করোনা ভাইরাস

corona virus btn
corona virus btn
Loading

করোনার থাবায় বেসুরো 'প্রবাসী'র পুজো, চোখে চিকচিক জল...

করোনার থাবায় বেসুরো 'প্রবাসী'র পুজো, চোখে চিকচিক জল...
পুজো আসছে কিন্তু ওঁদের এবার আসা হল না।

মা দুগ্গার মতোই যাঁরা পুজোর ওই ক'দিন আসতেন কলকাতায়, নিজের শহরে। এ বার সে সুযোগ কার্যত নেই। কী বলছেন ওঁরা...

  • Share this:

#কলকাতা: ওঁরা এ বার বড় একলা। পুজোর সময়ে কলকাতায় আসা, মায়ের চেনা গন্ধ, হইচই, ঠাকুর দেখা, এ সব যে কিছুই নেই এ বছর। সবই কেমন ফিকে হয়ে গিয়েছে করোনার প্রকোপে। মা দুগ্গার মতোই যাঁরা পুজোর ওই ক'দিন আসতেন কলকাতায়, নিজের শহরে। এ বার সে সুযোগ কার্যত নেই।

কলকাতার বসু-মল্লিক পরিবারের কথাই ধরা যাক। প্রতি বছরই পুজোর সময় বাড়ি গমগম করে ওঠে বিদেশ থেকে আসা স্বজনদের শোরগোলে। এ বার পুজো তাই অনেকটা নিস্প্রভ। পরিবারের সদস্য গৌতম বসুমল্লিক বলেন, "এ বার তো অনেকেই আসতে পারবেন না। স্বাভাবিক ভাবেই অন্য বার যে রকম গমগম করে, এ বারে সেটা একেবারেই হবে না।"

মন ভাল নেই মা মৌপিয়া দত্তেরও। এ-ই তো গত বছরই মেয়ে শ্রেয়া, জামাই সৌগতর সঙ্গে এ-প্যান্ডেল থেকে ও-প্যান্ডেলে ঘুরে বেড়িয়েছেন। কিন্তু এ বার আর সে সবের জো নেই। মাদ্রিদবাসী সদ্যোজাত নাতিকে ছুঁয়ে দেখতে পারেননি এখনও। তার ওপরে পুজোয় নেই বড় মেয়ে। মন খারাপ করা গলায় বলছেন, "মেয়ে আসে। জামাই আসে। হইহই হয়। এ বার তো কিছুই হবে না।" মাদ্রিদে শ্রেয়ার গলাও ভারী, "কী-ই বা করা যাবে। আশা করছি, সামনের বছর সব ঠিকঠাক থাকবে। আবার পুজোয় কলকাতায় যাব।"

শ্রেয়ার মতোই ব্রিসবেনে আটকে সুতপা ভঞ্জ। বলছেন, "পুজোর সেই ঢাকের আওয়াজ, মজা, সবই খুউব মিস করব। তবে আশা করছি সাযনের বছর আর এমন হবে না।" শুধুই কি হইচই বা খাওয়া-দাওয়া! "না, তা নয়। মেয়ের সঙ্গে থাকা, ওর সঙ্গে সময় কাটানো, আড্ডা দেওয়া, মিস করব সবকিছুই", বলছেন সুতপার মা দেবস্মিতা ভঞ্জ।

শুধু বসুমল্লিক পরিবার, শ্রেয়া, সুতপারাই নয়, এমন হাজার হাজার পরিবারই এ বার করোনার প্রকোপে পুজোর সময়ে পড়ে থাকবেন বিদেশ-বিভুঁইয়ে, এক্কেবারে একলা। তবে তাঁরাও বুক বাঁধছেন, বলছেন, আসছে বছর নিশ্চয় করোনা-ঝড় থামবে, আবার সবকিছু আগের মতো হয়ে উঠবে। আর আসছে বছর ফের কলকাতায় ওঁরাও ফিরে আসবেন কাশফুলের মতো একরাশ আনন্দ নিয়ে।

Published by: Arka Deb
First published: October 3, 2020, 10:56 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर