হাসপাতালে বসেই চলছে চার্টার্ড অ্যাকাউটেন্সি পরীক্ষার প্রস্তুতি, ওড়িশার করোনা-রোগীকে ঘিরে তুমুল বিতর্ক দেশে!

হাসপাতালে বসেই চলছে চার্টার্ড অ্যাকাউটেন্সি পরীক্ষার প্রস্তুতি, ওড়িশার করোনা-রোগীকে ঘিরে তুমুল বিতর্ক দেশে!

করোনায় আক্রান্ত হয়েও এই তরুণ যে নিজের চার্টার্ড অ্যাকাউটেন্সি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন হাসপাতালে বসে, তা দেখে আপ্লুত বোধ করেছেন

  • Share this:

#পুরী: ছবিটি ওড়িশার কোন হাসপাতালের, তা প্রকাশ করা হয়নি। ঠিক তেমন করেই যে করোনা-রোগী আপাতত চলে এসেছেন দেশ জোড়া বিতর্কের মাঝে, তাঁর পরিচয়টিও প্রকাশ করেননি IAS অফিসার বিজয় কুলাঙ্গে। তিনি শুধু নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল থেকে এই তরুণটির ছবি পোস্ট করেছেন। সঙ্গে লিখেছেন যে হাসপাতালে কোভিড রোগী পরিদর্শনে বেরিয়ে তিনি এই তরুণের অদম্য মনোভাব দেখে মুগ্ধ হয়েছেন। করোনায় আক্রান্ত হয়েও এই তরুণ যে নিজের চার্টার্ড অ্যাকাউটেন্সি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন হাসপাতালে বসে, তা দেখে আপ্লুত বোধ করেছেন অফিসার!

তবে কুলাঙ্গের মতো সব সোশ্যাল মিডিয়া ইউজাররাই কিন্তু বিষয়টাকে ভালো ভাবে নিতে পারেননি। অনেকে যেমন এক দিকে এই তরুণের মনোভাবের প্রশংসা করেছেন, তেমনই অনেকে আবার তাঁর সমালোচনাতেও মুখর হয়ে উঠেছেন। এই দ্বিতীয় দলের দাবি হল এই যে পড়াশোনা করতে পারছেন মানে ওই তরুণের শারীরিক অবস্থা ভালোর দিকেই! সেক্ষেত্রে তাঁর বাড়িতেই কোয়ারান্টিনে থাকা উচিত। তিনি খামোখা হাসপাতালের একটা বেড দখল করে আছেন, ওটা অন্য কারও প্রয়োজনে লাগতে পারে যাঁর শারীরিক অবস্থা তেমন সুবিধার নয়! অতএব ওই তরুণের বেড খালি করে দেওয়া উচিত!

যদিও নিরবচ্ছিন্ন সমালোচনা নয়, পাশাপাশি অনেকে ওই তরুণের পক্ষও নিয়েছেন। তাঁরা লিখছেন যে এটা অক্সিজেন বেড নয়, সাধারণ আইসোলেশন বেড, অতএব ওই তরুণের হাসপাতালে থাকা নিয়ে আপত্তি তোলা ভিত্তিহীন! তেমনই আবার চার্টার্ড অ্যাকাউটেন্সির ছাত্রদের দাবি যে এই পড়াশোনা খুবই কঠিন, এখনই ওই তরুণের সেই ধকল নেওয়া ঠিক হবে না। অনেকে আবার এই পড়াশোনার নেপথ্যে দেশের চাকরির বাজার এবং পেশাগত ইঁদুর দৌড়কে দায়ী করেছেন, তাঁদের মতে অন্যথায় ওই তরুণ বিশ্রাম নেওয়ার কথা ভাবতে পারতেন! পারছেন না, কেন না উপার্জনের চিন্তা তাঁকে কুরে কুরে খাচ্ছে, সরকার দেশের তরুণদের জন্য কিছু করতে ব্যর্থ!

অন্য দিকে, এই তরুণ যে একা নন, এমন অনেকেই আছেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় উঠে এসেছে সে কথাও। এক ট্যুইটারেতি এই প্রসঙ্গে লিখেছেন যে তাঁর পরিচিত এক ছাত্র এই করোনাকালে কোভিড-আক্রান্ত বাবা-মায়ের দেখাশোনা করছেন, রান্না করছেন, বাড়ি সাফ করছেন, নিজের পড়াশোনাও চালিয়ে যাচ্ছেন; যা জানতে পেরে আপাতত তাঁদের কমিউনিটি কিচেন থেকে খাবার পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে!

Published by:Simli Raha
First published: