corona virus btn
corona virus btn
Loading

লকডাউনে বাতিল পুরনো পেশা, পেট বাঁচাতে এখন মাছ-সবজি বিক্রি করছেন ওঁরা

লকডাউনে বাতিল পুরনো পেশা, পেট বাঁচাতে এখন মাছ-সবজি বিক্রি করছেন ওঁরা
জীবনের নিয়মকানুনগুলো আমূল বদলে গিয়েছে ওঁদের।

পুরনো পেশায় কবে ফেরত যাওয়া যাবে ওরা জানে না। কিন্তু আজ কোনও কাজ করতেই দ্বিধা নেই। টাকা নিয়ে ঘরে গেলে তবে চড়বে উনুন, জানেন সকলেই। আর খিদে তো লকডাউন মানে না।

  • Share this:

পেট বড় বালাই। দাঁতে দাঁত চেপে বাঁচার লড়াই। লকডাউন যেন জীবনটাই বদলে দিয়েছে। বাঁচতে কাজ ছেড়ে অনেকেই তাই অন্য পথে। অটোচালক বিক্রি করছেন সবজি।  রংমিস্ত্রি বিক্রি করছেন মাছ।

বাগুইহাটির বাসিন্দা বাবু হালদার। অন্যের স্বপ্নের দেয়ালে তিনি রং করতেন। লকডাউনের জেরে তার জীবনটাই এখন রঙ হারিয়েছে। লকডাউনের জেরে বাগুইআটির রংমিস্ত্রি বাবুর কোনও কাজ নেই। কিন্তু বাড়িতে তো অনেকগুলো পেট। পেট কি আর লকডাউন বোঝ? তাই সূর্য ওঠার অনেক আগেই উঠে পড়ছেন। কাকভোরে পৌঁছে যাচ্ছেন পাইকারি মাছের বাজারে। সেখান থেকে মাছ কিনে নিয়ে এসে ভাড়ার ভ্যানে করে পাড়ায় পাড়ায় মাছ বিক্রি চলছে। বাবু হালদারের এখন এটাই পেশা। মাছ কাটতে পারেন না। আশ ছাড়াতে পারেন না। কিন্তু জীবন বাধ্য করেছে। আস্তে আস্তে সব শিখে নিচ্ছেন। লকডাউন বাধ্য করেছে রংমিস্ত্রি বাবু হালদারকে  অটোর স্টিয়ারিং ছেড়ে মাছের দরে মন দিতে।

বাগুইআটির আরেক বাসিন্দা প্রদীপ অধিকারী। পেশায় ইলেকট্রিশিয়ান। লকডাউনে প্রদীপের কাজও বন্ধ। জীবনের প্রদীপটাকে জ্বালিয়ে রাখতে ইলেকট্রিশিয়ান প্রদীপকেও এখন মাছ বিক্রি করতে হচ্ছে।

সংসারের স্টিয়ারিং যাঁর হাতে, তাঁর হাতেই এখন কোনও কাজ নেই। জীবন এখন বড় এবড়োখেবড়ো রুটে। বাগুইআটির আরেক বাসিন্দা প্রবীর সর্দার পেটের জ্বালায় অটো ছেড়ে রাস্তার ধারে টেবিলে সবজি সাজিয়ে বসেছেন। যা আয় হচ্ছে তাতে কোনওরকমে ভাতটুকু জুটছে। ওই এলাকারই আরেক বাসিন্দা রতন হালদার। বাড়ি আদতে নদিয়ার রানাঘাটে। আগে ছিল শাড়ির ব্যবসা। কিন্তু সেখানে লোকসান হওয়ায় সব গুটিয়ে কেষ্টপুর এসে ফাস্টফুডের দোকান খোলেন কয়েক মাস আগে। বাড়ি ভাড়া নিয়ে থাকতে শুরু করেন। লকডাউনের জেরে সেই দোকানে তালা। অগত্যা দোকানের সামনে আলু, পেঁয়াজ নিয়ে বসেছেন রতন বাবু।

পুরনো পেশায় কবে ফেরত যাওয়া যাবে ওরা জানে না। কিন্তু আজ কোনও কাজ করতেই দ্বিধা নেই। টাকা নিয়ে ঘরে গেলে তবে চড়বে উনুন, জানেন সকলেই। আর খিদে তো লকডাউন মানে না।

Published by: Arka Deb
First published: April 21, 2020, 10:14 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर