• Home
  • »
  • News
  • »
  • coronavirus-latest-news
  • »
  • EXCLUSIVE: গাণিতিক ফর্মুলা বলে দেবে ভারতের করোনার ভবিষ্যৎ? পথ দেখাচ্ছেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিতের অধ্যাপক

EXCLUSIVE: গাণিতিক ফর্মুলা বলে দেবে ভারতের করোনার ভবিষ্যৎ? পথ দেখাচ্ছেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিতের অধ্যাপক

মূলত ভারতে করোনার ভবিষ্যৎ কী, মৃত্যুর সংখ্যা কত হতে পারে? কবে থামতে পারে করোনার প্রকোপ? তারই গবেষণা অঙ্কের বা গণিতের মডেল এর মাধ্যমে করছেন এই অধ্যাপক।

মূলত ভারতে করোনার ভবিষ্যৎ কী, মৃত্যুর সংখ্যা কত হতে পারে? কবে থামতে পারে করোনার প্রকোপ? তারই গবেষণা অঙ্কের বা গণিতের মডেল এর মাধ্যমে করছেন এই অধ্যাপক।

মূলত ভারতে করোনার ভবিষ্যৎ কী, মৃত্যুর সংখ্যা কত হতে পারে? কবে থামতে পারে করোনার প্রকোপ? তারই গবেষণা অঙ্কের বা গণিতের মডেল এর মাধ্যমে করছেন এই অধ্যাপক।

  • Share this:

#কলকাতা: কোন বৈজ্ঞানিক গবেষণা নয়, সহজ সরল গণিতের ফর্মুলা ই এবার কি ভারতের করোনার ভবিষ্যৎ বলে দিতে চলেছে? এমনই সম্ভাবনা বাস্তবায়িত করার পথ দেখাচ্ছেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিতের অধ্যাপক নন্দদুলাল বৈরাগী। গণিতের মডেলকে ব্যবহার করেই ভারতের করোনার ভবিষ্যৎ নিয়ে গবেষণা করছেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের এই অধ্যাপক।

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের অধ্যাপকের গবেষণা বা প্রোজেক্টের ইতিমধ্যেই  অনুমোদন দিয়েছেন কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রক।মূলত ভারতে করোনার ভবিষ্যৎ কী, মৃত্যুর সংখ্যা কত হতে পারে? কবে থামতে পারে করোনার প্রকোপ? তারই গবেষণা অঙ্কের বা গণিতের মডেল এর মাধ্যমে করছেন এই অধ্যাপক। নিউজ এইট্টিন বাংলা কে অধ্যাপক নন্দদুলাল বৈরাগী জানাচ্ছেন "STOCHASTIC MODEL ও DETERMINISTIC MODEL এই দুই মডেল এর মাধ্যমে গবেষণার কাজ শুরু হয়েছে। প্রাথমিক গবেষণাতে উঠে এসেছে ভারত এখনও পর্যন্ত করোনা আক্রান্তের সর্বোচ্চ জায়গায় পৌঁছায়নি। মে মাসের শেষ দিকে বা জুন মাসের প্রথমদিকে সর্বোচ্চ গ্রাফ বা তালিকায় পৌঁছাবে ভারত। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী আমাদের এই প্রজেক্টকে ইতিমধ্যেই  অনুমোদন দিয়েছে। আমরা তথ্য বিশ্লেষণ করে তাড়াতাড়ি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রককে পাঠাবো।"

করোনাভাইরাস মোকাবিলার জন্য কেন্দ্রের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রকের অধীনে "সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং রিসার্চ বোর্ড" এপ্রিল মাসের গোড়াতেই একটি প্রস্তাব দিয়েছিল দেশে করোনাভাইরাস মোকাবিলার জন্য গাণিতিক ফর্মুলাতে একটি নির্দিষ্ট স্বচ্ছ ধারণা দেওয়ার জন্য। সেই প্রস্তাবে সাড়া দিয়ে দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে গবেষক ও অধ্যাপকরা একাধিক প্রস্তাব জমা দিয়েছিলেন। যার মধ্যে আইআইটি গুলির অধ্যাপকরাও সেই তালিকায় ছিলেন। কেন্দ্রের এই প্রস্তাবে সাড়া দিয়ে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের অধীনে 'সেন্টার ফর ম্যাথমেটিক্যাল বায়োলজি অন্ড ইকোলজির' অধ্যাপক নন্দদুলাল বৈরাগীর তত্ত্বাবধানে একটি নির্দিষ্ট প্রজেক্ট জমা দেওয়া হয়। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রক সেই প্রজেক্টকে অনুমোদন দিয়েছে। মূলত এই গবেষণার মাধ্যমে ভারতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা কত হতে পারে, মৃত্যুর সংখ্যা কত হতে পারে, কবে নাগাদ করোনা সংক্রমণের প্রকোপ কমতে পারে তার একটি গাণিতিক ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেই জানাচ্ছেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের এই অধ্যাপক।

এই গবেষণা সম্পর্কে বলতে গিয়ে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নন্দদুলাল বৈরাগী জানান " আমরা মূলত দুটি মডেল কে ব্যবহার করছি এই গবেষণার জন্য। গাণিতিক ভাষায় এই মডেল দুটিকে বলা হয় DETERMINISTIC MODEL  ও STOCHASTIC MODEL।" এই মডেল দুটিকে  ব্যবহার করার কারণ কি তার উত্তরে এই অধ্যাপক জানাচ্ছেন " আমাদের দেশে এখনো পর্যন্ত অনেকেই সংক্রমিত হয়ে আছেন  যাদের কোন উপসর্গ পাওয়া যাচ্ছে না। তাই তাদের সম্পর্কে কোন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। তাই আমরা এই অংশটিকে গুরুত্ব দিতে চাইছি কারণ আমরা জানতে চাইছি এই অংশটিতে থেকে কতটা পরিমানে অন্যান্যরা সংক্রমিত হচ্ছে। এক্ষেত্রে কতজন সংক্রমিত হয়ে আছে তার একটা নিশ্চয়তা তৈরি হয়ে আছে। তাই আমরা এই দুটো মডেল বিশেষত 'STOCHASTIC MODEL' এর দিকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি।"

তবে এই গবেষণার বিস্তারিত রিপোর্ট তথ্য বিশ্লেষণ করে যত শীঘ্রই সম্ভব কেন্দ্রকে দেওয়া হবে বলেই জানাচ্ছেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের এই অধ্যাপক। তিনি জানিয়েছেন "কেন্দ্রের তরফে এই আহবানটি জরুরী ভিত্তিতে ডাকা হয়েছিল। তাই আমরা চেষ্টা করছি এই গাণিতিক মডেল গুলিকে ব্যবহার করে কি ফলাফল পাওয়া যায় তার একটি রিপোর্ট কেন্দ্রকে দিতে তাড়াতাড়ি।" যদিও গাণিতিক এই মডেল গুলো ব্যবহার করে প্রাথমিক গবেষণার কাজ অনেকটাই সেরে ফেলেছেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিতের অধ্যাপক।

ভারতে এখনও পর্যন্ত করোনা আক্রান্তের গ্রাফ বা চিত্র তার সর্বোচ্চ জায়গায় পৌছায়নি বলেই গাণিতিক মডেল এ গবেষণা করে প্রাথমিকভাবে উঠে এসেছে এমনই তথ্য বলেই দাবি করছেন এই অধ্যাপক। তিনি জানাচ্ছেন " আমরা পশ্চিমের দেশগুলোতে দেখেছি তিন থেকে চার সপ্তাহ লকডাউন হলে তার একটা প্রভাব আক্রান্তের গ্রাফে দেখা গেছে। কিন্তু ভারতে একমাস হয়ে গেলেও আক্রান্তের এখনো সর্বোচ্চ গ্রাফে পৌঁছাতে পারিনি। এর কারণটা হলো আমাদের দেশে টেস্ট হয়নি এরকম আক্রান্তের সংখ্যা অনেকটাই বেশি। আমরা এটাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারছিনা এখনও। রেড জোন গুলিতে র‍্যানডম টেস্ট সেইভাবে করা হচ্ছে না অন্যান্য দেশের তুলনায়। তার জন্য এক মাসের বেশি হয়ে গেলেও আমরা এখনো সর্বোচ্চ গ্রাফে পৌঁছাতে পারিনি। আমাদের প্রাথমিক গবেষণাতে এমনই তথ্য উঠে এসেছে। আমাদের গবেষণার ধারণাকে উঠে এসেছে জুন মাসের প্রথম সপ্তাহের আগে অন্তত সর্বোচ্চ গ্রাফে আমরা পৌঁছাতে পারবো না।"

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের এই অধ্যাপকের গবেষণা নিয়ে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে চর্চাও আলোচনা। যদিও এই অধ্যাপকের পাশাপাশি দেশজুড়ে আর দশজন গণিতের অধ্যাপক গাণিতিক মডেল এর উপর ভারতের করোনা সংক্রমণের  ভবিষ্যৎ নিয়ে গবেষণা শুরু করেছেন।

Somraj Bandopadhyay

Published by:Elina Datta
First published: