corona virus btn
corona virus btn
Loading

সাবধান...সমাজসেবীদের দেওয়া খাবারে 'বিষ' মিশছে মানুষের শরীরে! সে হিসেব রাখছে কে?

সাবধান...সমাজসেবীদের দেওয়া খাবারে 'বিষ' মিশছে মানুষের শরীরে! সে হিসেব রাখছে কে?

সারা পশ্চিমবঙ্গে একইভাবে প্লাস্টিকে করে খাবার দেওয়ার ঘটনা প্রতিদিনই চোখে পড়ছে। সরকারের নানা ভাবে প্রচার করা সত্ত্বেও ,নিষিদ্ধ প্লাস্টিক এখনও ব্যবহার হচ্ছে। যেখানে মানুষের দেহের রোগ প্রতিরোধের প্রশ্ন আসছে প্রতিমুহূর্তে। রোগপ্রতিরোধের ক্ষমতা বাড়ানোর কথা বলা হচ্ছে। সেখানে এই প্লাস্টিক ব্যবহারের ফলে বিসফেনল-এ মানুষের দেহে ঢুকছে।

  • Share this:

#কলকাতা:  ভুখ হরতাল করা মানুষেরা এখন ভুখা হরতাল করতেও ভয় পাবেন। কারণ খাদ্যের সংকট রয়েছে। খাদ্যের সংকট বলাটা বোধহয় কিছুটা ভুল হবে। কারণ খেটে খাওয়া মানুষগুলোর হাতে খাবার কেনার টাকা নেই। আর এই সময় বেশ কিছু মানুষ, বেশ কিছু সংস্থা প্রতিদিন ক্ষুধার্ত মানুষ গুলোকে খাবার দিয়ে যাচ্ছে। নিরন্ন মানুষগুলো দুবেলা সেই খেয়ে বেঁচে আছে। এবং দাবি করছে ,এখনো বেঁচে আছি।

বেলা একটা। কলকাতার সেন্ট্রাল এভিনিউ এর ওপর দাঁড়িয়ে। মেডিক্যাল কলেজের ট্রপিক্যাল মেডিসিনের গেটের সামনে। ছোট্ট একটি ছেলে এবং মেয়ে। যাদের স্থান ফুটপাত। দুপুরবেলা কারও কাছ থেকে খাবার নিয়ে ফিরছে প্লাস্টিকের প্যাকেটে। বাচ্চা মেয়েটির বয়স ছয় বা সাত বছর। সঙ্গী দাদার বয়স ১০।  কী খাবার নিয়ে যাচ্ছে? জিজ্ঞাসা করতেই ছোট্ট মেয়ে মুন্নির লাজুক উত্তর , ভাত ডাল সবজি। গরম গরম খাবার। হাতে চারটি প্যাকেট। বাবা-মা আর দুই ভাই-বোনের জন্য। তবে এই শিশুটি পলিথিনের ব্যাগে করে গরম খাবার নিয়ে যাচ্ছে। সে তো জানে না, তার খাবারের মধ্যে বিষ মিশছে!অপরাধ কার?

 লকডাউন এর পর থেকে প্রান্তিক শ্রেণীর মানুষেরা দুবেলা-দুমুঠো খাবারের জন্য ত্রাণের নাম শুনলেই লাইন দিয়ে দাঁড়াচ্ছে। বিশেষ করে যারা রান্না করা খাবার দিচ্ছেন ,বেশিরভাগের ক্ষেত্রেই অন্ন দাতারা নির্দিষ্ট নিয়ম বিধি মানছে না।  ছোট্ট শিশুটি যে প্লাস্টিকের প্যাকেটের মধ্যে করে খাবার নিয়ে যাচ্ছে, সেই খাবারে বিসফেনল-এ মিশছে। যেহেতু শিশুরা কিংবা মানুষ এই সময় অর্থের অভাবে পুষ্টিকর খাবার পাচ্ছেন না। তাই এইভাবে খাবার নিচ্ছেন তারা৷ আর শরীরে ঢুকছে বিষ!

বিসফেনল দেহে চরম বিপদ ঘটায়।শিশুদের মস্তিষ্কের বিকাশ থেকে আরম্ভ করে লিভারের ক্ষতি করে এই রাসায়নিক।এটাকে টাইপ ২ কারসিনোজেন বলা হয়। যার ফলে মানব দেহে ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।  এই বিষয়ে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ ও বায়োকেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এর গবেষক ডক্টর প্রশান্ত বিশ্বাস বলেন, ' খাবারের জন্য ত্রিশ মাইক্রোনের বেশি প্লাস্টিক ব্যবহার করা উচিত। সেই প্লাস্টিক যাতে খাদ্যে ব্যবহারের উপযোগী হয়।যেহেতু গরম খাবার দেওয়া হচ্ছে সেহেতু প্লাস্টিক বা পলিথিন ব্যবহার না করাটাই ভালো।'

শুধু এই মুন্নি নয় সারা পশ্চিমবঙ্গে একইভাবে প্লাস্টিকে করে খাবার দেওয়ার ঘটনা প্রতিদিনই চোখে পড়ছে। সরকারের নানা ভাবে প্রচার করা সত্ত্বেও ,নিষিদ্ধ প্লাস্টিক এখনও ব্যবহার হচ্ছে। যেখানে মানুষের দেহের রোগ প্রতিরোধের প্রশ্ন আসছে প্রতিমুহূর্তে। রোগপ্রতিরোধের ক্ষমতা বাড়ানোর কথা বলা হচ্ছে। সেখানে এই প্লাস্টিক ব্যবহারের ফলে  বিসফেনল-এ মানুষের দেহে ঢুকছে। তাতে আদতে ক্ষতি এই মানব জাতির। সেই দিকটা সাবধান হতে পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।  এখন আর কেউ ভুক হরতাল করছেন না। কারণ লকডাউন ফলে, কেউ সেটা ভাঙাতে আসবেন না। মানুষের ডাকা হরতালের থেকে, করণায় লকডাউন অনেক বেশি সফল। তবুও মানুষের মধ্যে সতর্কতার অভাব এবং অন্যের প্রতি দায়িত্বশীলতার অভাব রয়েই যাচ্ছে।

Published by: Pooja Basu
First published: April 28, 2020, 12:17 AM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर