corona virus btn
corona virus btn
Loading

বিপদেও আশার আলো, মহারাষ্ট্রে প্রথম সম্পূর্ণ করোনামুক্ত এই হটস্পট...

বিপদেও আশার আলো, মহারাষ্ট্রে প্রথম সম্পূর্ণ করোনামুক্ত এই হটস্পট...
মাটি থেকে ১৩ ফুট বা চার মিটার উঁচুতেও বেঁচে থাকতে পারে করোনা ভাইরাস৷ চিনের গবেষকদের এই দাবি শুক্রবার আমেরিকার সেন্টার ফর ফিজিক্স অ্যান্ড প্রিভেনসন-এর পত্রিকা এমার্জিং ইনফেকশিয়াস ডিজিস-এ প্রকাশিত হয়েছে৷ PHOTO- FILE

ঘটনার সূত্রপাত ২৩ মার্চ। এলাকার একটি পরিবারের চারজন সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরেন।

  • Share this:

#ইসলামপুরঃ করোনা মোকাবিলায় লক ডাউনে দেশ। তারপরেও প্রতিদিন লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। রোখা যাচ্ছে না মৃত্যু মিছিল। স্বাস্থ্যমন্ত্রকের থেকে পাওয়া শেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে করোনায় মৃতের সংখ্যা ২৩৯। গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে মোট আক্রান্ত হয়েছেন ১০৩৫ জন। এই সংখ্যাটা এ যাবৎ কালের সবচেয়ে বেশি। এই ২৪ ঘণ্টাতেই মৃত্যু হয়েছে ৪০জনের। এই মুহূর্তকে দেশে মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৭৪৪৭। এই আবহেই আর কিছুক্ষণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বৈঠক করতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী দের সঙ্গে। স্থির হবে লকডাউনের মেয়াদ বাড়বে কি না, বাড়লেও নতুন শর্তাবলী কী হবে।

এত অনিশ্চয়তা, এত মৃত্যু, এত হাহাকারের মধ্যে কোথাও যেন স্বস্তির বার্তা দিল মহারাষ্ট্রের ইসলামপুর। মহারাষ্ট্রের প্রথম চিহ্নিত হটস্পট সাংলি জেলার ইসলামপুর সম্পূর্ণ করোনামুক্ত। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, ছোট্ট যে গ্রামে প্রায় দু-ডজন করোনা আক্রান্ত রোগী ছিলেন, সেই গ্রামকে আজ করোনা মুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। আর তার পুরোটাই সাধারণ মানুষের সচেতনতা আর সদিচ্ছার জন্য সম্ভব হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত ২৩ মার্চ। এলাকার একটি পরিবারের চারজন সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরেন। দেশে ফেরার পরই করোনায় আক্রান্ত হন তাঁরা। তার মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যেই পরিবারের আরও ২২ জন করোনা আক্রান্ত হন। তার মধ্যে ছিল ২ বছরের এক শিশুও। কিন্তু তারপর সেই আক্রান্তরা বিষয়টিকে আর চরিয়ে পড়তে দেননি। মারণ ভাইরাসের করাল গ্রাস থেকে গ্রামকে বাঁচাতে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন এলাকার সাধারণ মানুষও। সর্বক্ষণ তাঁদের সঙ্গে ছিল স্থানীয় প্রশাসন। আর তাতেই বাজিমাত। মাত্র দু'সপ্তাহের মধ্যের সম্পূর্ণ করোনা মুক্ত এই গ্রাম। শুক্রবার আক্রান্ত ২৪ জন্মের করোনা পরীক্ষায় প্রত্যেকের রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে।

কিন্তু কীভাবে সম্ভব হল গোটা কর্মকাণ্ড?

স্টানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, ২৩ মার্চ করোনা সংক্রমণের কোথা জানার পড়েই একটি র‍্যাপিড রেসপন্স টিম গঠন করা হয়। সেই দম ঐ পরিবারের সঙ্গে সংস্পর্শে কারা কারা এসেছেন তাঁদের খজ শুরু করে দেন কোনও সময় নষ্ট না করে। সেখান থেকেই শনাক্ত হয় হাই-রিস্ক এবং লো-রিস্ক সংস্পর্শে আসা লোকের তালিকা। সেখান থেকে জানদের প্রয়োজন তাঁদের আইসোলেশনে পাঠান হয়। বাকিদের বাড়িতে সম্পূর্ণ গৃহবন্দী থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। নিয়মিত সকলের করোনা পরীক্ষা করা হত। পাশাপাশি এলাকার চারপাশের এক কিলোমিটারের মধ্যে সকলের যাতায়াতে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল। আক্রান্ত এলাকা থেকে এই দু-সপ্তাহ কেউ বাইরে জানি, এলাকাতেও প্রবেশ করেননি কেউ। ফলে, আর কারও মধ্যে সংক্রমণ চরিয়ে পড়ার পরিস্থিতি তরটি হয়নি।

স্বাস্থ্য কর্তারা জানিয়েছে, প্রশাসন এবং চিকিৎসকদের নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছেন স্থানীয় মানুষ। আর তাতেই এসেছে এই সাফল্য। এই সময়ের মধ্যে প্রশাসনের তরফ থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় সব সামগ্রী মানুষের বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। প্রসঙ্গত, সাংলি জেলার ইসলামপুর গ্রামের জনবসতি ৭০০০। গ্রামে ঢোকার সাতা রাস্তা আছে। এই সাতা রাস্তাই সম্পূর্ণভাবে বন্ধও করে দেওয়া হয়েছিল। অর্থাৎ সিল করে দেওয়া হয়েছিল, শুধুমাত্র ওষুধের দোকানের ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হয়েছিল, জানিয়েছেন স্থানীয় এক স্বাস্থ্যকর্তা। আর তাতেই এসেছে এই সাফল্য।

Published by: Shubhagata Dey
First published: April 11, 2020, 12:55 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर