স্কুলে মাস্ক আর দূরত্ববিধিতে জোর দিলেই সংক্রমণ রোখা যাবে, বলছে সমীক্ষা!

স্কুলে মাস্ক পরা ও শারীরিক দূরত্ব বজায়

এখনও দেশে স্কুল না খুললেও সে মর্মে কী পদক্ষেপ করা যেতে পারে, তা বুঝে নেওয়া যায় এই সমীক্ষার রিপোর্ট থেকে।

  • Share this:

#নয়াদিল্লি: একটা কথা সবার আগে স্পষ্ট না করে নিলেই নয়! এই যে সমীক্ষার কথা তুলে ধরা হবে, সেটা কিন্তু এই দেশে পরিচালিত হয়নি। পরিচালিত হয়েছে মিসিসিপি, নর্থ ক্যারোলিনা এবং উইসকনসিনের মতো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন জায়গায়। সমীক্ষাটি পরিচালিত হয়েছে ইউএস সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের গবেষকদের দ্বারা। তা হলে এটা নিয়ে আলোচনার অর্থ কী?

নিঃসন্দেহেই ভারতের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক অবস্থানের প্রসঙ্গ এক্ষেত্রে উঠে আসে। স্বীকার করে নিতে হয় যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সুযেোগ-সুবিধার দিক থেকে প্রথম সারিতে থাকলেও ভারত আদতে তৃতীয় বিশ্বের দেশ, এর জনসংখ্যাও প্রচুর! কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে স্কুল থেকে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে যেভাবে রেকর্ড হারে করোনা সংক্রমিত হয়েছিল একসময়ে, তেমনটা কিন্তু ভারতে হয়নি। ফলে, এখনও দেশে স্কুল না খুললেও সে মর্মে কী পদক্ষেপ করা যেতে পারে, তা বুঝে নেওয়া যায় এই সমীক্ষার রিপোর্ট থেকে।

আরও পড়ুন করোনায় আরও এক চিকি‍ৎসকের মৃত্যু কলকাতায়, শোকের ছায়া চিকিৎসক মহলে

জার্নাল অফ দ্য আমেরিকান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনে তাদের সমীক্ষা নিয়ে সাফ জানিয়ে দিয়েছে ইউএস সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন- আপাতত স্কুল থেকে ব্যাপক হারে করোনা সংক্রমণের নমুনা খুব একটা দেখা যাচ্ছে না। গবেষকরা লক্ষ্য করে দেখেছেন যে এক্ষেত্রে মারণ ভাইরাসকে ঠেকিয়ে রাখতে ঢাল হিসেবে কাজে আসছে শেষ পর্যন্ত প্রাথমিক স্বাস্থ্যবিধি। তাঁরা বলছেন, স্কুল যদি প্রতিটি ছাত্রছাত্রীর ফেস মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক ঘোষণা করে, যদি শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে ছাত্রছাত্রীদের বসার ব্যবস্থা করা যায়, যদি স্যানিটাইজেশনের যথাযথ সুযোগসুবিধা থাকে, তা হলে পড়ুয়ারা অনেকটাই নিরাপদে থাকতে পারবে।

তবে এই প্রসঙ্গে স্কুলের একটি দায়িত্ব নিয়েও আলোচনা করেছে ইউএস সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন। বলছে যে যদি স্কুলে উপসর্গহীন রোগীকে সনাক্ত করার কাজটি সেরে ফেলে যায় এবং সেই লক্ষ্যে তাকে আলাদা রাখা যায়, তাহলেও গণসংক্রমণের ভয় থাকে না। অবশ্য ইনডোর গেমের মতো অ্যাক্টিভিটিকে যে এক্ষেত্রে প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না, সেটাও সাফ জানিয়েছেন গবেষকরা।

এর আগে প্রকাশিত নানা সমীক্ষা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়েছে যে স্কুল থেকে বিতরণ হওয়া স্টাডি মেটেরিয়াল না পাওয়ায় দেশের অভাবী ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনা যথেষ্টই বিঘ্নিত হয়েছে ২০২০ সালে। সেই দিকটি এবং পাশাপাশি সমীক্ষার রিপোর্ট মাথায় রেখে দেশে স্কুল খোলার কথা ভাবা যায় কি?

Published by:Pooja Basu
First published: