corona virus btn
corona virus btn
Loading

হাতে আগ্নেয়াস্ত্র, পরনে জলপাই পোশাক, শহর সাক্ষী জওয়ানদের অন্য মুখের

হাতে আগ্নেয়াস্ত্র, পরনে জলপাই পোশাক, শহর সাক্ষী জওয়ানদের অন্য মুখের

করোনা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে সম্প্রতি শহরের এক কোভিড-স্পেশালিটি হাসপাতালে গিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। এমনই সময়ে কর্তব্যরত জওয়ানদের নজরে আসে হাসপাতালের পাশে ফুটপাতে শুয়ে কাতরাচ্ছে এক কিশোর।

  • Share this:

#কলকাতা: পরনে জলপাই রঙের পোশাক। হাতে স্বয়ংক্রিয় আগ্নেয়াস্ত্র। রাশভারী, গম্ভীর চেহারায় কাছে যেতেই দু'বার ভাবতে হয়। দশটা শব্দে প্রশ্ন করলে উত্তর আসে এক-দুই শব্দে। সীমান্তরক্ষা বাহিনীর জওয়ান বলে কথা! চেহারার সঙ্গে মানানসই ইস্পাত কঠিন মানসিকতা আর ঠান্ডা চাহনি।লকডাউনের কলকাতায় সীমান্তরক্ষা বাহিনীর অন্য এক ভাবমূর্তির সাক্ষী থাকল এই শহর। রাজ্যের করোনা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে শহরে এসেছেন কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দল (ইন্টার মিনিস্টিরিয়াল সেন্ট্রাল টিম)। আর এই প্রতিনিধি দলের সর্বক্ষণের সঙ্গী শহরের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা সীমান্ত রক্ষা বাহিনীর জওয়ানরা।

করোনা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে সম্প্রতি শহরের এক কোভিড-স্পেশালিটি হাসপাতালে গিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। এমনই সময়ে কর্তব্যরত জওয়ানদের নজরে আসে হাসপাতালের ফুটপাতে শুয়ে কাতরাচ্ছে এক কিশোর। খানিকটা কৌতূহলের বশে সেই কিশোরের কাছে ছুটে যান ইন্টার মিনিস্টারিয়াল সেন্ট্রাল টিমের সঙ্গে থাকা এক বাঙালি জওয়ান। নাম সুব্রত বসাক। কিশোরের সঙ্গে কথা বলতে বলতেই জওয়ান জানতে পারেন, গত তিনদিন ধরে সে ওই-ভাবেই হাসপাতালের সামনে ফুটপাতে পড়ে রয়েছে। চেতলার বাসিন্দা রাজকুমার পায়ে পচন নিয়ে দক্ষিণ কলকাতার ওই হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে এসেছিলেন। কিন্তু হাসপাতালটি কোভিড আক্রান্তদের চিকিৎসাকেন্দ্র হয়ে ওঠায় তাকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। তারপর থেকে হাসপাতাল লাগোয়া ফুটপাতেই পড়ে রয়েছে চেতলার ওই কিশোর। পথচলতি মানুষ, স্বাস্থ্যকর্মী, কর্তব্যরত পুলিশকর্মীদের নজর যে আসেননি তা নয়! কিন্তু করোনা নিয়ে সাম্প্রতিক বিপর্যয়ের মুখে, পরিস্থিতির চাপে কেউ সেই ভাবে এগিয়ে আসেননি।

কিশোরের মুখে সবটা শুনে উদ্যোগ নিলেন বিএসএফে কর্মরত বাঙ্গালী জওয়ান। সতীর্থদের সঙ্গে আলোচনা করে হাসপাতালের কর্তব্যরত পুলিশকর্মীদের নজরে আনেন বিষয়টি। সীমান্তরক্ষা বাহিনীর অনুরোধে এবার তৎপর হয়ে ওঠেন পুলিশ কর্মীরাও। খোঁজ শুরু হয় অ্যাম্বুল্যান্সের। পায়ে পচন নিয়ে তিন দিন দক্ষিণ কলকাতার ওই করোনা হাসপাতালের গেটে পড়ে থাকা যুবককে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় শহরের অন্য একটি হাসপাতালে।

জলপাই রঙের পোশাক, হাতে স্বয়ংক্রিয় আগ্নেয়াস্ত্র আর রাশভারী চেহারার মাঝেও কোথাও লুকিয়ে থাকে দরদী মন। হাসপাতালের গেটে তিন দিন অপেক্ষার পর জওয়ানদের উদ্যোগেই চিকিৎসা পেতে শুরু করল এই শহরেরই এক কিশোর। কে বলে মানবতা হারিয়ে গিয়েছে! আমার, আপনার শহরের আনাচে কানাচে এই মুখগুলো না থাকলে কবে থেমে যেত কলকাতার হৃদস্পন্দন!

PARADIP GHOSH 

First published: April 29, 2020, 8:26 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर