corona virus btn
corona virus btn
Loading

বড় স্বপ্ন দেখা ভুলেছেন, মুদির দোকান খুলে লড়াই চালাচ্ছেন স্বর্ণকার

বড় স্বপ্ন দেখা ভুলেছেন, মুদির দোকান খুলে লড়াই চালাচ্ছেন স্বর্ণকার
এভাবেই দিন চলছে ওঁদের।

লকডাউন সব লড়াই থমকে দিয়েছিল। লক ডাউনে বন্ধ সোনার দোকান। রাতারাতি কাজ হারালেন বিনায়কবাবু। ঘরেও কাজ হারালেন রীতাদেবী।

  • Share this:

#পূর্ব বর্ধমান: রেডিমেড পোশাকের দোকান। এখানে হাঁসের ডিম পাওয়া যায়। বদলে গিয়েছে জীবন। লকডাউন বদলে দিয়েছে পেশা। পাল এন্টারপ্রাইজ লেখা বোর্ডটা এখনও রয়ে গিয়েছে এক কোনে। অযত্নে। তেমন আর নজর টানে না। অথচ পাঁচ বছর আগে অনেক যত্নে তৈরি করানো হয়েছিল সেই বোর্ড। প্রতিটি অক্ষরের সঙ্গে জড়িয়ে ছিল স্বপ্ন। আচ্ছে দিনের স্বপ্ন বুনতে চাওয়া হয়েছিল এই সাইন বোর্ড আঁকড়ে। লেখা হয়েছিল এখানে শাড়ি কুর্তি চুড়িদার ফ্রক পাওয়া যায়। না। এখন আর সেসব পাওয়া যায় না। পাওয়া যায় হাঁসের ডিম, মুড়ি, বাসন মাজার উপকরণ। এবার আর দোকানের নাম দেওয়ার ফুরসতও দেয়নি লকডাউন।

বর্ধমান শহরের বিধানপল্লী এলাকার বাসিন্দা বিনায়ক পাল। দু দশক আগে রীতা দেবীর সঙ্গে ভালোবাসার বিয়ে। কন্যা সন্তান কোলে আসার পর সুখের সংসারের স্বপ্ন আরও জোড়ালো হয়। বিনায়কবাবু তখন বর্ধমানের বড়বাজারের সোনার দোকানের নামি কারিগর। আয়ও হচ্ছিল আশানুরূপ। কিন্তু সময় যে সমান যায় না। সোনার দাম বাড়ার সঙ্গে তাল মিলিয়ে কমেছে সোনার কাজ। তবুও কাজ চলছিল একটু একটু করে। কিন্তু তাতে সংসার সামলানো যাচ্ছিল না। তাই তাঁকেও কিছু করতে হবে ভেবে নেন রীতা দেবী। তখনই তৈরি করা হয়েছিল এই সাইনবোর্ড। ঘরে পোশাক বিক্রি করবেন রীতাদেবী। বাইরে সোনার কাজ বিনায়কের।

সেভাবেই চলছিল। কিন্তু হঠাৎ লকডাউন সব লড়াই থমকে দিয়েছিল। লক ডাউনে বন্ধ সোনার দোকান। রাতারাতি কাজ হারালেন বিনায়কবাবু। ঘরেও কাজ হারালেন রীতাদেবী। বন্ধ শাড়ির দোকান। বাড়ি বাড়ি নিয়ে যে ঘুরবেন সে উপায় নেই। তাহলে সংসার চলবে কি করে। লকডাউনে ছাড় ছিল মুদিখানা দোকানের। তাই ঘরে ঢোকার সিঁড়িতেই পসরা সাজিয়েছেন দম্পতি।  ছোট্ট করে লেখা হয়েছে এখানে হাঁসের ডিম পাওয়া যায়। রয়েছে মুড়ি, বিস্কুট। গৃহস্থালির প্রয়োজনের টুকিটাকি। বড় স্বপ্ন দেখা ভুলেছেন। সেই স্বপ্ন দেখার সামর্থ্য সাহস দুইই খুইয়েছেন অনেকের মতোই। তবুও লড়াই জারি রয়েছে। ঘরে ঢোকার সিঁড়ির প্রতিটি ধাপই এখন উত্তরনের দিশা দেখাচ্ছে এই হার না মানা দম্পতিকে।

Published by: Arka Deb
First published: June 13, 2020, 5:11 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर