করোনা ভাইরাস

corona virus btn
corona virus btn
Loading

করোনা পরীক্ষাকেন্দ্র তৈরির জন্য চরম লাঞ্ছনার শিকার, কীটনাশক খেয়ে আত্মঘাতী স্বাস্থ্যকর্মী

করোনা পরীক্ষাকেন্দ্র তৈরির জন্য চরম লাঞ্ছনার শিকার, কীটনাশক খেয়ে আত্মঘাতী স্বাস্থ্যকর্মী
দেবাশিস চক্রবর্তী

মৃত্যুর আগে লিখে রাখা তিন পাতার বয়ানে করোনা মোকাবিলার কাজ করতে গিয়ে নিজের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা লিখে গিয়েছেন জলপাইগুড়ি জেলা স্বাস্থ্য দফতরের ঘুঘু ডাঙ্গা সাবসেন্টারের সুপারভাইজার পদে কর্তব্যরত দেবাশীষ চক্রবর্তী।

  • Share this:

#জলপাইগুড়িঃ করোনা যুদ্ধে সামনের সাড়িতে দাঁড়িয়ে লড়াই চালিয়ে যাওয়া স্বাস্থ্যকর্মীদের সমস্ত রকমের সহযোগিতার কথা বলছে সরকার । কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতিটা ঠিক কী ! তা স্পষ্ট হল জলপাইগুড়ির ঘটনায় ।

সহকর্মী তথা আধিকারিকদের থেকে সামান্য সহযোগিতা না পেয়ে অপমানে, অভিমানে আত্মঘাতী হলেন এক স্বাস্থ্যকর্মী । মৃত্যুর আগে লিখে রাখা তিন পাতার বয়ানে করোনা মোকাবিলার কাজ করতে গিয়ে নিজের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা লিখে গিয়েছেন জলপাইগুড়ি জেলা স্বাস্থ্য দফতরের ঘুঘু ডাঙ্গা সাবসেন্টারের সুপারভাইজার পদে কর্তব্যরত দেবাশিস চক্রবর্তী (৫৯) । দফতরে এবং এলাকায় দায়িত্ববান কর্মী হিসেবে জেলার স্বাস্থ্য কর্মী মহলে পরিচিত ছিলেন তিনি । অগস্ট মাসে অবসর নিতেন তিনি। তার আগেই অপ্রত্যাশিত এই ঘটনায় শোকস্তব্ধ স্বাস্থ্যকর্মীরা। এমনকি ক্ষোভ তৈরি হয়েছে স্বাস্থ্যকর্মী মহলে । এই মর্মে বৃহস্পতিবার জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক রমেন্দ্র নাথ প্রামানিককে ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখান জেলার বিভিন্ন প্রান্তে করোনা মোকাবিলার কাজে কর্মরত স্বাস্থ্য কর্মীরা । অভিযুক্তদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তারা ।

সুইসাইড নোটে ওই স্বাস্থ্যকর্মী লেখেন, সরকারি নির্দেশে গ্রামে লালারস সংগ্রহের জন্য জায়গা চিহ্নিত করতে গিয়ে গ্রামবাসীদের কাছ থেকে চরম হেনস্থার শিকার হতে হয়েছে তাঁকে । ঘটনার পেছনে এক চিকিৎসক এবং কয়েকজন স্বাস্থ্য কর্মীর ইন্ধন ছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি। মৃতের ভাই জয়ন্তকুমার চক্রবর্তী জানান, সরকারি নির্দেশ মেনে ঘুঘুডাঙ্গা গ্রামে লালারস সংগ্রহ কেন্দ্রের জন্য যায়গা চিহ্নিত করছিলেন দাদা । তাতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন বেশ কয়েকজন গ্রামবাসী । হেনস্থার শিকার হতে হয়।সহকর্মীদের কাছ থেকে সহযোগিতা তো পাননি, উল্টে তাঁদের ইন্ধনে গোটা ঘটনা ঘটেছে জানতে পেরে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন ।

স্ত্রী রাখী চক্রবর্তী জানান, মঙ্গলবার কাজ থেকে ফেরার পর নিজের ঘরে চলে যান দেবাশীষ বা বু। ঘরে ঢুকে লিখতে বসে যান তিনি । রাতে ক্ষিধে নেই বলে আর খাননি । বুধবার সকালে বেলা করে ঘুম থেকে ওঠেন । মৃতের স্ত্রী  জানান, ঘুম থেকে ওঠার পর থেকে অসংলগ্ন লাগছিল তাঁকে । এরপর  হঠাৎ কুয়োর পারে গিয়ে কুয়োয় ঝাঁপ দেন । চিৎকার শুনে ছুটে আসেন প্রতিবেশীরা । তাঁকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আগেই কীটনাশক খেয়ে নিয়ে ছিলেন তিনি ।

জলপাইগুড়ি সদর ব্লকে কর্তব্যরত স্বাস্থ্যকর্মী প্রসেনজিৎ লালা জানান, গ্রামের মানুষের সঙ্গে সুসম্পর্ক ছিল তাঁর। করোনা মোকাবিলায় প্রথম দিন থেকেই পুরোদমে কাজ করছিলেন । জানা গিয়েছে, জেলার প্রতিটি সাব সেন্টার এলাকায় একটি করে কোভিড টেস্ট সেন্টার করার পরিকল্পনা নেয় জেলা স্বাস্থ্য দফতর। গ্রামের কোন জায়গায় করলে সব মানুষের পথে পরীক্ষা করাতে আসতে সুবিধা হবে সেই জায়গা চিহ্নিত করে জানাতে বলা হয় দেবাশিস চক্রবর্তীকে । স্বাস্থ্যকর্মীদের একাংশের অভিযোগ, গ্রামে যাতে কোভিড টেস্ট সেন্টার না হয় তার জন্য স্থানীয় প্রাথমিক চিকিৎসা কেন্দ্রের চিকিৎসকের প্ররোচনায় স্বাস্থ্যর্মীদের একাংশ গ্রামবাসীদের ক্ষেপিয়ে তোলেন। এর ফলে তাঁকে চরম  অপমানিত হতে হয় । তা মানতে পারেননি তিনি।

জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক রমেন্দ্র নাথ প্রামানিক জানান, অত্যন্ত দুঃখ জনক ঘটনা । পুলিশ ঘটনার তদন্ত করছে । তিনপাতার একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার হয়েছে। সেই সুইসাইড নোটের ভিত্তিতে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে ।

তথ্য এবং ছবিঃ শান্তনু কর।

Published by: Shubhagata Dey
First published: May 15, 2020, 11:48 AM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर