#Coronavirus Update। ডার্বি পিছোতে চান মমতা, মুখ্যমন্ত্রীর সামনেই তরজায় জড়ালেন দুই প্রধানের শীর্ষ কর্তারা

ডার্বি পিছনোর পক্ষে মুখ্যমন্ত্রী। PHOTO- FILE

যেহেতু মোহনবাগান ম্যাচ খেলার পক্ষে, উপায় না দেখে ঘুরিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেন মোহনবাগান কর্তা সৃঞ্জয় বসু।

  • Share this:

    #কলকাতা: ডার্বি ম্যাচ আয়োজন নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সামনেই তরজায় জড়িয়ে পড়লেন ইস্টবেঙ্গল এবং মোহনবাগান কর্তারা। করোনা ভাইরাসের জেরে এআইএফএফ-এর নির্দেশ মেনে দর্শকশূন্য ম্যাচ হবে নাকি খেলা পিছিয়ে দেওয়া হবে, তা নিয়েই তর্কে জড়িয়ে পড়েন দুই প্রধানের দুই শীর্ষ কর্তা দেবব্রত সরকার এবং সৃঞ্জয় বসু। শেষ পর্যন্ত অবশ্য ইস্টবেঙ্গলকে কিছুটা স্বস্তি দিয়েই ম্যাচ পিছিয়ে দেওয়ার জন্য এআইএফএফ-কে অনুরোধ করেন মমতা।

    করোনা ভাইরাস নিয়ে সতর্কতার জেরে আই লিগের বাকি সব ম্যাচই দর্শকশূন্য মাঠে করার নির্দেশ দিয়েছে এআইএফএফ। আগামী রবিবার যুবভারতীতে ইস্টবেঙ্গল এবং মোহনবাগান ম্যাচও দর্শকশূন্য মাঠেই হওয়ার কথা। প্রথম থেকেই এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করে আসছিল ইস্টবেঙ্গল। কিন্তু আই লিগ চ্যাম্পিয়ন হয়ে যাওয়ায় ফাঁকা মাঠেই ম্যাচ খেলে নিতে মরিয়া ছিল মোহনবাগান। কারণ তাদের সমর্থকরাও সেটাই চাইছিল।

    এ দিন নবান্নে রাজ্যে বিভিন্ন খেলার আয়োজন নিয়ে ক্রীড়া সংস্থাগুলির প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রথম থেকেই মুখ্যমন্ত্রী সমস্ত খেলা অন্তত এক মাস পিছিয়ে দেওয়ার পক্ষেই মত দেন। ইডেনে ভারত- দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচ নিয়েও খোঁজখবর নেন তিনি। একই সঙ্গে আলোচনায় উঠে আসে ডার্বি প্রসঙ্গও। তখনই ইস্টবেঙ্গল শীর্ষ কর্তা দেবব্রত সরকার মুখ্যমন্ত্রীকে বলেন, তাঁরা ম্যাচ পিছিয়ে দেওয়ার পক্ষে। ইস্টবেঙ্গল শীর্ষ কর্তার সঙ্গে সহমত পোষণ করে বৈঠকে উপস্থিত এআইএফএফ সহ সভাপতি সুব্রত দত্তের সঙ্গে কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁকেও তিনি অনুরোধ করেন, ডার্বি পিছিয়ে দেওয়ার জন্য।

    যেহেতু মোহনবাগান ম্যাচ খেলার পক্ষে, তখন উপায় না দেখে ঘুরিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেন মোহনবাগান কর্তা সৃঞ্জয় বসু। তিনি তখন প্রশ্ন তোলেন, দর্শকশূন্য ইডেনে যদি পঞ্চাশ ওভারের ভারত- দক্ষিণ আফ্রিকা আন্তর্জাতিক ম্যাচ হতে পারে, তাহলে যুবভারতীতে ডার্বি হতে সমস্যা কোথায়? যদিও মোহনবাগান কর্তার এই যুক্তি মানতে চাননি মুখ্যমন্ত্রী। আই লিগের সব ম্য়াচ পিছিয়ে দেওয়া হচ্ছে জেনে তিনি বলেন, অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় বাংলার ফুটবল আবেগ আলাদা। এখানে ফাঁকা মাঠে ডার্বি হলে সমর্থকরা মেনে নেবেন না। ম্যাচ পিছিয়ে দেওয়ার জন্য এআইএফএফ সভাপতি প্রফুল্ল পটেলের সঙ্গে কথা বলার জন্য ফেডারেশনের সহ সভাপতি সুব্রত দত্তকে অনুরোধ করেন মুখ্যমন্ত্রী।

    স্বভাবতই মুখ্যমন্ত্রীর এই প্রস্তাবে পূর্ণ সমর্থন জানান ইস্টবেঙ্গল কর্তা দেবব্রত বসু। কিন্তু ম্যাচ খেলে নিতে মরিয়া মোহনবাগান কর্তা সৃঞ্জয় বার বারই রবিবারই ডার্বি খেলার উপরে জোর দেন। এক সময় মোহনবাগান কর্তার উপর কিছুটা বিরক্ত হয়েই মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি ইস্টবেঙ্গল- মোহনবাগানের ইগোর নয়। বরং করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোখাটাই এখন বেশি জরুরি। শেষ পর্যন্ত ফেডারেশনের তরফে সুব্রত দত্ত জানান, তিনি প্রফুল্ল পটেলকে বলবেন তাঁর সঙ্গে কথা বলার জন্য।

     
    Published by:Debamoy Ghosh
    First published: