ফের চোখ রাঙাচ্ছে করোনা, তবে এ বার রণকৌশল হিসেবে কার্যকরী হচ্ছে না লকডাউন, কেন?

ফের চোখ রাঙাচ্ছে করোনা, তবে এ বার রণকৌশল হিসেবে কার্যকরী হচ্ছে না লকডাউন, কেন?

এখন অনেকের মনেই প্রশ্ন, তা হলে কি করোনার দ্বিতীয় ধ্বংসলীলার সাক্ষী হতে চলেছে ভারত?

এখন অনেকের মনেই প্রশ্ন, তা হলে কি করোনার দ্বিতীয় ধ্বংসলীলার সাক্ষী হতে চলেছে ভারত?

  • Share this:

#নয়াদিল্লি: ভ্যাকসিনের কাঁধে ভর করে নতুন বছর স্বস্তি নিয়ে এসেছিল। তবে এর মাঝেই ফের খেলা দেখাচ্ছে করোনা। কয়েকটি রাজ্যে বেড়েছে সংক্রমণের পরিমাণও। এখন অনেকের মনেই প্রশ্ন, তা হলে কি করোনার দ্বিতীয় ধ্বংসলীলার সাক্ষী হতে চলেছে ভারত? এই পরিস্থিতিতে কী কী রণকৌশল অবলম্বন করা যেতে পারে? এ নিয়েই বিশদে আলোচনা করেছেন ড. আওয়াতে (Dr Awate)। আসুন জেনে নেওয়া যাক!

করোনার প্রথম পরিস্থিতি থেকে কতটা আলাদা এই সেকেন্ড ওয়েভ?

ইতিমধ্যেই ফের চোখ রাঙাতে শুরু করেছে করোনা। দিনে সংক্রমণের পরিমাণ ও মৃত্যুর সংখ্যা ফের বাড়ছে। তবে এখনও কোনও ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। এক্ষেত্রে কেস ফ্যাটালিটি রেশিওর (Case Fatality Ratio) বা CFR-এর উপরে চোখ রয়েছে বিশেষজ্ঞদের। চিকিৎসকদের একাংশের দাবি, প্রথম জেনেটিক মিউটেশনের থেকে এটি কম ক্ষতিকর। তবে এই পরিস্থিতি কতটা গুরুতর, তার উত্তর দেবে আপাতত আগামী দিন।

মহারাষ্ট্রের কনটেইনমেন্ট স্ট্র্যাটেজি

এর মধ্যে খুব একটা ভুল নেই। সংক্রমণের ভিত্তিতে কনটেইনমেন্ট জোন ভাগ করে নিলে কিছুটা হলেও পরিস্থিতির সামাল দেওয়া যাবে। তবে এখন পরিস্থিতির মূলে যেতে হবে। এক্ষেত্রে বিশেষ একটি রাজ্যে করোনার বাড়াবাড়ির কারণ গভীরে পর্যবেক্ষণ করতে হবে। পরে সেই মতো পদক্ষেপ করতে হবে।

আবার কি লকডাউন ফিরবে?

বিশেষজ্ঞের মতে, করোনা রুখতে দ্বিতীয়বারের জন্য লকডাউন খুব একটা কার্যকরী হিসেবে বিবেচিত হবে না। করোনা পরিস্থিতিকে সাময়িক ভাবে থামাতে পারবে এটি। আপাতত, স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে। এক্ষেত্রে উৎপাদন-সরবরাহ তথা সামগ্রিক কাজকর্মকে সচল রাখতে হবে। কারণ দেশের অর্থনীতিও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাই সমস্ত বিধিনিষেধ মেনে যাবতীয় পদক্ষেপ করতে হবে। প্রয়োজনে ঘরে থাকতে হবে। তবে সংক্রমণকে প্রতিহত করার জন্য লকডাউনের পথে হাঁটা যাবে না।

ভ্যাকসিনেশনের ভূমিকা

এই পরিস্থিতিতে আতঙ্কে থাকা দেশবাসীকে অক্সিজেন জোগাচ্ছে ভ্যাকসিনই। ভ্যাকসিনেশনের সাহায্যে কিছুটা হলেও সংক্রমণের গতিতে রাশ টানা যাচ্ছে। রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো যাচ্ছে। করোনার বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য অ্যান্টিবডি তৈরি করা যাচ্ছে। তাই এখন ভ্যাকসিনই ভরসা।

এখনও কেন পর্যায়ক্রমিকভাবে টিকাকরণ চলছে? কেনই বা সবার জন্য উপলব্ধ করা হচ্ছে না?

ভ্যাকসিনের ট্রায়ালে ভালো ফল মিললেও ভ্যাকসিনের প্রয়োগ নিয়ে সর্বদা সচেতন থাকতে হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে যে তথ্য রয়েছে, তা সাময়িক। করোনা চরিত্র বদলালে ভ্যাকসিন কাজ করতেও না পারে। তাছাড়া অনেকের শরীরে উল্টো প্রভাব ফেলতে পারে এই অ্যান্টিবডি। তাই জনস্বাস্থ্যের কথা ভেবে একেবারে উন্মুক্ত করে দিলে, কোনও বিপরীত পরিস্থিতিতে সামাল দেওয়া মুশকিল হয়ে যাবে। এক্ষেত্রে পর্যায়ক্রমিকভাবে এগোনোই লক্ষ্য। ধীরে ধীরে সমস্ত দিক সুনিশ্চিত হয়ে গেলে, সবার জন্য চালু করা যেতে পারে টিকাকরণ।

যাঁরা ভ্যাকসিনের সম্পূর্ণ ডোজ নিয়ে ফেলেছেন, তাঁদের কী হবে? তাঁরা কি এখনও সতর্কতা অবলম্বন করবেন?

কোনও ভ্যাকসিনই ১০০ শতাংশ কার্যকরী নয়। একই যুক্তি প্রযোজ্য করোনা ভ্যাকসিনের ক্ষেত্রেও। অর্থাৎ ভ্যাকসিন নেওয়ার পরও একটা সম্ভাবনা থেকে যাচ্ছে। তবে এই সম্ভাবনা অপেক্ষাকৃত কম। তাছাড়া কত দিন রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বজায় থাকছে, সেটিও চিন্তার বিষয়। তাই ভ্যাকসিন নেওয়ার পরও করোনাবিধি মেনে চলা আবশ্যক। এতে নিজেদের পাশাপাশি আশপাশের মানুষকেও সুস্থ রাখা যাবে।

আর কত দিন মাস্ক পরে বাঁচতে হবে মানুষজনকে?

এই বিষয়ে সুনিশ্চিত কিছু বলা খুব কঠিন। কারণ কখন করোনা ফের তার মারণ রূপ ধারণ করবে, তা বলা মুশকিল। এক্ষেত্রে করোনার নতুন মিউটেশনের প্রতি নজর রাখতে হবে। পর্যাপ্ত ভ্যাকসিনও একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। তাই আপাতত মাস্কই সঙ্গী। মেনে চলতে হবে সামাজিক দূরত্বের বিধি-নিষেধ।

Published by:Simli Raha
First published:

লেটেস্ট খবর