করোনা ভাইরাস

corona virus btn
corona virus btn
Loading

৩ মে লকডাউন তুলে দিলে দেশে আসবে করোনা সংক্রমণের মারণ ঢেউ, জেনে নিন বিশেষজ্ঞের মত

৩ মে লকডাউন তুলে দিলে দেশে আসবে করোনা সংক্রমণের মারণ ঢেউ, জেনে নিন বিশেষজ্ঞের মত
Photo- Representive

হঠাৎ সকডাউন তুলে নিলে সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ হবে মারাত্মক

  • Share this:

#নয়াদিল্লি : করোনা ভাইরাস সংক্রমণে এই মুহূর্তে সারা দেশে আক্রান্ত ২৯,৪৩৫, মৃত ৯৩৪৷ এই অবস্থায় দ্বিতীয় পর্বের লকডাউনের মেয়াদ ৩ মে অবধি রয়েছে ৷ এই লকডাউন পর্বে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ নিয়ন্ত্রিতভাবে হচ্ছে একাধিকবারে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রক ৷ কিন্তু দেশের অর্থনীতির চাকা একেবারে থমকে আছে এই লকডাউন পর্বে ৷ তবে কি ৩ মে -র পর লকডাউন তুলে নিলে করোনা অতিমারির সংক্রমণ ভয়াবহ আকার নেবে ৷ এই সন্দেহকে উসকে দেলেন দেশের একেবার প্রথম সারির এপিডেমোলজিস্ট ৷

Life Course Epidemiology at Public Health Foundation of India-র প্রধান ও চিকিৎসক ডক্টর গিরিধর আর বাবু  জানিয়েছেন যদি লকডাউন এখনি তুলে দেওয়া হয় তাহলে যে করোনা আক্রান্তদের এখনও চিহ্নিত করা যায়নি তাদের মধ্যে দিয়ে সারা ভারতে করনো অতিমারি সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ আঘাত করবে ৷

লকডাউন উঠে গেলে ভারত কোন অবস্থার মধ্যে দিয়ে যাবে, আক্রান্তের সংখ্যায় কি প্রচন্ড বৃদ্ধি হবে ? 

এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে পরিস্থিতি আলাদা হবে ৷ যারা সংক্রমণের চেন আটকাতে পেরেছেন ও ভালো স্বাস্থ্য পরিষেবা আছে তাদের অবস্থা একটু ভালো হবে ৷ এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যেই লোকজন যাওয়া শুরু হবে সঙ্গে সঙ্গে যে জায়গা সংক্রমণের থেকে বাইরে আছে সেখানেও সংক্রমণ ছড়িয়ে যাবে ৷ কড়া নজরাদির রাজ্যগুলির প্রধান কাজ হবে ৷ কেসের সংখ্যা নিশ্চিতভাবে প্রচুর বাড়বে ৷ যদি প্রথমেই সেই রোগিদের চিনে নেওয়া যায় তাহলে পরিস্থিতি আয়ত্তের মধ্যে থাকবে ৷

ভারতের স্বাস্থ্য পরিষেবায় কোভিড ১৯ অতিমারির কী প্রভাব পড়েছে ?

যদি আমরা শিক্ষা নিতে পারি তাহলে এই অতিমারির সময় সারা ভারতের স্বাস্থ্য পরিষেবায় ব্যাপক রদবদল হয়েছে ৷ এই মুহূর্তে জনস্বাস্থ্যকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে ৷ তবে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করলেই সব কিছু হয়ে যাবে ভাবাটা ভুল হচ্ছে ৷ স্বাস্থ্য সম্পর্কে চেতনা বাড়াতে হচ্ছে ৷ এই স্বাস্থ্য পরিষেবার জটিলতার জন্য এখন শুধুমাত্র পাব্লিক হেলথ সেক্টর দেশকে বাঁচাতে পারে ৷ পাবলিক চিকিৎসা পরিষেবাদানকারী, চিকিৎসক , স্বাস্থ্যকর্মীরা বড় ভূমিকা নিতে পারে ৷ তাদেরকে এই মুহূ্র্তে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনর সমান পারিশ্রমিক দেওয়া উচিত৷ পাশাপাশি সকলকে উন্নতমানের ট্রেনিং , প্রাইমারি স্বাস্থকর্মীর সংখ্যা বৃদ্ধি ও মোবাইল হাসপাতাল বাড়াতে হবে ৷

কোন কোন রাজ্য এই করোনা ভাইরাস সংক্রমণে ভালো কাজ করছে বলে আপনারা মনে হয়েছে? 

কেরল এই তালিকায় নিশ্চিতভাবেই সবচেয়ে আগে রয়েছে ৷ কেরলের রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর ত্রিস্তরীয় টাস্কফোর্স তৈরি করেছে ৷  জানুয়ারির ৩০ তারিখ থেকে এরা সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, মাস্কের ব্যবহার শুরু করেছে ৷ কোভিড ১৯ স্ক্রিনিংয়ের ক্ষেত্রেও এরা খুব ভালো কাজ করেছে ৷ মিজোরাম, মণিপুর, গোয়া, অরুণাচল প্রদেশ, পন্ডিচেরি কেস চিহ্নিতকরণ খুব দ্রুত করেছে ৷ সমস্ত দক্ষিণী রাজ্য ও হরিয়ানা লকডাউন ভালো করে প্রয়োগ করছে ৷ কর্ণাটক করোনা ওয়ারিয়র্স তৈরি করেছে যারা সারা রাজ্যে পরিষেবার কাজ করছে ৷

এই মুহূর্তে টেস্টিং ও পজিটিভিটি রেট গুজরাত ও পশ্চিমবঙ্গে খুব ভয়ের জায়গায় রয়েছে ৷ এই দুটি রাজ্যেই ভয়াবহতা বেশ বেশি ৷ এদিকে কেস চিহ্নিতকরণের কাজ খুব একটা এগোচ্ছে না ৷ তার মানে পর্যবেক্ষক দল ঠিক করে কাজ করছে না ৷ মধ্যপ্রদেশ ভালো কাজ করছে ৷ এখন সেখানে দ্রুত করোনা অ্যাক্টিভ কেস চিহ্নিত হচ্ছে ৷ মারণ প্রভাব কমানোর ক্ষেত্রে পঞ্জাবের কাজ ভালো ৷ তবে বিহারের অবস্থা ভালো নয় ৷ সেখানে চিহ্নিত না হওয়া প্রচুর হটস্পট রয়েছে ৷ যেটা কাঙ্খিত তাতে সমান্তরাল V আকৃতি দরকার, যাতে টেস্টিং বাড়াতে হবে মারণ ক্ষমতা কমাতে হবে ঠিক যেমনটা কেরলে হয়েছে ৷ সমস্ত দক্ষিণী রাজ্য, হরিয়ানা, রাজস্থানে যা হয়েছে৷

     
Published by: Debalina Datta
First published: April 28, 2020, 1:05 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर