corona virus btn
corona virus btn
Loading

খিদেয় জ্বলছে শরীর! হেঁটেই চারদিনে শিলিগুড়ি থেকে বারাসাত পৌছলেন ওঁরা

খিদেয় জ্বলছে শরীর! হেঁটেই চারদিনে শিলিগুড়ি থেকে বারাসাত পৌছলেন ওঁরা
কুড়ি জনের দল হাঁটা শুরু করেছিল। বারাসাত এসে পৌঁছলেন তিনজন। নিজস্ব চিত্র

গোটা ভারত জুড়ে পায়ে হেঁটে বাড়ি ফেরার যাত্রায় থাকা পরিযায়ী শ্রমিকদের কাছে রেড জোন, গ্রিন জোন বলে কিছু নেই। শুধু খিদের তাড়না বলে দেয়, ধড়ে এখনও প্রাণ রয়েছে। আর মনের জোরই সম্বল।

  • Share this:

#বারাসাত: চার দিন আগে শিলিগুড়ি থেকে হাঁটা শুরু করেন জনা ২০ যুবক।গন্তব্য হাওড়ার বাগনান।পথে আসতে আসতে এখন তাঁরা ছত্রভঙ্গ। একে অন্যের খোঁজও জানেন না।

বাগনান অঞ্চলের এই নির্মাণ শ্রমিকরা গত এক মাস ধরে লকডাউনে আটকে ছিলেন শিলিগুড়িতে।প্রথম দিকে ঠিকাদার খাওয়াদাওয়া দিচ্ছিলেন। দিন ১৫ আগে সে সবও বন্ধ করে দিয়েছে।হাতের পয়সা শেষ হতেই রেশনের জন্য বাগডোগরায় স্থানীয় বিডিও-এর দ্বারস্থ হয়েছিলেন তাঁরা। সেখানে কোনও সাহায্য না পেয়ে শেষ পুঁজিটুকু দিয়েই দিন গুজরান করছিলেন। কিন্তু পরিস্থিতি এমন দাঁড়ায়, পকেটে কানাকড়িও নেই, নেই জমানো খাবারও। অগত্যা প্রাণটুকু রাখতেই হাঁটাই পথ।

তাই দিন চারেক আগে আগে বাগডোগড়া থেকে রওনা দেন তাঁরা। গন্তব্য হাওড়ার বাগনান। ৩৪ নং জাতীয় সড়ক ধরে হাঁটতে হাঁটতে এই দলের কয়েকজন বারাসাত পৌছে যান। কলোনি মোড়ে যখন পৌঁছেছেন শরীর ভেঙে পড়ছে। রাস্তায় মানুষের দেখা পেয়ে নিরূপায় লোকগুলি খাবার চাইতে শুরু করে। জানতে চায় আরও কতদূর যেতে হবে।

এই দলেরই একজন, কৌশিক পাল বলেন, "নিরুপায় হয়ে তারা হাঁটা শুরু করেছি।পথে কোথাও কোথাও পুলিশ খাবার খাইয়ে হাতে পয়সাও গুঁজে দিয়েছে। এর মধ্য বহরমপুরের পর এক ট্রাকচালক কে অনুনয় করেছিলাম। তিনি কিছুটা পথ গাড়িতে করে এসেছেন। বহু বন্ধু পথে দলছুট হয়ে গিয়েছে।"

বারাসাত কলোনি মোড়ে এদিন তাঁদের দেখে এগিয়ে আসেন স্থানীয় দুই যুবক। মিস্টি, জল ও বিস্কুট তুলে দেন শান্তনু ও প্রসন্ন। কৌশিক পাল জানাচ্ছেন,"পথে কোথাও পুলিশ তাদের আটকায়নি।বরং এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছে।" অন্য দিকে, মঙ্গলবার ভোর চারটের সময় সায়ন্স সিটি থেকে সাত শ্রমিক হাঁটা শুরু করেন ডালখোলার উদ্দেশ্য। তাঁদেরও সমস্যা সেই বাগডোগড়ার শ্রমিকদের মতোই। ঠিকাদার থাকার জায়গা দিচ্ছে কিন্তু খাবার দিচ্ছেন না।একমাসের লক ডাউনে হাতের পয়সা শেষ।তাই ভোর হতে রওনা বাড়ির দিকে। অবশ্যই হাঁটা পথে। তারাও বারাসাত কলোনী মোড়ে কৃষ্ণনগরগামী কোন ট্রাক পাওয়া যায় কিনা তার খোঁজ করতে দাঁড়ায়। নিরন্ন মানুষ দেখে প্রসন্ন-শান্তনু জুটি এবারও বিস্কুট আর জল তুলে দেন ওঁদের হাতে।

গোটা ভারত জুড়ে পায়ে হেঁটে বাড়ি ফেরার যাত্রায় থাকা পরিযায়ী শ্রমিকদের কাছে রেড জোন, গ্রিন জোন বলে কিছু নেই। শুধু খিদের তাড়না বলে দেয়, ধড়ে এখনও প্রাণ রয়েছে। আর মনের জোরই সম্বল।

First published: April 29, 2020, 10:05 AM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर