• Home
  • »
  • News
  • »
  • coronavirus-latest-news
  • »
  • সাগরপারে বাবার মৃত্যুতে পাশে নেই কেউ...বাড়িতে বসে হাউ হাউ করে কাঁদছে তিন সন্তান, শোকে পাথর স্ত্রী

সাগরপারে বাবার মৃত্যুতে পাশে নেই কেউ...বাড়িতে বসে হাউ হাউ করে কাঁদছে তিন সন্তান, শোকে পাথর স্ত্রী

প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

স্বামীর মৃত্যু সংবাদ পাওয়ার পর থেকেই বারে বারে সংজ্ঞা হারাচ্ছেন স্ত্রী। কথা হারিয়ে ফেলেছে সন্তানরা।

  • Share this:

#খড়গ্রামঃ বাবার মৃত্যুর খবর এসেছে। কিন্তু শেষযাত্রায় সন্তানরা দেখতেও পাবে না। পাশে থাকবেন না স্ত্রী। লকডাউনের জেরে এমনই করুন পরিণতির শিকার মুর্শিদাবাদের খড়গ্রামের বাসিন্দা মৃত বুরহান শেখ। খড়গ্রামের পার্বতীপুর গ্রামের বাড়িতে রয়েছেন স্ত্রী সানয়ারা বিবি এবং তাঁদের দুই মেয়ে ও এক ছেলে।

মাস ছয়েক আগে রাজমিস্ত্রীর কাজ করতে মুম্বই পাড়ি দিয়েছিলেন বুরহান শেখ। গ্রামের আরও বেশ কয়েকজনও ছিলেন তাঁর সঙ্গে। কিন্তু কাজের সংস্থান হলে তিন মাসের মাথাতেই শুরু হয়ে যায় দেশজুড়ে লকডাউন। বন্ধ হয়ে যায় কাজ। বন্ধ যাতায়াত। ফলে কাজ না থাকলেও বাড়ি ফিরতে পারেননি খড়গ্রামের বুরহান  শেখ-সহ বাকিরা। এরপরই আচমকা অসুস্থ হয়ে পড়েন বুরহান। মৃত্যু হয় তাঁর। মুম্বই থেকে গ্রামের বাকি বাসিন্দারা ফোনে জানান, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন তিনি। চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে শেষরক্ষা হয়নি। স্বামীর মৃত্যু সংবাদ গ্রামে এসে পৌছতেই বারে বারে সংজ্ঞা হারাচ্ছেন স্ত্রী। বিলাপ করে চলেছে। স্ত্রী সানোয়ারা বিবির আক্ষেপ, লকডাউনের জেরে বাবাকে শেষ দেখাও দেখতে পেল না তাঁদের তিন সন্তান।

সানোয়ারা বিবি বলেন, ইদের সময় বাড়ি ফিরবেন ঠিক ছিল। করোনা ভাইরাসের  জন্য দেশজুড়ে শুরু হয়ে যায় লকডাউন। হাতে কাজ নেই। হঠাৎ-ই অসুস্থ ও তারপরে মৃত্যুসংবাদ বাড়িতে এসে পৌঁছয়। লকডাউনে খাবার জুটছে না ঠিকমত, ফলে  মুম্বই থেকে দেহ আনানোর ব্যবস্থাও করতে পারেনি গরীব পরিবার।

সানোয়ারা বিবি বলেন, কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকেই দুশ্চিন্তায় ছিল। তারপরে মৃত্যুর খবর আসে বাড়িতে। শেষ দেখাটা দেখতে পেলাম না । সংসার কী করে চলবে তিন ছেলেমেয়েকে নিয়ে তা ভাবতে পারছি না। জেলা পরিষদের সভাধিপতি মোশারফ হোসেন বলেন, "সরকারিভাবে ওই পরিবারকে সহযোগিতা করার চেষ্টা করব। পরিবারের পাশে থাকব।"

Pranab Kumar Banerjee

Published by:Shubhagata Dey
First published: