Mamata Banerjee: করোনার ভ্যাকসিন 'লুকিয়ে' রাখছে দিল্লি! বড়সড় বেনিয়মের ইঙ্গিত মমতার

করোনার টিকাকরণে নিয়ে বেনিয়মের ইঙ্গিত মমতার৷

করোনার টিকা ঠিক মতো সরবরাহ করা হচ্ছে না বলে ইতিমধ্যেই সরব হয়েছে মহারাষ্ট্র সহ বিরোধী শাসিত একাধিক রাজ্য৷ কেন্দ্রীয় সরকার অবশ্য এই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে৷

  • Share this:

    #কলকাতা: রাজ্যকে বিনামূল্যে মানুষকে করোনার টিকা দিতে না দেওয়ার মধ্যে কোনও কারণ আছে! যা তিনি খুঁজে বের করবেন বলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চ্যালেঞ্জ ছুড়লেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ তাঁর আরও চাঞ্চল্যকর অভিযোগ, দিল্লি করোনার টিকা লুকিয়ে রেখেছে৷ সবমিলিয়ে বেহালার সভা থেকে এ দিন করোনার টিকাকরণ নিয়ে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে বড়সড় বেনিয়মের দিকেই ইঙ্গিত করলেন মুখ্যমন্ত্রী৷

    করোনার টিকা ঠিক মতো সরবরাহ করা হচ্ছে না বলে ইতিমধ্যেই সরব হয়েছে মহারাষ্ট্র সহ বিরোধী শাসিত একাধিক রাজ্য৷ কেন্দ্রীয় সরকার অবশ্য এই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে৷ এই পরিস্থিতিতে এ দিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে অভিযোগ করলেন, তাতে টিকাকরণ বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ হল৷

    এ দিন বেহালা পূর্ব এবং বেহালা পশ্চিমের তৃণমূল প্রার্থীদের সমর্থনে সভা করেন মুখ্যমন্ত্রী৷ সেখানেই তিনি অভিযোগ করেন, করোনার সময় তিনি নিজে রাস্তায় নেমে মানুষকে সচেতন করেছেন৷ কিন্তু কোনও বিজেপি নেতাকে দেখা যায়নি৷ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'যখন কোভিড হয়েছিল অনেকে ভয়ে বেরোয়নি৷ এরা তখন কোথায় ছিল? এখন নির্বাচনে ভোট চাইছে৷ কোথায় ছিলি যখন কোভিডে লোক মরে গিয়েছিল৷ এক বছর কেউ তো দেখতে আসোনি৷ '

    মুখ্যমন্ত্রী এর পরই অভিযোগ করেন, রাজ্য সরকারের উদ্যোগে বিনামূল্যে সাধারণ মানুষকে করোনার টিকা দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হলেও সেই অনুমতি দেয়নি কেন্দ্র৷ মমতা বলেন, 'আমি নির্বাচনের আগে নরেন্দ্র মোদিকে চিঠি লিখে বলেছিলাম যে আমি পয়সা দিচ্ছি, আপনাকে পয়সা দিতে হবে না৷ যাতে করোনার প্রতিষেধক বিনামূ্ল্যে মানুষকে যাতে দিতে পারি৷ কারণ ওই ইঞ্জেকশনটা দিল্লি লুকিয়ে রেখেছে৷ কোনও রাজ্য কিনতে পারে না৷ কিন্তু সেই অনুমতি আমাকে ওরা দেয়নি৷ কেন দেয়নি তার পিছনে তো কোনও না কোনও কারণ আছে৷ নরেন্দ্র মোদিজি, আমি যদি বেঁচে থাকি এর কারণ খুঁজে বের করবই৷' এর পরে বেনিয়মের দিকে ইঙ্গিত করে মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, 'কেন মাত্র একটা কোম্পানির ওষুধ কেনা যাবে? কেন মোনোপলি থাকবে ওরা যেটা বলে দেবে সেটাই নিতে হবে৷ লোকেরা স্বাধীনতা মতো পাবে না৷ টোটাল মোনোপলি৷ আমি এগুলো বুঝি৷ আমি দীর্ঘ দিন রেল, কয়লা, নারী ও শিশুকল্যাণ, ক্রীড়া ও যুবকল্যাণ মন্ত্রকে মন্ত্রী ছিলাম৷ আমি দিল্লিটা খুব ভাল চিনি৷'

    দেশের বিভিন্ন রাজ্যে এই মুহূর্তে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ আছড়ে পড়ছে৷ গত জানুয়ারি মাস থেকে কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্যোগে করোনার টিকাকরণ শুরু হয়েছে৷ কেন্দ্রের তরফেই রাজ্যগুলিকে ভ্যাকসিন সরবরাহ করা হচ্ছে৷ রাজ্য সরকারের পরিকাঠামো ব্যবহার করেই চলছে টিকাকরণের কাজ৷ এই মুহূর্তে ৪৫ বছরের ঊর্ধ্বে প্রত্যেককেই ভ্যাকসিন দেওয়ার কাজ চলছে৷ কিন্তু মহারাষ্ট্র, ছত্তীসগড়, ওড়িশা, অন্ধ্রপ্রদেশের মতো একাধিক রাজ্য সরকারের অভিযোগ, তাদের হাতে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভ্যাকসিন নেই৷ ফলে টিকাকরণের কাজ ব্যাহত হচ্ছে৷

    কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষ বর্ধন অবশ্য বিরোধী শাসিত রাজ্যগুলির বিরুদ্ধে রাজনীতি করার অভিযোগ তুলেছেন৷ তাঁর আশ্বাস, দেশে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভ্যাকসিন রয়েছে৷ কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ দিন যে অভিযোগ করলেন, তাতে ভ্যাকসিন দেওয়া নিয়ে বিতর্কে বিরোধীদের অভিযোগই জোরাল হল৷

    Published by:Debamoy Ghosh
    First published: