corona virus btn
corona virus btn
Loading

গণপরিবহণ 'অচল’, বেনজির ছবি কলকাতা বিমানবন্দরে, নো-পার্কিং জোনেও দু’চাকা যানের 'মেলা' 

গণপরিবহণ 'অচল’, বেনজির ছবি কলকাতা বিমানবন্দরে, নো-পার্কিং জোনেও দু’চাকা যানের 'মেলা' 

বিমানবন্দরের মূল গেটে ঢোকা কিংবা বেরোনোর পথ লাগোয়া 'NO PARKING ZONE'-ই এখন সাইকেল-মোটর সাইকেলের অলিখিত পার্কিং জোনে পরিণত হয়েছে।

  • Share this:

#কলকাতা:- কথাতেই আছে, আকাশ-পাতাল পার্থক্য। বাস্তব ছবিটাও এখন তাই । আকাশে উড়ছে বিমান। তবে পাতাল পরিবহণ এখনও অচল। তবে শুধুমাত্র পাতাল পরিবহণই নয় ৷ মেট্রো, লোকাল ট্রেনের পাশাপাশি কার্যত 'অচল' বাস পরিষেবাও। আর এর প্রভাবে বেনজির ছবি কলকাতা বিমানবন্দরে।

গণপরিবহণ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ সচল না হওয়ায় প্রায় প্রতিদিনই অফিস যাত্রী থেকে সাধারণ যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছতে কালঘাম ছুটছে। কলকাতা শহরের উত্তর থেকে দক্ষিণে বাস দুর্ভোগের ছবি প্রতিদিনই সামনে আসছে। অফিস কাছারি খুলে যাওয়ায় রীতিমতো যুদ্ধ করে কর্মীদের কর্মস্থলে পৌঁছতে হচ্ছে। পর্যাপ্ত বাসের দেখা না মেলায় যাত্রীরা বাধ্য হচ্ছেন অতিরিক্ত খরচ করে গাড়ি ভাড়া করে কেউবা নিজেদের গন্তব্যে যাচ্ছেন নিজস্ব বাইক অথবা সাইকেল নিয়ে। পথের ক্লান্তি ভুলে প্যাডেলে পা।

পায়ের পেশিতে জোর দিয়েই গন্তব্যে পৌঁছে যাওয়া। করোনা আবহে সাইকেলই বর্তমানে মানুষের প্রধান বাহন হয়ে উঠেছে। সকালে শহরের রাস্তায় চোখ রাখলেই দেখা যাচ্ছে শয়ে শয়ে নিরুপায় সাইকেল আরোহী চলেছেন নিজেদের গন্তব্যস্থলে। সাইকেল চেপেই পেশার তাগিদে ছুটে যাচ্ছেন তিলোত্তমার এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে। ব্যতিক্রম নয় কলকাতার নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরও। যেখানে সাইকেল কিম্বা মটর বাইক চলাচলের ওপর ছিল নিষেধাজ্ঞা। সেখানেই আজ অবাধে চলছে সাইকেল, মোটর সাইকেল, স্কুটি।

চেনা বিমানবন্দরের ছবিটা কেমন যেন রাতারাতি অচেনা হয়ে উঠেছে। বিমানবন্দরের মূল গেটে ঢোকা কিংবা বেরোনোর পথ লাগোয়া  'NO  PARKING  ZONE'-ই এখন সাইকেল, মোটর সাইকেলের অলিখিত পার্কিং জোনে পরিণত হয়েছে। শয়ে শয়ে দু’চাকার যান মেলার চেহারা নিয়েছে বিমানবন্দর চত্বর। বিমানবন্দরে নজরে এল যাত্রী তথা কর্মীদের প্রবেশ- প্রস্থানের  3C, 3A, 3B-সহ একাধিক গেটের ঠিক সামনেই সাইকেল আর মোটরসাইকেল- স্কুটির ভিড়। যে ছবি এর আগে কখনও দেখা মেলেনি।

গণপরিবহণের সমস্যার কারণেই  অনেকেরই আজ ভরসার সঙ্গী সাইকেল- মোটরসাইকেল। বিমানবন্দরের কার্গো সার্ভিস কিংবা ট্রাফিক বিভাগ। গ্রাউন্ড সার্ভিস থেকে ট্রান্সপোর্ট বিভাগের  কর্মী, সাফাই কর্মী, বিভিন্ন খানাপিনার দোকান, রেস্তোরাঁ চালানো কর্মীরা অনেকেই আসেন দূর-দূরান্ত থেকে। বিভিন্ন বিমান সংস্থার কর্মী থেকে বিমানবন্দরের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সিআইএসএফের অনেক জওয়ানদেরও দেখা গেল সাইকেলে চেপে বিমানবন্দর চত্বরে প্রবেশ করতে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিমানবন্দরের কর্মীর কথায়,'যা অবস্থা তাতে চাকরি বাঁচাতে সাইকেলই ভরসা'। একজন বিমানযাত্রী তো আবার রসিকতার সুরে বললেও তাঁর আশঙ্কা, ‘‘হয়তো এমন দিন আসবে বিমান ধরতে বিমানবন্দরে আসতে হবে সাইকেল কিম্বা মোটরসাইকেলে চেপে।’’

অপর একজন প্রবীণ আকাশপথের যাত্রী বললেন, তিরিশ বছর ধরে যাতায়াত করছি। এই দৃশ্য কখনও দেখিনি। গেট থেকে বেরিয়েই ছবি দেখে প্রথমে ভেবেছিলাম সাইকেল- মোটর সাইকেল বিক্রির স্টল বসানো হয়েছে। পরে ভুল ভাঙল'।

 VENKATESWAR  LAHIRI 

Published by: Siddhartha Sarkar
First published: June 9, 2020, 9:36 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर