corona virus btn
corona virus btn
Loading

ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী কলকাতা, 'করোনা যোদ্ধাদের' মনোবল বাড়াতে বায়ুসেনার পুষ্পবৃষ্টি

ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী কলকাতা, 'করোনা যোদ্ধাদের' মনোবল বাড়াতে বায়ুসেনার পুষ্পবৃষ্টি
কলকাতায় বায়ুসেনার কপ্টার থেকে পুষ্পবৃষ্টি৷

ঘড়িতে তখন ঠিক সকাল দশটা। দেশের তেইশটি জায়গায় পুষ্পবৃষ্টির তালিকায় নাম ছিল কলকাতার রাজারহাটের করোনা হাসপাতাল এবং আলিপুরের কমান্ড হাসপাতালের।

  • Share this:

#কলকাতা :  করোনা ভাইরাসের  সঙ্গে লড়াইয়ে এক্কেবারে সামনের সারিতে রয়েছেন চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা। এ ছাড়াও মাঠে নেমেছেন পুলিশ-প্রশাসনের কর্তা-আধিকারিক-কর্মীরা। রয়েছেন সেনা জওয়ান এবং সাংবাদিকরাও।

করোনাভাইরাসের এই যোদ্ধাদের অভিবাদন ও কৃতজ্ঞতা জানাতে  পুষ্পবৃষ্টি-সহ অন্যান্য কর্মসূচি শুক্রবার ঘোষণা করেছিলেন চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ (সিডিএস) বিপিন রাওয়াত ও ভারতীয় সেনার তিন বাহিনীর প্রধানরা। সেই ঘোষণা মতো ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকল শহর কলকাতাও। ভারতীয় সেনার এই অভিনব উদ্যোগ নিসন্দেহে করোনা যোদ্ধাদের বাড়তি মনোবল জোগাবে বলেই মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

ভারতের প্রাক্তন সেনাপ্রধান জেনারেল শঙ্কর রায়চৌধুরী এক সাক্ষাৎকারে বলেন, 'বর্তমান পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনীর এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে করোনা যোদ্ধাদের বাড়তি অক্সিজেন জোগাবে। সেই সঙ্গে মনোবলও বাড়াবে। তবে করোনা বিপদকে কাবু করার জন্য  যখন  লকডাউনই  একমাত্র পথ, তখন লকডাউনকে কার্যকর করতে কলকাতা এবং পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের  প্রশংসা করে জেনারেল শঙ্কর রায়চৌধুরী এও বলেন, সকলেরই লকডাউন মেনে চলা উচিত। মানুষের আরও সচেতন হওয়া উচিত৷'

প্রাক্তন সেনাকর্তা ব্রিগেডিয়ার প্রবীর স্যানালের  কথায়, 'বর্তমান সময়ে যেখানে করোনা  চিকিৎসার জন্য কোনও রকম ভ্যাকসিন বা ওষুধ বের হয়নি, সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে চিকিৎসক এবং চিকিৎসাকর্মীরা যেভাবে নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে একেবারে সামনে থেকে রোগীদের সুস্থ করে তোলার কাজে ব্রতী হয়েছেন, তা এককথায় নজিরবিহীন। তাই আমি মনে করি ভারতীয় সেনা যেভাবে সম্মান জানাল তা তাঁদের প্রাপ্য৷'

কলকাতার বেসরকারি হাসপাতালে দুই চিকিৎসক  অরিন্দম বিশ্বাস এবং জয়দীপ ঘোষ সেনাবাহিনীর  সম্মান জানানো প্রসঙ্গে বলেন, একদিকে যখন লকডাউন পালন করাতে গিয়ে নিগৃহীত হতে হচ্ছে পুলিশকে, চিকিৎসা সংক্রান্ত বিষয়ে  রোগীর পরিবারের লোকজনের হাতে মার খেতে হচ্ছে চিকিৎসকদের, সেই সময় আমাদের গর্বের সেনাবাহিনী যেভাবে আমাদের সহ অন্যান্য করোনা যোদ্ধাদের  উদ্দেশে আজ কুর্নিশ জানাল তা আমাদেরও মনোবল যে অনেকটাই বাড়াল তা নিশ্চিতভাবেই বলা যায়।

গত ২২ মার্চ জনতা কার্ফুর দিন প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সন্ধ্যাবেলা হাততালি দিয়ে, থালা বাজিয়ে করোনার বিরুদ্ধে লড়াই করা চিকিৎসক-নার্স-স্বাস্থ্যকর্মী, পুলিশ, সাংবাদিকদের অভিবাদন জানিয়েছিল গোটা দেশ। তার পর পাঁচ এপ্রিল বারান্দায় বেরিয়ে মোমবাতি-প্রদীপ জ্বেলে একই ভাবে করোনা-যোদ্ধাদের উৎসাহ বাড়াতে আর্জি জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। তাতেও সামিল হয়েছিলেন ভারতবাসী। আর এবার সেনাবাহিনীর তরফ থেকে করোনা  যোদ্ধাদের  কুর্নিশ জানাতে পুষ্পবৃষ্টি  কার্যত জীবন বাজি রেখে করোনার সঙ্গে যারা লড়াই করে চলা যোদ্ধাদের মনোবল অনেকটাই বাড়াবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞ মহল।

ঘড়ির কাঁটা তখন দশটা  ছুঁইছুঁই। এর কিছুক্ষণ আগে থেকেই রাজারহাটের চিত্তরঞ্জন ন্যাশনাল ক্যান্সার ইনস্টিটিউটের করোনা হাসপাতালের উপরে আকাশের চারিদিকে তখন চক্কর কাটছে বায়ুসেনার হেলিকপ্টার। কর্তব্যরত পুলিশকর্মী থেকে  শুরু করে হাসপাতালের স্বাস্থ্যকর্মীদের চোখ তখন সবারই আকাশের দিকে। ঘড়িতে তখন ঠিক সকাল দশটা। দেশের তেইশটি জায়গায় পুষ্পবৃষ্টির তালিকায় নাম ছিল কলকাতার রাজারহাটের এই করোনা হাসপাতাল এবং আলিপুরের কমান্ড হাসপাতালের। হাসপাতালকে মধ্যমণি করে তখন বায়ু সেনার হেলিকপ্টার চক্কর কাটছে রাজারহাটের আকাশে। অবশেষে এল সেই কাঙ্খিত সময়। একদিকে চলছে হেলিকপ্টার থেকে পুষ্পবৃষ্টি আর অন্যদিকে তখন হাসপাতালের কর্মীদের উচ্ছ্বাস। যেন মনে হলো করোনা জয়ের উচ্ছ্বাস সকলের চোখে মুখে। হাততালি দিয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে তাঁরাও  বায়ুসেনাকে জানাল অভিবাদন।

হাসপাতাল চত্ত্বর তখন ফুলের পাপড়িতে ঢেকেছে। তবে শুধু হাসপাতল চত্ত্বরে হাজির হওয়ারাই  শুধু নন, আশেপাশের অনেক বহুতলের বারান্দা থেকেও এদিন দেখা গেল অনেককেই এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হয়েছেন। সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টারের দিকে  দু' হাত নেড়ে তাঁরাও সেনাকে সেলাম জানালেন। সব মিলিয়ে বায়ুসেনার এই অভিনব উদ্যোগ যেন   সবাইকে এক সুতোয় বেঁধে দিয়ে  বলল, 'একদিন ঝড় থেমে যাবে।  পৃথিবী আবার শান্ত হবে৷'

VENKATESWAR  LAHIRI
First published: May 3, 2020, 11:38 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर