corona virus btn
corona virus btn
Loading

দুই পরিবারের হাতে ভুল দেহ, সুপ্রিম কোর্টের ভর্ৎসনার দিনই কাঠগড়ায় দিল্লির হাসপাতাল

দুই পরিবারের হাতে ভুল দেহ, সুপ্রিম কোর্টের ভর্ৎসনার দিনই কাঠগড়ায় দিল্লির হাসপাতাল
প্রতীকী চিত্র৷

দু'টি পরিবারের হাতেই ভুল দেহ তুলে দেওয়া হয়৷ যার জেরে একটি পরিবার প্রিয়জনের সৎকার করার সুযোগ পর্যন্ত পায়নি৷

  • Share this:

#দিল্লি: শুক্রবার দিল্লিতে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের চিকিৎসা ব্যবস্থাকে ভয়াবহ আখ্যা দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট৷ বিশেষত দিল্লির এলএনজিপি হাসপাতালে রোগীদের দুরবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন শীর্ষ আদালতের বিচারপতিরা৷ সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ যে কতখানি সঠিক, তা চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যেই প্রমাণিত হলো৷ করোনা সংক্রমণে মৃত দু' জনের দেহ অদলবদল করার অভিযোগ উঠল দিল্লির ওই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে৷ অভিযোগ, দু'টি পরিবারের হাতেই ভুল দেহ তুলে দেওয়া হয়৷ যার জেরে একটি পরিবার প্রিয়জনের সৎকার করার সুযোগ পর্যন্ত পায়নি৷ আর দ্বিতীয় পরিবারটি এই ভুলের কারণে দু'টি দেহ সৎকার করতে বাধ্য হয়৷

সানি চন্দ্র নামে এক সিআইএসএফ সাব ইন্সপেক্টরের অভিযোগ, গত ৬ জুন দিল্লির এলএনজেপি হাসপাতালে তাঁর বাবা শান্ত রামের মৃত্যু হয়৷ ৭ জুন নিগমবোধ ঘাট শ্মশানে হাসপাতালের অ্যাম্বুল্যান্সের চালক তাঁদের হাতে একটি দেহ তুলে দেন৷ বারংবার অনুরোধ করলেও মৃতদেহের মুখ পরিবারকে দেখানো হয়নি বলে অভিযোগ৷ এর পর সৎকার কাজ সেরে ফিরে যাওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর হাসপাতাল থেকে ওই পরিবারকে ভুল করে জানানো হয়, তাঁরা আসলে মীরা দেবী নামে এক বৃদ্ধার দেহ সৎকার করে এসেছেন৷

এর পর ওই পরিবার ফের শ্মশান ঘাটে যায়৷ এবার তাঁদের যে দেহ দেওয়া হয়, তার গায়ে মৃতের নাম, বয়স, লিঙ্গের উল্লেখ ছিল৷ মৃতেদর মুখও পরিবারকে দেখানো হয়৷ তাতেই তাঁরা নিশ্চিত হন যে এটিই তাঁদের প্রিয়জনের দেহ৷ কিন্তু প্রথমবার তাঁদের ভুল করে যে দেহ দেওয়া হয়েছিল তাতে এসবের কোনও উল্লেখ ছিল না৷ ওই পরিবারের অভিযোগ, প্রথমবার মৃতদেহের মুখ দেখালে এত বড় ভুল হত না৷

সানি চন্দ্র তবু তাঁর বাবার দেহ সৎকারের সুযোগ পেয়েছেন৷ কিন্তু করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত মীরা দেবীর ছেলে মুকেশ মায়ের সৎকারটুকুও করতে পারেননি৷ আর পুরোটাই এলএনজেপি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভুলে৷ মুকেশ জানিয়েছেন, গত ৪ জুন তাঁর মা মাথাব্যথার সমস্যা দেখা দেয়৷ প্রথমে মালব্যনগর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা ওই বৃদ্ধাকে এলএনজেপি কোভিড হাসপাতালে রেফার করেন৷

মুকেশের অভিযোগ, চিকিৎসকরা তাঁকে জানান, তাঁর মাকে রাম মনোহর লোহিয়া হাসপাতালে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হচ্ছে৷ কিন্তু অ্যাম্বুল্যান্স চালক সরাসরি ওই বৃদ্ধাকে এলএনজেপি হাসপাতালে নিয়ে চলে আসেন৷ মুকেশের অভিযোগ, হাসপাতালে তাঁর মাকে কোন ওয়ার্ডে ভর্তি রাখা হয়েছে, সে বিষয়ে কিছুই জানানো হয়নি৷ দু' দিন ধরে ঘোরাঘুরির পর তিনি জানতে পারেন, তাঁর মা ২৭ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি৷ মুকেশের দাবি, কোনওক্রমে ওয়ার্ডের ভিতরে একটি ফোন পাঠিয়ে মায়ের সঙ্গে কথা বলেন তিনি৷ অভিযোগ, ওই বৃদ্ধা জানান, তাঁর কোনও চিকিৎসা বা পরীক্ষা করা দূরে থাক, তাঁকে খেতে পর্যন্ত দেওয়া হয়নি৷

এ কথা জানতে পেরে মাকে ওই হাসপাতাল থেকে ছাড়ানোর জন্য দিল্লি পুলিশের পিসিআর নম্বরে ফোন করেন মুকেশ, মুখ্যমন্ত্রীর দফতরেও যোগাযোগ করেন তিনি৷ কিন্তু কোনও কাজ হয়নি৷ শেষ পর্যন্ত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে অনেক অনুনয় বিনিময় করার পর তাঁর মাকে অন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার অনুমতি মেলে৷ কিন্তু তাঁর দশ মিনিটের মধ্যেই মীরা দেবী নামে ওই বৃদ্ধার মৃত্যু হয়৷ মুকেশের অভিযোগ, ইচ্ছাকৃত ভাবেই তাঁর মাকে মেরে ফেলা হয়েছে৷

মুকেশের যন্ত্রণার এখানেই শেষ নয়৷ শ্মশানে গিয়েও এক অ্যাম্বুল্যান্স থেকে অন্য অ্যাম্বুল্যান্সে হাতড়েও নিজের মায়ের দেহ খুঁজে পাননি তিনি৷ শেষে তাঁর হাতে যে দেহটি দেওয়া হয়, তার গায়ে শান্ত রামের নাম লেখা ছিল৷ সেটিই তাঁর মায়ের দেহ বলে দাবি করেন অ্যাম্বুল্যান্স চালক৷ এর পর হাসপাতালে ফিরে যান মুকেশ৷ সেখানে তাঁকে জানানো হয়, অন্য কেউ তাঁর মায়ের দেহ দাহ করেছেন!

অতীতেও এলএনজেপি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ভুল মৃতদেহ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে৷ তখন তাঁরা যুক্তি দেন, নামের মিল থাকায় বিভ্রান্তি থেকেই দেহ অদল বদল হয়েছে৷ কিন্তু একজন পুরুষ এবং মহিলার দেহ নিয়ে কীভাবে বিভ্রান্তি ছড়াল, তা নিয়েই প্রশ্ন উঠছে৷

 
Published by: Debamoy Ghosh
First published: June 13, 2020, 12:35 AM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर