corona virus btn
corona virus btn
Loading

দরজা বন্ধ করেই কলকাতায় ছুটছে বেসরকারি বাস !

দরজা বন্ধ করেই কলকাতায় ছুটছে বেসরকারি বাস !

কলকাতায় যে সমস্ত বেসরকারি বাস চলাচল করছে, তাতে অনেকসময়েই দেখা যাচ্ছে বাসের একটি দরজা ভিতর ও বাইরে থেকে বন্ধ।

  • Share this:

#কলকাতা: লকডাউনের পরে বাসের নকশা বদল। কেন্দ্রীয় পরিবহণ মন্ত্রকের নীতি মেনে ৪০ আসনের বেশি বাস হলেই যা ভাড়া বা যাত্রী পরিবহণের জন্য ব্যবহার হচ্ছে তাতে বাধ্যতামূলক হল দুটি গেট বা দরজা থাকা। একটি গেট থাকতে হয় এমারজেন্সি হিসেবে আলাদা। এছাড়া চালকের ওঠা-নামার জন্যে একটি আলাদা গেট থাকে।

যদিও কলকাতায় যে সমস্ত বেসরকারি বাস চলাচল করছে তাতে অনেকসময়েই দেখা যাচ্ছে বাসের একটি দরজা ভিতর ও বাইরে থেকে বন্ধ। কোনও কোনও দরজায় আবার বাইরে থেকে তালাও লাগানো আছে। নিরাপদে যাত্রী পরিবহণের ক্ষেত্রে যা নিয়মবিরুদ্ধ বলেই মনে করা হচ্ছে। বাস মালিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা এই বিষয় সম্পর্কে অবহিত হলেও তারা খানিকটা বাধ্য হয়েই এভাবেই রাস্তায় বাস বার করছেন। কিছু কিছু বাস গত কয়েক বছর ধরেই কমিয়ে দিয়েছে বাসের কর্মী সংখ্যা। ফলে গ্যারাজে গিয়ে বদলে ফেলা হয়েছে বাসের চেহারা। আর এক দরজা বা গেটের বাস সেটাও চলছে দরজা বন্ধ করে। ফলে যে কোনও ধরণের বিপদ ঘটলে চূড়ান্ত নাকাল হবেন যাত্রীরা।

লকডাউনের শেষ ধাপে এসে বাস চলাচলের অনুমতি দেয় রাজ্য সরকার। সরকারি ও বেসরকারি বাস চলাচল করছে রাস্তায়। প্রথমে বাসের আসন সংখ্যা ২০ বেঁধে দেওয়া হলেও, পরবর্তী সময় যত আসন তত যাত্রী নিয়ে পরিষেবা চালু করার অনুমতি দেয় রাজ্য সরকার। বেশ কিছু রুটের বাস রাস্তায় নামে। যদিও সেই বাস চলতে গিয়ে দেখা যাচ্ছে অধিকাংশ বাসের দরজা তালা বন্ধ। কলকাতার সি, ৫২, ৫৫, ২০২, ২৪-সহ একাধিক রুট, যেখানে যাত্রী আসন পিছু হচ্ছে নিয়মিত সেখানে এই অবস্থা। বাস কর্মীরা জানাচ্ছেন, যেহেতু বেশি লোক তোলা যাবে না তাই বাসের আসন পুরোপুরি ভর্তি হয়ে গেলেই তারা দরজা বন্ধ করে দিচ্ছেন।

গত কয়েক বছর ধরে বাসের কর্মী সংখ্যা এমনিতেই কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। আগে বাসে দু'জন কন্ডাকটর ও দু'জন হেল্পার থাকত। এখন সেখানে হেল্পার আর নেই। দু'জন কন্ডাক্টরের বদলে মাত্র এক জন কন্ডাকটর। যিনি টিকিট কাটেন, যাত্রী তোলেন আবার চালককে রাস্তা বোঝান। বেশ কয়েকবার এই বিষয়ে ইউনিয়নগুলি সরব হলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। ফলে বাস চালানো এখন মাত্র দু'জনের ব্যপার। তাই পুরনো বাসের একটা দরজা আগেই বন্ধ হয়েছে। যাতে অসুবিধা না হয়। এবার তার সাথে যুক্ত হল বাসের একটা দরজা সেটাও বন্ধ করে চালানো। বাস চালাতে গিয়ে ফাঁপড়ে পড়েছেন মালিকরা। আর মালিকদের অসহায়তার কারণে এবার বিপদে পড়ছেন চালক, কন্ডাকটর-সহ বাস কর্মীরা।

লকডাউনের কারণে অনেক কর্মী বাড়ি ফিরে গেছেন। জয়েন্ট কাউন্সিল অফ বাস সিন্ডিকেটের সাধারণ সম্পাদক তপন বন্দোপাধ্যায়ের দাবি, "সরকার বাসে কাউকে দাঁড়িয়ে যেতে বারণ করেছে। যাত্রীরা যদিও বাসে ওঠার জন্য হুড়োহুড়ি করছে। তাই বাধ্য হয়েই আমরা বাসের দরজা বন্ধ রেখেছি।" তবে এতে যে বিপদের সম্ভাবনা আছে তা মানছেন তিনি। কারণ অধিকাংশ বাসের ছিটকিনি থেকে দরজার যন্ত্রাংশ সবেতেই সমস্যা আছে।

ফলে আসল সময়ে বাসের দরজা খুলবে কিনা সেটাই চিন্তা বাড়িয়েছে যাত্রীদের। প্রতিদিন এক্সাইড থেকে শ্যামবাজার যাতায়াত করেন মিনতি বোস। তিনি জানাচ্ছেন, "একে তো রাস্তায় বাস কম। তার ওপর আবার দরজা বন্ধ। ভগবানের নাম নিয়েই যাতায়াত করি।" একই বক্তব্য শান্তনু মজুমদারের। তিনি বলেন, "বাসের সিট থেকে জানলা, দরজা সবটাই ভাঙাচোরা। এর ওপর বিপদ বাড়িয়ে বন্ধ। উপায় নেই তাই এভাবেই যাতায়াত করি।" বাস সংগঠনগুলি অবশ্য গোটা বিষয়ে তাদের ভূমিকা নেই বলেই জানিয়েছে। সংগঠনের নেতাদের একটাই কথা, আগের মতো বাসে যাত্রীদের উঠতে নামতে দিক। তাহলেই দরজা খোলা থাকবে। যাত্রীদের আটকাতেই তালা বন্ধ বাসের দরজা।

আবীর ঘোষাল

Published by: Siddhartha Sarkar
First published: June 22, 2020, 9:55 AM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर