করোনায় ওঁত পেতে আছে নাবালিকা পাচারের আড়কাঠিরা, শিশু সুরক্ষায় একগুচ্ছ পদক্ষেপ হাইকোর্টের 

কোভিড ১৯ পরিস্থিতিতে রাজ্যের শিশু সুরক্ষা নিয়ে উদ্বিগ্ন কলকাতা হাইকোর্ট।

কোভিড ১৯ পরিস্থিতিতে রাজ্যের শিশু সুরক্ষা নিয়ে উদ্বিগ্ন কলকাতা হাইকোর্ট।

  • Share this:

#কলকাতা: করোনা ও লকডাউনে ওঁত পেতে ছিলোই পাচারের আড়কাঠিরা। তার ওপর আমফান শিশু পাচারের আশঙ্কা আরও বাড়িয়েছে। জুনের প্রথম সপ্তাহে রাজ্য শিশু সুরক্ষা কমিশনের রিপোর্ট যায় কলকাতা হাইকোর্টে। ১৮ মার্চ থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত শিশু অধিকার বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কার কথা জানানো হয়।

কলকাতা হাইকোর্ট রিপোর্ট পেয়ে স্বতঃপ্রণোদিত হস্তক্ষেপ করে। জনস্বার্থ মামলায় রাজ্যের নারী ও শিশু কল্যাণ দপ্তর ও স্বাস্থ্য দফতরের রিপোর্ট তলব করা হয়। স্বাস্থ্য দফতর রিপোর্ট দিয়ে জানায় প্রায় ৩০০০০ পরিযায়ী শ্রমিক পরিবারের শিশু কোয়ারেন্টাইনে রয়েছে। প্রায় ৩০০০ শিশু কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে আর বাকি স্বগৃহ পর্যবেক্ষণে। সুপ্রিম কোর্টের এক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার মামলাও পর্যালোচনা করে হাইকোর্ট।

১৪০ নাবালিকার জোর করে বিয়ে দেওয়া হয়। শেষমেষ কলকাতা হাইকোর্ট ভিডিও শুনানি পর বুধবার একগুচ্ছ নির্দেশ জারি করল বুধবার।কোভিড ১৯ পরিস্থিতিতে রাজ্যের শিশু সুরক্ষা নিয়ে উদ্বিগ্ন কলকাতা হাইকোর্ট। তাই স্বতঃপ্রণোদিত জনস্বার্থ মামলায় রাজ্যের প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান'দের নির্দেশ দিল এদিন  হাইকোর্ট।

শিশু অধিকার, শিশু পাচার আটকানো এবং নাবালিকা বিয়ে রুখতে এলাকায় এলাকায় জোর দিতে নির্দেশ রাজ্যের সব গ্রাম প্রধানদের। প্রতি গ্রামপঞ্চায়েত প্রধান সংবেদনশীল হয়ে জোর প্রচার চালাবেন শিশু সুরক্ষা নিয়ে। প্রতি জেলাশাসক শিশু অধিকার খর্ব হলেই তৎপরতার সঙ্গে যথাযথ আইনানুগ পদক্ষেপ করবেন। পরিযায়ী শ্রমিক পরিবারের শিশুদের সুরক্ষার ওপর আরও জোর দিতে নির্দেশ হাইকোর্টের। শিশু সুরক্ষা নিয়ে যত সংবাদমাধ্যমে খবর বেরিয়েছে, সেই সংক্রান্ত বিষয়ে প্রশাসনের পদক্ষেপ কি, তার বিশদ হলফনামা আকারে রিপোর্ট দিতে নির্দেশ রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দফতরের প্রধান সচিবকে।

১৬ জুনের মধ্যে হলফনামা আকারে রিপোর্ট দিতে নির্দেশ। পরিযায়ী শ্রমিক পরিবারের প্রায় ৩০,০০০ শিশু এই মুহূর্তে কোয়ারেন্টাইনে রয়েছে। তাদের দেখভাল ও সমস্ত কিছু গুরুত্ব দিয়ে করার নির্দেশ হাইকোর্টের। নির্দেশ বিচারপতি সৌমেন সেন এবং বিচারপতি হরিশ ট্যান্ডনের ডিভিশন বেঞ্চের নির্দেশ।আগামী ১৮ জুন ফের এই মামলার শুনানি।

Arnab Hazra

Published by:Elina Datta
First published: