৩৫-এর চাল দু'দিনেই ৪২, করোনা পরিস্থিতি জটিল হওয়ার আশঙ্কায় ঘরে চাল-ডাল-আলু মজুতের হিড়িক

৩৫-এর চাল দু'দিনেই ৪২,  করোনা পরিস্থিতি জটিল হওয়ার আশঙ্কায় ঘরে চাল-ডাল-আলু মজুতের হিড়িক

কেউ কেউ এক মাসের চাল, ডাল, তেল, চিনি, আলু, পেঁয়াজ, বিস্কুট, মুড়ি, চিড়ে ঘরে তুলে রাখছেন।

  • Share this:

#বর্ধমানঃ করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে প্রধানমন্ত্রী ২২ মার্চ জনতা কারফিউ-য়ের ডাক দিয়েছেন। জরুরি কাজ ছাড়া দেশবাসীকে ঘরের বাইরে পা না রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। তাতেই আতঙ্কিত সাধারণ মানুষ। এই কার্ফু লাগাতার চলবে, বাজার হাট বন্ধ করে দেওয়া হবে, এমন রটনা শুরু হয়েছে বর্ধমানে। অনেকেই সেই পরিস্থিতি হতে পারে আঁচ করে চাল-ডাল-তেল-আলু মজুত করা শুরু করে দিয়েছেন। তাঁর তাঁর সুযোগ নিয়ে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী চাল থেকে আলু, সবেরই দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। যদিও জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, এমন আশঙ্কার কোনও কারণ নেই। কালোবাজারি করা হলে তা কড়া হাতে মোকাবিলা করার জন্য তৈরি রয়েছে টাস্ক ফোর্স। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালাচ্ছে টাস্ক ফোর্সের সদস্যরা।

মারণ ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে বন্ধ বিশ্ববিদ্যালয়, স্কুল কলেজ-সহ সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। বন্ধ খেলা, মেলা বয়া কোনও ধরনের জমায়েত। বন্ধ করা হতে পারে শপিং মলও। এমতাবস্থায় পরিস্থিতি আরও জটিল হলে সরকার বাজার-হাটও বন্ধ করে দিতে পারে এই আশঙ্কায় বর্ধমানে অনেকেই প্রয়োজনের খাদ্য সামগ্রী মজুত করতে শুরু করেছেন। কেউ কেউ এক মাসের চাল, ডাল, তেল, চিনি, আলু, পেঁয়াজ, বিস্কুট, মুড়ি, চিড়ে ঘরে তুলে রাখছেন। তাঁর দেখাদেখি খাদ্য সামগ্রী তুলছেন অন্যরাও। বৃহস্পতিবারের পর শুক্রবার তা রীতিমত হিড়িকে পরিনত হয়েছে বলে অভিযোগ  স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই।

দেশ জুড়ে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। কলকাতাতেও লন্ডন ফেরত দু'জনের দেহে করোনা ভাইরাসের উপস্থিতির প্রমাণ মিলেছে। তাদের মধ্য দিয়ে আরও অনেকের সংক্রমণের আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। বর্ধমানের রানিগঞ্জ বাজার, তেঁতুলতলা বাজারের মুদিখানা দোকানের ব্যবসায়ীরা বলছেন, অনেকেই বেশ কিছুদিনের বাজার সারছেন। গত দু-একদিনে বিক্রি হঠাৎই বেড়ে গিয়েছে। সাধারণত মাস পয়লায় মাসকাবারি কেনাকাটার একটা চাপ থাকে। অনেকেই এখন বেতন ঢুকলেই সারা মাসের প্রয়োজনের সামগ্রী তুলে নেন। কিন্তু তৃতীয় সপ্তাহে এই হিড়িক দেখা যায় না। করোনা সংক্রমণের আশঙ্কায় এই পরিস্থিতি।

ক্রেতারা বলছেন, হতেই পারে করোনা রুখতে শপিংমল, বাজার সরকারকে বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিতে হল। তখন খাবার পাব কোথায়! বিদেশে তো অনেকেই গৃহবন্দি হয়ে রয়েছেন। এখানেও সেই পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আগে সচেতন অনেকেই খাবার মজুত রাখছেন। আর এই সুযোগে জিনিসের দাম বাড়াতে সক্রিয় অসাধুচক্র। বাসিন্দারা বলছেন, এখন আলু ওঠার ভরা মরশুম। দাম কমার কথা। ১৪ টাকা থেকে গত দু'দিনে আলুর দাম বেড়ে ১৬ টাকায় এসেছে। আরও দাম বাড়বে বলছে বিক্রেতারা। ৩৭ টাকা কেজির মিনিকিট চালও কেজি প্রতি ৪১ আবার কথাও ৪২  টাকায় বিক্রি হচ্ছে।  জেলা প্রশাসনের দাবি, গুজব বা রটনায় কান না দিয়ে সচেতন থাকুক বাসিন্দারা। কেউ গুজব রটিয়ে কালোবাজারি করতে চাইলে তাদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেবে টাস্ক ফোর্স।

Saradindu Ghosh

First published: March 20, 2020, 3:42 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर