• Home
  • »
  • News
  • »
  • coronavirus-latest-news
  • »
  • লকডাউনে দিন আনা দিন খাওয়া ৪০টি পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন উলুবেড়িয়ার স্কুল শিক্ষিকা !

লকডাউনে দিন আনা দিন খাওয়া ৪০টি পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন উলুবেড়িয়ার স্কুল শিক্ষিকা !

বৃহস্পতিবার  ৪০ টি পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয় এই সমস্ত সামগ্রী।

বৃহস্পতিবার ৪০ টি পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয় এই সমস্ত সামগ্রী।

বৃহস্পতিবার ৪০ টি পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয় এই সমস্ত সামগ্রী।

  • Share this:

#হাওড়া: রহমান,সাকিম,ইসরাফিল—ওদের কেউ রিক্সা চালান,কেউবা কাজ করেন করেন স্থানীয় জুটমিলে আবার বা ফেরিওয়ালার কাজ করে নুন আনতে পান্তা ফুরানোর সংসারে কোনওভাবে অন্ন সংস্থান করেন।করোনা মোকাবিলায় দেশজুড়ে ২১ দিনের 'লকডাউন' কার্যত মাথায় বজ্রপাত ফেলেছে উলুবেড়িয়ার ফতেপুরের ব্যাঙ্কপাড়ার দিন আনা দিন খাওয়া এই পরিবারগুলিতে।প্রাত্যহিক রোজগার হঠাৎই বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কপালে চিন্তার ভাঁজ—কীভাবে পরিবারের অন্ন সংস্থান হবে!এই ভাবনায় যখন রাতের ঘুম উড়েছে; ঠিক তখনই এই প্রান্তিক পরিবারগুলির পাশে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলেন উলুবেড়িয়ার কালীনগর নিউ সেট আপ জুনিয়র গার্লস হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা সাবিনা খান |  সবাই যখন সকাল বিকাল দোকান বাজারে নিনের ভাড়ার ভরাতে লকডাউন আইন ভাঙছে ঠিক তখনই নিজের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে করোনা সমস্যার মোকাবিলায় নেমেছেন । প্রধানমন্ত্রী 'লকডাউন' ঘোষণা করার পরেই মানুষরা কিভাবে নিজেদের পেট ভরাবে তা নিয়ে যখন ব্যস্ত ঠিক সেই দিনই সাবিনা তাঁর পারিবারিক বৈঠকে ঠিক করেন তারাও বাজার করবেন এবং অনেক বাজার তবে তা নিজেদের জন্য না, দিন আনা দিন খাওয়া মানুষ গুলোর জন্য |

সাবিনা দেবী তাঁর আত্মীয়দের কাছেও সাহায্যের আবেদন করেন।  সকলে এগিয়ে আসেন। তারপর অঙ্কের দিদিমনি কোষে ফেললেন হিসেবে নিকেশ, শুরু হলো খাদ্য সামগ্রী সংগ্রহ , সামগ্রী কিনে এনে রাত জেগে প্যাকিং করে সকাল হতেই ভ্যান রিক্সায় চাপিয়ে পরিবারের সদস্যদের সাথে পৌঁছে গেলেন অসহায় মানুষদের পশে। ওই সমস্ত প্রান্তিক মানুষের দ্বারে গিয়ে তুলে দেন চাল,ডাল,তেল,হলুদ,চিনি,নুন,চা সহ বিভিন্ন সামগ্রী। সাবিনা দেবীর কোথায় ২২ তারিখের লক ডাউনের পরের দিন নিজের কাজে যাওয়ার সময় এক রিক্সা চালক সেদিনের তাদের দুঃদশার কথা জানিয়েছিলেন সেই কথা গুলো সেদিন প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের সময় হটাৎ করেই মনে পরে গিয়েছিলো, তাই আর কোনো দিকে না তাকিয়ে মনের ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলাম পরিবারের কাছে, তখন ভাবিনি পরিবারের সকলকে এই ভাবে পশে পাবো |  এই সংকটময় পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে দিন আনা দিন খাওয়া মানুষগুলোর কষ্ট সত্যিই অনুভব করি।তাই প্রাথমিকভাবে আমাদের এই সমবেত পারিবারিক প্রচেষ্টা। বৃহস্পতিবার প্রায় ৪০ টি পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয় এই সমস্ত সামগ্রী। সাবিনাদের মতো সমাজসচেতন মানুষের হাত ধরেই বিপর্যয়ে ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম   অসহায় পরিবারগুলি। দেশের এই কঠিন পরিস্থিতে সাবিনার যেন আড়ালে থাকা হিরো | খাওয়ার সামগ্রী দেওয়ার পাস পাশি শেখালেন সামাজিক দূরত্ব তৈরির পাঠও, যা আজ সমাজে বড়ো সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে |

DEBASHISH CHAKRABORTY

Published by:Piya Banerjee
First published: