Home /News /coronavirus-latest-news /
লকডাউনে অসহায় ভবঘুরেদের দু’বেলা খাওয়ানোর দায়িত্ব নিল জিআরপি

লকডাউনে অসহায় ভবঘুরেদের দু’বেলা খাওয়ানোর দায়িত্ব নিল জিআরপি

ভবঘুরেরা যাতে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন ভাবে থাকতে পারে সেজন্য সাবান দিয়ে স্নান করানো, হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে হাত ধোওয়ানো-সহ সব ব্যবস্থাই করেছে জিআরপি।

  • Share this:

#কলকাতা: তাদের বাড়ি বলতে প্ল্যাটফর্ম। মাথা গোজার ঠাঁই বলতে প্লাটফর্মের ছাউনি। রোজগার বলতে নিত্যযাত্রীদের থেকে হাত পেতে মেলা সামান্য কিছু টাকা। ওই সামান্য টাকাতেই দু'বেলা খাওয়া জুটতো। কিন্তু করোনা সতর্কতায় দেশজুড়ে লকডাউনের জেরে তাঁরা আরও অসহায়। জুটছে না একবেলার খাবারও।

দেশজুড়ে লকডাউনে বন্ধ করা হয়েছে লোকাল এবং দূরপাল্লার রেল পরিষেবা। ফলে বিভিন্ন স্টেশনের যাত্রীদের থেকে ভিক্ষা করে যাদের দিন চলে, তারা না খেতে পাওয়ার মতো অবস্থায় পৌঁছেছে। তাই স্টেশনের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা জিআরপি থানার পুলিশ সেই অসহায় মানুষদের দু'বেলা খাবার জোগাতে এগিয়ে এসেছে।

যাত্রী না থাকলেও জিআরপি থানার পুলিশ প্ল্যাটফর্মেই ডিউটি করছে। চোখের সামনে তাঁরাই দেখতে পাচ্ছেন এই মানুষগুলোর অসহায়তা। তাই মানবিক কারণেই তারা নিজেদের পকেটের টাকায় এই উদ্যোগে এগিয়ে এসেছেন।

এই উদ্যোগটি সর্বপ্রথম লক্ষ্য করা গিয়েছে বারুইপুর রেল স্টেশনে। বারুইপুর জিআরপি থানার পুলিশ সেই প্ল্যাটফর্মে থাকা ২২ জন ভবঘুরের দুবেলা খাবারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছে। শুধু খাওয়াই নয়, তারা যাতে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন ভাবে থাকতে পারে সেজন্য সাবান দিয়ে স্নান করানো, হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে হাত ধোওয়ানো-সহ সব ব্যবস্থাই করেছে জিআরপি।

গত তিনদিন ধরে বারইপুর স্টেশনে ভবঘুরেদের খাওয়ানোর ব্যবস্থা শুরু করা হয়েছে। দুপুর এবং রাতে পেট ভরে ভাত খাওয়ানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে প্লাটফর্মেই। নির্দিষ্ট দূরত্বে তাদের বসিয়ে স্যানিটাইজার দিয়ে হাত ধুইয়ে তারপর খাওয়ানো হচ্ছে। বুধবার তাদের খেতে দেওয়া হয়েছে ভাত ও ডিম-আলুর ঝোল। বারুইপুর জিআরপির এক অফিসার বলেন, "এদের মধ্যে অনেকেই আছেন যারা মানসিক রোগে আক্রান্ত। একজন দৃষ্টিহীনও আছেন। তাঁদের নিজের হাতে খাইয়ে দেওয়া হয়েছে। খাওয়ানোর পর প্লাটফর্মে নির্দিষ্ট দূরত্বে তাঁদের ঘুমানোর ব্যবস্থাও করে দেওয়া হয়েছে।"

স্থানীয় কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবী যুবকের সাহায্যে এই মানবিক কাজে নেমেছে বারইপুর জিআরপি থানার পুলিশ। তবে শুধু বারুইপুর জিআরপি নয় লক্ষীকান্তপুর স্টেশনেও একই কাজ করা হচ্ছে। থানার অন্য এক অফিসার বলেন, "চেষ্টা করবো যতদিন লকডাউন চলবে তাদের দুবেলা করে পেট ভরে খাওয়ানোর। নিত্যযাত্রীদের থেকেই তো এদের পেট চলে, তারাই যখন নেই তাহলে এই সমস্ত মানুষ গুলোর কি হবে সেটা ভেবেই এই কাজ শুরু করা হয়েছে।"

পুলিশের এরকম মানবিক উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছে স্থানীয় বাসিন্দারাও। প্রত্যেকেই চাইছেন, শহর তথা রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় থাকা এরকম অসহায় মানুষ যারা ফুটপাথ বা প্লাটফর্মে থাকেন, তাদেরও অন্তত খাওয়ানোর ব্যবস্থা করুক প্রশাসন।

Sujoy Pal

Published by:Siddhartha Sarkar
First published:

Tags: Coronavirus, Lock Down

পরবর্তী খবর