• Home
  • »
  • News
  • »
  • coronavirus-latest-news
  • »
  • ‘‘বিশ্বের সর্ব শক্তিমান, উন্নততম দেশ আমেরিকা যা করল, আমার ভারত যেন সেই ভুল না করে’’

‘‘বিশ্বের সর্ব শক্তিমান, উন্নততম দেশ আমেরিকা যা করল, আমার ভারত যেন সেই ভুল না করে’’

চোখের সামনে দেখতে পেলাম কী ভুল করল ওঁরা । পরিস্থিতিকে হাল্কা ভাবে নেওয়ার মাশুল এখন গুণতে হচ্ছে আমেরিকাকে। বিশ্বের সর্ব শক্তিধর দেশ এখন মৃতদেহের ভারে ধুঁকছে । দেশে থাকা প্রিয় মানুষগুলোর জন্য বড্ড চিন্তা হয় । আর প্রার্থনা করি আমার দেশ যে এমন ভুল না করে । বস্টন থেকে কলম ধরলেন সেঁজুতি সেন ।

চোখের সামনে দেখতে পেলাম কী ভুল করল ওঁরা । পরিস্থিতিকে হাল্কা ভাবে নেওয়ার মাশুল এখন গুণতে হচ্ছে আমেরিকাকে। বিশ্বের সর্ব শক্তিধর দেশ এখন মৃতদেহের ভারে ধুঁকছে । দেশে থাকা প্রিয় মানুষগুলোর জন্য বড্ড চিন্তা হয় । আর প্রার্থনা করি আমার দেশ যে এমন ভুল না করে । বস্টন থেকে কলম ধরলেন সেঁজুতি সেন ।

চোখের সামনে দেখতে পেলাম কী ভুল করল ওঁরা । পরিস্থিতিকে হাল্কা ভাবে নেওয়ার মাশুল এখন গুণতে হচ্ছে আমেরিকাকে। বিশ্বের সর্ব শক্তিধর দেশ এখন মৃতদেহের ভারে ধুঁকছে । দেশে থাকা প্রিয় মানুষগুলোর জন্য বড্ড চিন্তা হয় । আর প্রার্থনা করি আমার দেশ যে এমন ভুল না করে । বস্টন থেকে কলম ধরলেন সেঁজুতি সেন ।

  • Share this:

    #বস্টন: দুনিয়ার অন্যান্য তাবড় তাবড় দেশের মতো আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের জনজীবন ও বিপর্যস্ত COVID-19 এর জন্য । বর্তমানে আমি ম্যাসাচুসেটস-এর বাসিন্দা । এখানকার প্রায় ১৯ হাজার মানুষ করোনা আক্রান্ত, মৃত পাঁচশোর বেশি । এই প্রদেশের পার্শ্ববর্তী নিউ ইয়র্ক প্রদেশের অবস্থা আরও ভয়াবহ। গোটা আমেরিকার আক্রান্তের সংখ্যা ৫ লক্ষ ছাড়িয়েছে। ফেব্রুারির শেষ থেকে আমেরিকার উত্তর পশ্চিমে ওয়াশিংটনে COVID-19 ছড়িয়ে পড়ার খবর আসতে শুরু করে । পূর্ব উপকূলের এই প্রদেশ বা অন্যান্য আরও প্রদেশের জনজীবন তখনও পর্যন্ত স্বাভাবিকই ছিল । কিন্তু সেই পরিস্থিতি বেশিদিন স্থায়ী হয়নি । এখানকার মানুষ চরম ভুলটা করল তখনই । উদাসীনতার শ্রেষ্ঠ নিদর্শন দেখাল আমেরিকা । নিয়ম না মেনে, যথেচ্ছ জমায়েত করে, ক্লাব-বার-পাবে গিয়ে আড্ডা মেরে দেখিয়ে দিল কতটা নির্বোধ তাঁরা । আসলে ভাইরাস যে কী আমেরিকা, কী অ্যামাজন.... কউকেই রেয়াত করবে না তা বুঝতে অনেক দেরি করে ফেলল এখানকার মানুষ । অথচ ততদিনে ‘Stay At Home’ অ্যাডভাইসারি জারি করে ফেলেছে রাষ্ট্র । সেটা ২৩ মার্চের কথা । তবে এখানে ভারতের মতো লকডাউন এখনও হয়নি। এমনকি এই মৃত্যুমিছিলের পরেও নয়। তবে আমরা যে ম্যাসাচুস্টেস-এ থাকি সেখানে ৩০ মার্চ থেকে ইমার্জেন্সি ঘোষণা করে। স্কুলগুলোও ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়। সে কারণেই এই স্টেটে এখনও মৃত্যু বা আক্রান্তের হার তুলনায় একটু কম । তবে এখনও আন্তঃরাজ্য বিমান পরিষেবা সম্পূর্ণ সচল রয়েছে । বন্ধ হয়নি কোনও সীমান্তও।

     পার্ক বন্ধ । তাই বাড়ির সামনের লনেই খেলছে বাচ্চারা ।
    পার্ক বন্ধ । তাই বাড়ির সামনের লনেই খেলছে বাচ্চারা ।

    সাধারণ মানুষের মধ্যে যে সচেতনতার অভাব ছিল এখন তা একটু একটু করে বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে । কিন্তু এখন সুপারমার্কেট গুলোতে না আছে স্যানিটাইজার, না আছে মাস্ক, নেই টয়লেট রোল, পেপার টাওয়েলও । জন প্রতি মাত্র দু’টো করে জলের প্যাকেট বরাদ্দ । এখন এখানে প্রয়োজন ছাড়া কেউ বাড়ি থেকে বেরচ্ছেন না । জরুরি পরিষেবা দেয় না এমন অফিস, দোকান সবই এখন বন্ধ । রেস্তোরাঁতে শুধুমাত্র Take Away বা Home Delivery পরিষেবা পাওয়া যাচ্ছে । আমরা প্রায় ৪০দিন হল বাড়িতেই আছি। ৪ মে পর্যন্ত এখানে বাড়িতে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। খাদ্যদ্রব্য এখানে মোটামুটি সবই পাওয়া যাচ্ছে । এছাড়া এখানে অনলাইনেও কেনাকাটার সুযোগ রয়েছে ।কিন্তু মুশকিল হল,ডেলিভারি ডেট ফাঁকা পাওয়া যাচ্ছে না । ভাবতেও অবাক লাগে এই সব পেয়েছির দেশেও নাকি নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের আকাল ।

     ফাঁকা রেস্তোরাঁ ।
    ফাঁকা রেস্তোরাঁ ।

    বাড়ি থেকে বেরনো একেবারেই বন্ধ । দেশ থেকে দূরে আছি, তাই স্বাভাবিকভাবেই ওখানকার প্রিয় মানুষদের জন্য খুব চিন্তা হচ্ছে । বাড়িতে খুবই একঘেয়ে লাগছে। কিন্তু এটাই এখন একমাত্র উপায় নিজেকে এই ছোঁয়াচে মারণ রোগ থেকে বাঁচিয়ে রাখার। সচেতনতা আর সাবধানতা ছাড়া এই রোগকে পরাজিত করা সম্ভব নয়। অপেক্ষা করে রয়েছি আবার সবকিছু স্বাভাবিক হওয়ার । ভারতেও এই মুহূর্তে লকডাউন চলছে । আমার পরিচিত সকলকে অনুরোধ করছি বাড়ি থেকে না বেরনোর । মাথাায় রাখতে হবে লকডাউন মানার সুফল বা না মানার কুফল দু’টোই আমাদের ভোগ করতে হবে । আবার দেশে ফিরতে চাই আমরা । মনের মধ্যে থাকা প্রিয় মানুষগুলোকে আবার চোখের সামনে দেখতে চাই । পাহাড়ে চড়তে চাই, সমুদ্রের ধারে বসে আকাশের তারা গুণতে চাই...সব অসুখের পর সেরে ওঠা এই পৃথিবীর বুকে আবার স্বপ্নরা বেঁচে উঠুক।

    ছবি: লেখিকার সৌজন্যে

    Published by:Simli Raha
    First published: