corona virus btn
corona virus btn
Loading

প্রেগনেন্সির জটিলতার পরোয়া করেননি, প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে রেকর্ড সময়ে দেশীয় করোনা কিট তৈরি করে নজির মিনালের

প্রেগনেন্সির জটিলতার পরোয়া করেননি, প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে রেকর্ড সময়ে দেশীয় করোনা কিট তৈরি করে নজির মিনালের

অন্তঃসত্ত্বা অবস্থাতেই দিনরাত পরিশ্রম করে দেশীয় করোনা ভাইরাস টেস্ট কীট তৈরি করলেন, মিনাল দাভলে ভোঁসলে ৷

  • Share this:

#নয়াদিল্লি: অসম্ভবকে নাম মাত্র সময়ে সম্ভব করে তোলার নজির গড়লেন পুনের এক ভাইরোলজিস্ট ৷ প্রেগনেন্সিতে ছিল প্রাণের ঝুঁকি ৷ তাও পরোয়া করেননি ৷ অন্তঃসত্ত্বা অবস্থাতেই দিনরাত পরিশ্রম করে প্রথম দেশীয় করোনা ভাইরাস টেস্ট কীট তৈরি করলেন, মিনাল দাভলে ভোঁসলে ৷ এমনকি এই টেস্ট কিটের কাজ শেষ করার জন্য পিছিয়ে দিয়েছিলেন প্রসবও ৷ মহারাষ্ট্রের পুনের মাইল্যাব ডিসকভারির গবেষণা ও উন্নয়ন প্রধান দাখেভে ভোঁসলে। তিনি একজন ভাইরোলজিস্ট এবং ভাইরাস নিয়ে কাজ করেন।

হু হু করে বাড়ছে দেশে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৷ ভারতের হাতে নেই পর্যাপ্ত টেস্ট কিট ৷ এমন অবস্থায় দেশবাসীকে বাঁচাতে নিজের সন্তানের কথা ভুলে, নিজের প্রাণ হাতে করে চলল উদয়স্ত পরিশ্রম ৷ তবে এই আত্মত্যাগ ব্যর্থ যায়নি ৷ সময়ের বিরুদ্ধে লড়ে তিন-চার মাসের কাজ ৬ সপ্তাহে  শেষ করে ভারতের প্রথম করোনা টেস্ট কিট তৈরি করে দেখালেন মিনাল ৷

দেশ জুড়ে চলা লকডাউনের তিন দিনের মাথায় ভারতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ৮৭৩। শনিবার সকালেই মহারাষ্ট্রে ৬ আক্রান্তের সন্ধান মিলেছে। এদিনই তামিলনাড়ুতে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪০ ৷ শুক্রবারই মহারাষ্ট্রে আক্রান্ত হয়েছিল ২৮ জন। ৩৯ জন আ্রক্রান্তের সন্ধান মেলে কেরালায়। শুক্রবার রাতে এ রাজ্যেও নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৫ জন। এ পর্যন্ত করোনার প্রকোপে দেশে মৃত্যু হয়েছে ১৯ জনের। সুস্থ হয়ে বাড়িও ফিরে গিয়েছেন ৬৬ জন।

এতদিন কোভিড ১৯ পরীক্ষার জন্য যে টেস্ট কীট ব্যবহার হত তাতে ফলাফল পেতে পেতে অনেকটা সময় লেগে যেত ৷ কিন্তু এই টেস্ট কীট থেকে মাত্র আড়াই ঘণ্টার মধ্যেই করোনা আক্রান্ত কিনা তা বোঝা যাবে ৷ মাইল্যাবের গবেষণা ও উন্নয়ন প্রধান ভাইরোলজিস্ট মিনাল দাভলে ভোঁসলে বলেন,আমাদের কিটে মাত্র আড়াই ঘণ্টায় ফল জানা যাবে। বিদেশ থেকে আমদানিকৃত কিটের মাধ্যমে করোনা শনাক্তের ফল জানা যায় ছয় থেকে সাত ঘণ্টা পর।

এমনকী তিন-চারমাসের বদলে মাত্র ছয়সপ্তাহে এই কিট তৈরি করার নজির গড়েছেন মিনাল ৷ ভারতে করোনার দাপট শুরুর দিকে অর্থাৎ ফেব্রুয়ারিতেই এই টেস্ট কিট বানানো শুরু করেন মিনাল ও তার টিম ৷ প্রাণের ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও নিজের কন্যা সন্তান জন্মের আগে বিশ্রাম না নিয়ে এই টেস্ট কিট তৈরি করেছেন ৷ প্রসবের জন্য হাসপাতালে যাওয়ার আগে বাণিজ্যিক লাইসেন্স পাওয়ার জন্য তিনি  ১৮ মার্চ ভারতের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজির (এনআইভি) কাছে কিটটি জমা দেওয়ায় ছিল তাঁর প্রধান লক্ষ্য ৷ সেই কারণে পিছিয়ে দেন প্রসবের সময়ও ৷ সকালের বদলে টেস্ট কিট জমা দেওয়ার সমস্ত পেপার ওয়ার্ক শেষ করে সন্ধেয় মিনাল যান প্রসবের জন্য ৷  নিজের করোনা রিসার্চ প্রজেক্টের মতো সেখানেও মিনালের জন্য অপেক্ষা করছিল জীবনের সেরা উপহার ৷ ১৮ মার্চ সন্ধেয় তিনি জন্ম দেন এক ফুটফুটে কন্যা সন্তানের ৷

করোনা পরীক্ষার পর্যাপ্ত কিট না থাকায় আক্রান্ত সন্দেহ হওয়ার পরেও সবসময় পরীক্ষা করা সম্ভব হত না ৷ কিন্তু মিনালদের এই যুগান্তকারী আবিষ্কারে করোনার ট্রিটমেন্টের পথ আরও খানিকটা সহজ হল ৷

First published: March 29, 2020, 1:30 AM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर