১৪ দিনের ‘বনবাস’, মালদহে আমবাগানে তাঁবু গেড়ে স্বেচ্ছায় নির্বাসনে পরিযায়ী শ্রমিকরা

কয়েক মাস আগে কোনও গ্রামে এমন ছবি দেখা গেলে নির্ঘাত উগ্রপন্থী বা মাওবাদীদের ডেরা বলে লোকে পুলিশকে খবর দিতেন।

কয়েক মাস আগে কোনও গ্রামে এমন ছবি দেখা গেলে নির্ঘাত উগ্রপন্থী বা মাওবাদীদের ডেরা বলে লোকে পুলিশকে খবর দিতেন।

  • Share this:

#মালদহ:- লক্ষ্য করোনা থেকে গ্রামকে বাঁচানো। তাই, আমবাগানে তাঁবু গেড়ে চলছে স্বেচ্ছায় নির্বাসন। গ্রামে এসেও বাড়ি চলে যাননি মালদহের কোতুয়ালীর নয় যুবক। পরিবর্তে টানা চোদ্দদিনের‘বনবাস’কেই বেছে নিয়েছেন প্রত্যেকে। তাঁদের পাশে দাঁড়িয়ে সহমর্মিতার বার্তা দিয়েছে গোটা গ্রাম। এমনকী স্থানীয় ক্লাবও।

আম বাগানে গাছের ফাঁক-ফোকর দিয়ে চোখে পড়ছে ছোট ছোট তাঁবু। আশেপাশে মুখ ঢাকা অবস্থায় ঘুরে বেড়াচ্ছে একদল যুবক। কয়েক মাস আগে কোনও গ্রামে এমন ছবি দেখা গেলে নির্ঘাত উগ্রপন্থী বা মাওবাদীদের ডেরা বলে লোকে পুলিশকে খবর দিতেন। কিন্তু, করোনার প্রকোপের জেরে এভাবেই জঙ্গলবাস করতে হচ্ছে বাইরে থেকে আসা মালদহের পরিযায়ী শ্রমিকদের। যাঁদের হোম কোয়ারেনটিনে আলাদা হয়ে থাকার মতো পরিকাঠামো নেই। তাঁদের অনেকেরই আস্থানা এখন এই ধরনের আমবাগান। মালদহের ইংরেজবাজারের কোতুয়ালীর সতীচড়া গ্রামে কালিন্দ্রী নদীর পাড়ে আমবাগানেই ডেরা গেড়েছেন হাওড়ার উলুবেড়িয়া থেকে ফেরা নয় শ্রমিক। প্রত্যেকেই নিজেদের গ্রামে ফিরলেও বাড়িমুখো হননি।গ্রামবাসীরা আলোচনা করে ঠিক করেন, ওই যুবকদের আলাদা করে রাখা হবে।আর তাঁদের থাকা-খাওয়ার যাবতীয় দায়িত্ব ভাগ করে নিয়েছে গোটা গ্রাম। আম বাগানের ভেতরে তাঁবু তৈরি, ঘুমনোর জন্য চৌকির ব্যবস্থা, রান্নার জন্য গ্যাস, খাবারের জোগান-সবই করেছেন গ্রামবাসীরাই।

ইতিমধ্যেই বাগানে এভাবে পাঁচদিন কাটিয়েও ফেলেছেন ওঁরা। অনেকেই দূর থেকে নিজেদের বাড়ি ঘরও দেখতে পাচ্ছেন। কিন্তু, বাড়ি ফেরার উপায় নেই। যুবকদের বক্তব্য- গ্রামে করোনার বাহক হতে চান না তাঁরা কেউই।  ছেলেরা গ্রামে ফিরলেও বাড়ি ফেরেনি। প্রিয়জনকে বুকে আঁকড়ে ধরার উপায় নেই। এই অবস্থায় প্রতিদিনই আমবাগানের আশেপাশে গিয়ে দূর থেকে তাঁদের খোঁজখবর নিয়ে আসছেন পরিবারের লোকজন।কাছে না পেলেও ছেলেরা যে গ্রামে ফিরে এসেছে তাতেই খুশী পরিজনেরা। করোনার বিরুদ্ধে এই যুদ্ধে প্রশংসনীয় ভূমিকা নিয়েছে স্থানীয় ক্লাব কালিন্দ্রী যুব সংঘ। দু-বেলা ক্লাব সদস্যরা এসে খাবার পৌছে দিয়ে যাচ্ছেন।নিয়মিত খোঁজখবরও নিচ্ছেন। ক্লাব সভাপতি বাপি হালদারের কথায়, ওরা সকলেই আমাদের নিজেদের লোক। যেভাবে জঙ্গল জীবনে থেকে গোটা গ্রামকে সংক্রমনের বিপদন্মুক্ত করেছে তাতে পাশে না দাঁড়ালেই নয়। চোদ্দদিন কাটলে আরও একবার স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর ওঁদের উপযুক্ত সম্মান দিয়ে ফেরানো হবে গ্রামে।

Sebak Deb Sharma

Published by:Elina Datta
First published: