corona virus btn
corona virus btn
Loading

লকডাউনের জেরে বহুদিন বন্ধ বাস, নেই রোজগার, দুশ্চিন্তায় চালক ও কন্ডাক্টররা  

লকডাউনের জেরে বহুদিন বন্ধ বাস, নেই রোজগার, দুশ্চিন্তায় চালক ও কন্ডাক্টররা  
Representational Image

লকডাউনের জেরে প্রচণ্ড সমস্যায় পড়েছেন বাস চালক ও কন্ডাক্টররা প্রত্যেকেই। ‘দিন আনে দিন খায়’ যারা তাদের মধ্যে এই শ্রেণির মানুষ অনেকেই আছেন।

  • Share this:

#কলকাতা: সলমন খানের বিখ্যাত সিনেমায় তিনি একে অপরের সাহায্য করার জন্য একটা চেন চালু করেছিলেন। যেখানে একজন সাহায্য পাওয়া ব্যক্তি, নিজের সাধ্য মতো সাহায্য করবেন তিনজনকে। সিনেমার সেই চিত্রনাট্য এবার ফিরে এল বাস্তবে।

রাজ্যের বেসরকারি বাস চালক ও কন্ডাক্টররা কেমন আছেন ? তা জানতে একে অপরকে প্রতিদিন সকাল থেকে ফোন করা শুরু করল শুক্রবার সকাল থেকে। প্রয়োজনে নিজেরা নিজেদেরকে সাহায্য করতে চান। এভাবেই ফিরে এল সিনেমার ‘মদত চেন’ বাস্তবের মাটিতে।

লকডাউনের জেরে প্রচণ্ড সমস্যায় পড়েছেন বাস চালক ও কন্ডাক্টররা প্রত্যেকেই। ‘দিন আনে দিন খায়’ যারা তাদের মধ্যে এই শ্রেণির মানুষ অনেকেই আছেন। রাজ্যে বেসরকারি বাস চলে প্রায় ৪২ হাজার। প্রতি বাসের সাথে কমপক্ষে গড়ে ২ জন করে যুক্ত আছেন। হিসেব বলছে প্রায় এক লক্ষ মানুষ এই পেশার সাথে যুক্ত। তাদের আয়ের ওপর যুক্ত থাকে তাদের পরিবারও। ফলে রোজগার না হওয়ায় ব্যাপক বিপাকে পড়েছে একটা বড় অংশ।

বনগাঁর বাসিন্দা উজ্জ্বল হালদার। স্ত্রী, দুই মেয়ে আর এক ছেলে নিয়ে তার সংসার। প্রায় ১৮ বছর ধরে বাস চালাচ্ছেন। এখন ২১৫ নম্বর রুটের বাস চালান। জনতা কারফিউ দিন থেকে আটকে পড়েছেন কলকাতায়। কোনও মতে চলছে খাবার জোগাড়। অসহায় উজ্জ্বল বাবু বলছেন, "মালিকরা কিছু কিছু টাকা পাঠিয়েছেন। যদিও সেই টাকায় তো আর সংসার চলবে না। ছেলে-মেয়ের পড়া চালানো হবে কি করে, তাই তো বুঝতে পারছিনা।"

একই অবস্থা শ্রীহরি গুছাইতের। উড়িষ্যার এই বাসিন্দা কলকাতায় বাস চালান ১৪ বছর ধরে। বাস চালিয়ে মাসে আয় হয় ১২ থেকে ১৪ হাজার। এখন সব বন্ধ। ফিরতে পারছেন না তিনি বাড়িতে। ফলে পরিবারের কাছে কোনও সাহায্য পাঠাতেও পারছেন না। তার কথায়, "সবই ভগবান জানেন, আমাদের কি যে হবে। এখন দু'বেলার ভাত জোগাড় করতে পারছিনা।" বাস শ্রমিকদের এই অসহায় অবস্থার কথা জানেন সংগঠনের নেতারাও। জয়েন্ট কাউন্সিল অফ বাস সিন্ডিকেটের সাধারণ সম্পাদক তপন বন্দোপাধ্যায় বলেন, "সাধ্যমতো মালিকরা চেষ্টা করছেন। কিন্তু তাদের তো হাত পা বাঁধা। ফলে কতদিন আর সেটা সম্ভব হবে বুঝতে পারছিনা।" একই সমস্যার কথা স্বীকার করছেন বাস মিনিবাস সমন্বয় কমিটির নেতা রাহুল চ্যাটার্জি। তিনি জানাচ্ছেন, আমরা রাজ্য সরকারকে চিঠি দিয়েছি। সাহায্য চাইছি। এত মানুষের জীবন বিপন্ন হয়ে আছে। এই বিপন্ন মানুষের সাহায্য পেতে তাই নিজেরাই ফোন করছেন একে অপরকে।

Abir Ghoshal

First published: April 17, 2020, 2:27 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर