Oxygen Crisis: গত বছর থেকেই শিক্ষা! আকাল নয়, কেরলে উদ্বৃত্ত অক্সিজেন

Oxygen Crisis: গত বছর থেকেই শিক্ষা! আকাল নয়, কেরলে উদ্বৃত্ত অক্সিজেন

প্রতীকী ছবি৷

করোনার প্রথম ধাক্কার সময়ই কেরল সরকার বুঝতে পেরেছিল, ভবিষ্যতে ফের এমন সংকট তৈরি হলে চিকিৎসা ক্ষেত্রে ব্যবহৃত অক্সিজেনের সংকট দেখা দিতে পারে৷

  • Share this:

    #তিরুঅনন্তপুরম: গত বছরের করোনা অতিমারি থেকেই শিক্ষা নিয়েছিল কেরল৷ তাই বেশির ভাগ রাজ্যই যখন অক্সিজেন (Oxygen Crisis) পাওয়ার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের হস্তক্ষেপের উপরে নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে, কেরল তখন স্বাবলম্বী৷ কারণ গত বছর এপ্রিল মাসে যেখানে কেরলে মেডিক্যাল অক্সিজেন উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ৯৯.৩৯ মেট্রিক টন, সেখানে এ বছর তা বেড়ে হয়েছে ২১৯ মেট্রিক টন৷

    গত বছর গোটা দেশের মতো করোনার প্রথম ঢেউ আছড়ে পড়েছিল কেরলেও৷ আর তখনই কেরল সরকার বুঝতে পেরেছিল, ভবিষ্যতে ফের এমন সংকট তৈরি হলে চিকিৎসা ক্ষেত্রে ব্যবহৃত অক্সিজেনের সংকট দেখা দিতে পারে৷ সেই অনুযায়ী মেডিক্যাল অক্সিজেনের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং মজুত করার পরিকল্পনা তৈরি করতে শুরু করেছিল দক্ষিণের এই রাজ্যটি৷ আজ যখন দেশের একাধিক বড় বড় রাজ্য অক্সিজেনের সংকটে দিশেহারা, তখন অনেকটাই নিশ্চিন্ত কেরল৷ গত বছর কেরলে প্রতি মিনিটে অক্সিজেন উৎপাদন হত ৫০ লিটার করে৷ বর্তমানে তা বেড়ে হয়েছে প্রতি মিনিটে ১২৫০ লিটার৷ গত বছরের ২৩ মার্চ থেকে কেরলের স্বাস্থ্য দফতর এবং গোটা দেশে অক্সিজেন সরবরাহের পরিস্থিতির উপরে নজর রাখা কেন্দ্রীয় এজেন্সি PESO-র পরিকল্পনার ফলেই তা সম্ভব হয়েছে৷

    পেসো-র ডেপুটি চিফ কন্ট্রোলার আর বেণুুগোপাল জানিয়েছেন, সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা এবং যথাযথ পদক্ষেপের ফলেই এই সুফল পাওয়া গিয়েছে৷ তাঁর কথায়, 'কেন্দ্রীয় সরকারের এজেন্সি এবং রাজ্য সরকারের যৌথ প্রয়াসেই এমন অসাধারণ ফল পাওয়া সম্ভব৷ যাতে রোগীদের অক্সিজেনের চাহিদা সামাল দেওয়া সম্ভব হয়৷ কীভাবে অক্সিজেন উৎপাদন আরও বাড়ানো যায়, দু' তরফই সমানে সেই পথ খোঁজার চেষ্টা করে গিয়েছে৷ বিপিসিএল-এর কোচি পরিশোধনাগার থেকেই করোনার সময় যখন অক্সিজেনের চাহিদা তুঙ্গে ছিল তখন ২ মেট্রিক টন পর্যন্ত অক্সিজেন পাওয়া গিয়েছে৷ এবারেও তারা কেরলের সমস্ত মেডিক্যাল কলেজে বিনামূল্যে অক্সিজেন সরবরাহে তৈরি৷ ' একই ভাবে পালাক্কাড়ে আইনক্স প্ল্যান্টের ১৪৯ মেট্রিক টন অক্সিজেন উৎপাদনের ক্ষমতা রয়েছে৷ কেরল মিনারেলস অ্যান্ড মেটালস লিমিটেড গত নভেম্বর মাস থেকে অক্সিজেন উৎপাদন করছে৷ সেখান থেকেও ৭ মেট্রিক টন অক্সিজেন পায় কেরল৷

    রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন বলেন, 'আমরা কেরলের চিকিৎসা ক্ষেত্রের পরিকাঠামো অনেকটাই বাড়িয়ে নিতে পেরেছি৷ এই মুহূর্তে আমাদের রাজ্যে অক্সিজেনের চাহিদা ৭৪.২৫ মেট্রিক টন৷ আর আমরা ২১৯.২২ মেট্রিক টন অক্সিজেন উৎপাদন করছি৷ সব সরকারি হাসপাতালে কোভিড এবং সাধারণ রোগীদের জন্য মোট যে আইসিইউ বেড আছে, তার ৫০ শতাংশই এখনও খালি রয়েছে৷' গত জুন মাস থেকেই রাজ্যে দৈনিক অক্সিজেনের গড় চাহিদা হিসেব করেছে কেরল প্রশাসন৷ প্রতি হাসপাতাল পিছু এই হিসেব করা হয়েছে৷ আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত রাজ্যে ১০৩.৫১ মেট্রিক টন অক্সিজেন লাগতে পারে বলে হিসেব করা হয়েছে৷ তার চেয়ে অনেক বেশি পরিমাণ অক্সিজেন মজুত রয়েছে কেরলের হাতে৷

    পেসো, কেরল মেডিক্যাল সার্ভিস কর্পোরেশন, বিভিন্ন হাসপাতাল এবং অক্সিজেন সরবাহের সঙ্গে যুক্ত সংস্থাগুলির মধ্যে নিয়মিত বৈঠকও হয়৷ এই মুহূর্তে কেরলের ৩২টি হাসপাতালে ২ থেকে ৩০ মেট্রিক টন অক্সিজেন একসঙ্গে মজুত করে রাখার পরিকাঠামো রয়েছে৷ জরুরি প্রয়োজনে কোচিন শিপইয়ার্ড থেকেও অক্সিজেন পাওয়া সম্ভব৷ সেখানেও ২০ মেট্রিক টন অক্সিজেন উৎপাদিত হয়৷

    গত দু' তিন দিনে অক্সিজেনের চাহিদা কিছুটা বাড়লেও তাই সমস্যায় পড়েনি কেরল৷ উল্টে সেখান থেকে তামিলনাড়ু এবং কর্ণাটকে অক্সিজেন সরবরাহ করা হচ্ছে৷ কেরলের থেকে ২০ হাজার লিটার অক্সিজেন পেয়ে কেরলের স্বাস্থ্যমন্ত্রী কে কে শৈলজাকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেছেন গোয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রী বিশ্বজিৎ রানে৷ ফলে, মহারাষ্ট্র, দিল্লি, উত্তর প্রদেশ যখন অক্সিজেন সংকটে পর মুখাপেক্ষী, তখন পথ দেখাল সেই কেরল৷

    Published by:Debamoy Ghosh
    First published: