পায়ে হেঁটেই যাব।"

এই জেদ নিয়েই রাতের অন্ধকারে হাঁটা শুরু করেছে পরিযায়ীরা। রঞ্জন অবশ্য চিন্তায়, ভবিষ্যতে কাজ জুটবে তো। তবে না খেতে পাওয়ার এখনকার যন্ত্রণার থেকে বাড়ি ফিরে যাওয়ার সাহস দেখাচ্ছেন রঞ্জন। তার সাফ কথা, "আমাদের কথা কেউ শোনে না। আমাদের মতো যারা আছেন তাঁদের ভরসা সেই রাস্তাই। তাই রাস্তাই আমাদের রাস্তা দেখাবে।"

ABIR GHOSHAL

Published by:Shubhagata Dey
First published: