corona virus btn
corona virus btn
Loading

'আপাতত ঠিক আছি, কিন্তু আর কতদিন?'...জনমানব শূন্য রাস্তা, শুধু নজর রাখছে ড্রোন

'আপাতত ঠিক আছি, কিন্তু আর কতদিন?'...জনমানব শূন্য রাস্তা, শুধু নজর রাখছে ড্রোন

স্বামীর কর্মসূত্রে গত ছ’বছর ধরে ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার পারথের বাসিন্দা।

  • Share this:

#ইপ্সিতা মজুমদার, পারথঃ আমি একজন প্রবাসী বাঙালি। বর্তমান ঠিকানা পারথ, ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়া। স্বামীর কর্মসূত্রে গত ছ’বছর ধরে এদেশের বাসিন্দা। করোনা পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে আমাকে অনেকেই এখন জিজ্ঞেস করছেন, আমাদের এখানে পরিস্থিতি কেমন? আমরা ঠিক আছি তো? ‘আমরা কেমন আছি?’ এই প্রশ্নের হয়ত এখন একটাই উত্তর হয়- ‘আপাতত ঠিক আছি।’

আমাদের বার্ষিক দেশভ্রমনের উদ্দেশ্যে, আমরা এবছর দেশে যাই জানুয়ারি মাসের শেষের দিকে, ফিরয়েছি ফেব্রুয়ারি মাসের ২৩ তারিখে। যাওয়ার সময় ‘কভিড-১৯’- র একটু উড়ো উড়ো খবর কানে আসে। চিনে নাকি এই ভাইরাস ধরা পড়েছে। আমাদের যাওয়া আসা দুটোই ছিল ভায়া সিঙ্গাপুর। যাওয়ার সময় সিঙ্গাপুর এয়ারপোর্টে দেখলাম বেশ কিছু লোকজন মুখে মাস্ক পরে ঘুরছেন। ফেরার সময় মাস্ক কিনে পরে আবার যখন নামলাম সিঙ্গাপুর, দেখলাম- মাস্ক পরে লোকের সংখ্যাটা কমে গিয়েছে। শুধু ফ্লাইটে বোর্ড করার আগে অফিসাররা জিজ্ঞেস করছেন গত চোদ্দ দিনে আমরা মেইনল্যান্ড-চায়নাতে গিয়েছিলাম কিনা। আমরা ভাবলাম যাক তাহলে আমরা বিপদমুক্ত।

অস্ট্রেলিয়া তখনও স্বাভাবিক। স্কুল, অফিস, কফিশপ, পার্টি, হই হুল্লোড় সব যে যার নিজের মত। শুধু আলোচনায় ফাঁক-ফোকর দিয়ে ঢুকে পড়ছে কভিড-১৯। মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহ, তেমন কিছু পরিবর্তন নজরে পড়েনি, শুধু এটা ছাড়া যে হঠাৎ করে সব জায়গায় হ্যান্ড-স্যানিটাইজার এবং টয়লেট-রোল শেষ হয়ে যাচ্ছে। খবর পেলাম, কুইন্সল্যান্ডে একজন ইরানীয় ভদ্রমহিলা পার্লারে কাজ করেন, তিনি আক্রান্ত। ব্যাস শুরু। তারপর একে একে ঐ মহিলা পার্লারকর্মীর থেকে যারা যারা পরিষেবা নিয়েছেন, তাদেরও খুঁজতে শুরু করল প্রশাসন। ৭ মার্চে অস্ট্রেলিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যাটা ছিল ৭১, মৃত ২। সেই প্রথম অস্ট্রেলিয়াকে দেখলাম একটু জেগে উঠতে। কিছু কিছু অফিসে ওয়ার্ক-ফ্রম-হোম ঘোষণা করল। তারপর যেকোনও সময় লক-ডাউন হতে পারে ভেবে, লোকেদের প্যানিক শুরু হতেই শপিং করার একটা ধুম জাগল। আর তাতেই গ্রসারি চেন গুলো প্রয়োজনীয় দ্রব্য জোগান দিতে হিমসিম অবস্থায় পড়ল।

লক ডাউনের আশঙ্কায় সব থেকে বেশি আকাল পড়ল টয়লেট রোলের। যে রোলটা এমনি সময় ১০$ দাম, সেটাই তখন ব্ল্যাকে বিক্রি হচ্ছিল ১১০$। সকালে না গেলে সবজি, মাংস, মাছ, দুধ পাওয়া যাচ্ছে না।চাল, ডাল, আটা পাওয়া যাচ্ছে না।কিন্তু বাকি সব স্বাভাবিক। অর্থাৎ, চুল কাটার স্যালন, বিউটি পার্লার, স্কুল খোলা। বিচে লোকেদের ভীড়। এমনকি, বর্ডার লক-ডাউন হয়নি। ফলত, অবাধে ইউরোপ সহ পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লোকজনরা আসছে। ফলস্বরূপ, সেই সংখ্যাটা আজকে ৯ এপ্রিলে ৬,০৮৯, মৃত ৫০। ঠিক একমাসে আক্রান্ত ৬,০১৮।

অস্ট্রেলিয়ার মোট জনসংখ্যা ২৬ কোটি, যেখানে ভারতের ১৩৩ কোটি। ভারতের এখন আক্রান্তর সংখ্যাটা ৫,৭৩৪। কীভাবে এই অসম্ভব সম্ভব হল? তার কারণ, আপনাদের মত এদেশের লোকজনরাও ভাবছিল, ভারতের জনসংখ্যা এত বেশি বলেই লাফালাফি করছে, আমাদের কিছু হবে না। এই ‘আমাদের কিছু হবে না’ মনোভাবটাই এখন মহামারীর কারণ। ভারতে যখন বর্ডার লকডাউন, তারপর কমপ্লিট লকডাউন ঘোষণা করেছে, অস্ট্রেলিয়া তখনও নড়েচড়ে বসেনি।

এখন এখানেও সবাই আতঙ্কিত। অনির্দিষ্টকালের জন্য লক-ডাউন চলছে। অত্যাবশ্যক জিনিস কিনতেই বাইরে বেরোনো যায়। রাস্তায় একসাথে দু’জনের বেশি লোক দেখলে ফাইন বাবদ দিতে হতে পারে ১০০০-৫০,০০০ ডলার। আমার বাড়ির বাইরে প্রায় দেখা যায় ড্রোন। আমরাও ঘরবন্দি।ঠিক আপনাদের মতই, আমাদেরও ‘কিচ্ছু ভালো লাগছে না’।

তবু বলব আপনারা ভালো আছেন, কারণ, আপনারা আপনাদের প্রিয়জনদের কাছে আছেন।কিন্তু, আমাদের মত কিছু ঘরপোড়া গরুদের এখন প্রতিদিন এক অজানা আতঙ্কে দিন কাটছে। আমাদের বাবা-মায়েরা, পরিবার সবাই ভাল আছে তো? তারা ভাল থাকবে তো? কাল যদি তাঁদের কিছু হয় আমরা তো যেতেও পারব না। এই ভয়টাই আমাদের গ্রাস করছে। দিল্লী থেকে যে হাজার হাজার পরিযায়ীরা বাড়ির উদ্দেশ্যে হাঁটা লাগিয়েছিল, তাদের আমরা অনুভব করতে পারি। কিন্তু, আমাদের তো সেই উপায়ও নেই। ‘আমার ঘরের চাবি, পরেরই হাতে’। শুধু চাই, সেই হাতটা এইভাবেই শক্ত থাকুক। এই কঠিন সময়ে নিজেদের, পরিবারের এবং অন্যদের পরিবারের জন্যও সচেতন হন। ঘরে থাকুন, সুস্থ থাকুন।’

ইপ্সিতা মজুমদার কর্মসূত্রে ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার পারথের বাসিন্দা। 

Published by: Shubhagata Dey
First published: April 9, 2020, 5:13 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर