করোনা আক্রান্ত রোগী কেমন আছে, নগদ হাতে ধরিয়ে দিলেই হাসপাতালে থেকে বেরোচ্ছে তথ্য!

মূল্য হাতে ধরে দিলে বেডে বেডে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে রোগীর বাড়ির লোকের দেওয়া খাবার৷

মূল্য হাতে ধরে দিলে বেডে বেডে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে রোগীর বাড়ির লোকের দেওয়া খাবার৷

  • Share this:

#কলকাতা:  আপনার করোনা রোগীর খাবার পৌঁছতে হবে হাসপাতালের বেডে? তাহলে পরিষ্কার কথা, ফেল কড়ি - মাখো তেল। এমনই অবস্থা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের গ্রিন বিল্ডিংয়ে। আপনার রোগীকে যদি খাবার দিতে চান,তাহলে ন্যূনতম ৫০ - ২০০টাকা আপনাকে খাবারের সঙ্গে দিতেই হবে। না দিলে খাবার আপনার রোগীর কাছে পৌঁছাবে না। তার ওপর যদি রোগীর সঙ্গে কথা বলতে চান,তাহলে আবার এক্সট্রা টাকা লাগবে।

গ্রিন বিল্ডিংয়ের সামনে করোনা রোগীর আত্মীয়রা অনেকেই বসে থাকেন৷  কেউ চান, তার পরিবারের মানুষের সঙ্গে ফোনে একবার কথা বলতে। কেউ চান একটু খাবার পাঠাতে। যাদের যোগাযোগ রয়েছে, তাঁরা অনায়াসেই হাসপাতালের ওয়ার্ড এর ভেতরে থাকা নার্সকে ফোন করে ডেকে নেয়।  নার্স আসে,  হাতে টাকা নিয়ে সেই খাবার পৌঁছে দেয় রোগীর কাছে। নিউজ ১৮ বাংলা ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখতে পেল পুরো ছবিটা৷  দেখা যায় একটি বছর কুড়ি -পঁচিশের যুবক । সেই মধ্যস্থতাকারীর কাজটা করে৷

 এমনও আছে,কোনো রোগীর পরিবার, যতবার খাবার দিয়েছেন,ততবারই ৫০ টাকা দিয়েছেন।কেউ আবার বলেন ,তিনি আগে একদিন ১৩০ টাকা দিতে বাধ্য হয়েছেন।প্রত্যেকেই টাকা দিতে বাধ্য হন।   যে ব্যক্তি ৫০ টাকা করে সারা দিনে দুই থেকে তিনবার দিয়েছেন, তিনি সোনার পুরের বাসিন্দা। পেশায় রিকশাচালক। তাঁর বক্তব্য সারাদিনে দু‘জন হাসপাতাল চত্বরে পড়ে থাকেন। খাওয়া-দাওয়া থেকে আরম্ভ করে, খরচা অনেক বেশি। তার পক্ষে বেশ কঠিন হলেও,৫০ টাকা দিতেই হবে, করার কিছু নেই।

বারাসত থেকে আসা এক ব্যক্তি জানিয়েছেন তার স্ত্রী ওই বিল্ডিং এর চতুর্থ তলায় ভর্তি রয়েছেন। তার বক্তব্য  বিশ,পঞ্চাশ,একশ, দেড়শ যাচ্ছে। তাতে ক্ষতি নেই। তাঁর স্ত্রীকে দেওয়া খাবার নিশ্চিন্তে স্ত্রীর কাছে পৌঁছাচ্ছে। সঙ্গে কখন কেমন আছে, সেই খবরটি ও পাচ্ছেন।   তবে হাসপাতাল কর্মীরা,টাকা নেওয়ার পর আশ্বস্ত করেন সবাইকে, ওই খাবার নিশ্চিন্তে পৌঁছে যাবে,রোগীর কাছে। তাই এইটাইএখন করছে সবাই। এটাই রীতি হয়ে গেছে হাসপাতালে।

SHANKU SANTRA

Published by:Debalina Datta
First published: