corona virus btn
corona virus btn
Loading

কি কান্ড ! লকডাউনেও কলকাতাতে হয়ে গেল এক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশিকা পরীক্ষা, এলেন ছাত্রছাত্রীরাও!

কি কান্ড ! লকডাউনেও কলকাতাতে হয়ে গেল এক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশিকা পরীক্ষা, এলেন ছাত্রছাত্রীরাও!

তবুও কিভাবে হল লকডাউনের মধ্যেই খোদ কলকাতাতেই এক কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশিকা পরীক্ষা তা নিয়ে দিনভর প্রশ্নের মধ্যেই অনুষ্ঠিত হয়ে গেল এই পরীক্ষা।

  • Share this:

#কলকাতা: লকডাউনের দিন চলবে না কোন বিমান। এমন কি কোন সরকারি প্রতিষ্ঠান খোলা থাকবে না। এই মর্মে রাজ্যের তরফেই ইতিমধ্যেই স্পষ্ট নির্দেশিকা জারি হয়েছে। পূর্ব ঘোষণা মাফিক বৃহস্পতিবার রাজ্য জুড়ে ছিল লকডাউন। কিন্তু তার মধ্যেই ঘটে গেল এক অঘটন! লকডাউনের মধ্যেই কলকাতায় অনুষ্ঠিত হয়ে গেল একটি কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশিকা পরীক্ষা। আবার সেই প্রবেশিকা পরীক্ষা দিতেও এলেন ছাত্রছাত্রীরা।

মাস্ক স্যানিটাইজার নিয়ে সল্টলেকের সেক্টর ফাইভের এক বেসরকারি তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা অফিসেই অনলাইনেও হল সেই পরীক্ষা। লকডাউন থাকার জেরে প্রচুর টাকা গাড়ি ভাড়া দিয়েই অভিভাবকরা নিয়ে এলেন ছাত্র-ছাত্রীদের।২ ঘণ্টা আগে রিপোর্ট করার জন্য পরীক্ষা শুরুর প্রায় আড়াই থেকে তিন ঘণ্টা আগে থেকেই ছাত্রছাত্রীরা এসে গিয়েছিল। তবুও কিভাবে হল লকডাউনের মধ্যেই খোদ কলকাতাতেই এক কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশিকা পরীক্ষা তা নিয়ে দিনভর প্রশ্নের মধ্যেই অনুষ্ঠিত হয়ে গেল এই পরীক্ষা।

সম্প্রতি বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তর স্তরের প্রবেশিকা পরীক্ষা দেশব্যাপী শুরু হয়েছে। মূলত স্নাতক থেকে যারা স্নাতকোত্তর স্তরে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে চান তাদের জন্য অনলাইনে এবছর প্রবেশিকা নিচ্ছে এই কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়। গত কয়েকদিন ধরেই বিভিন্ন পর্যায় ক্রমে দেশব্যাপী নির্দিষ্ট পরীক্ষা কেন্দ্রগুলিতে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত করেছে এই বিশ্ববিদ্যালয়। গত কয়েকদিনের মতো বৃহস্পতিবারও এই বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তর স্তরের বেশ কয়েকটি বিষয়ের পরীক্ষা ছিল। যার মধ্যে ইকোনমিক্স, জিও-ফিজিক্স এর মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় গুলির পরীক্ষা ছিল। আর তাই পরীক্ষা বড় বালাই! লকডাউন উপেক্ষা করেই ছাত্রছাত্রীরা বৃহস্পতিবার নির্ধারিত সময় ৩ ঘণ্টা আগেই পরীক্ষা কেন্দ্রে এদিন পৌঁছে গেলেন।

বৃহস্পতিবার সল্টলেক সেক্টর ফাইভ-এর এক বেসরকারি তথ্যপ্রযুক্তির সংস্থার অফিসে এই কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশিকা পরীক্ষা নেওয়া হলেও এদিন গিয়ে দেখা গেল শুধুমাত্র কলকাতা নয়, কলকাতা সংলগ্ন বিভিন্ন জেলা থেকে ছাত্রছাত্রীরা এসেছেন পরীক্ষা দিতে। আবার কোন কোন ছাত্রী বুধবার রাতেই কলকাতায় এসে গিয়েছেন তাদের আত্মীয়ের বাড়িতে। মেদিনীপুর থেকে আসা এক অভিভাবক বলেন,  ‘আমার ছেলে বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয় ইকোনমিক্স নিয়ে স্নাতকোত্তর স্তরে পড়তে চায়। তাই আমরা গতকালই মেদিনীপুর থেকে কলকাতায় এসে গিয়েছিলাম। আজ অবশ্য কলকাতার আত্মীয়ের বাড়ি থেকে সল্টলেক আসতে আমাদের প্রচুর খরচ হয়েছে। সব মিলিয়ে এই পরীক্ষা দেওয়ার জন্যই আমাদের খরচ হয়েছে প্রায় ৩০০০ টাকা।’ একইরকমভাবে কলকাতার বিভিন্ন অঞ্চল থেকেই এদিন লকডাউন উপেক্ষা করেই পরীক্ষা দিতে এসেছেন প্রচুর ছাত্র-ছাত্রী। সোশ্যাল ডিসটেন্স সহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য কম সংখ্যক পরীক্ষার্থী প্রত্যেকটি শিফটে পরীক্ষা দিতে পারছে। বৃহস্পতিবার মোট তিনটি শিফটে ছাত্র-ছাত্রীদের অনলাইনে পরীক্ষা নেওয়া হয়।

লকডাউনে পরীক্ষা কেন্দ্র পর্যন্ত কিভাবে পৌঁছাবেন তা নিয়ে অবশ্য চিন্তার শেষ ছিল না অভিভাবক অভিভাবিকাদের। অনেক অভিভাবকই এদিন পুলিশকে অনুরোধ জানিয়ে আবার কোনও কোনও অভিভাবক অবশ্য পুলিশের দ্বারস্থ হয়ে গাড়ি নিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্র পর্যন্ত পৌঁছেছে। তবে একদিকে যেখানে এই কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশিকা পরীক্ষা লকডাউনের দিন অনলাইনে পরীক্ষা হচ্ছে এবং পরীক্ষা দিতে এসেছেন প্রায় বেশিরভাগ পরীক্ষার্থী সেখানে কেন সর্বভারতীয় ইঞ্জিনিয়ারিং মেডিকেল প্রবেশিকা পরীক্ষা হবে না তা নিয়ে অবশ্য ভিন্ন মত উঠেছিল অভিভাবক-অভিভাবিকাদের মধ্যে থেকে।

গিরিশ পার্ক থেকে আসা এক অভিভাবক বলছেন " এই কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় তো অনলাইনে প্রবেশিকা পরীক্ষা নিয়ে নিলেও স্নাতকোত্তর স্তরের। সেখানে তো প্রচুর ছেলেমেয়ে পরীক্ষা দিতে এসেছে। কলকাতাতেই তো পরীক্ষা হচ্ছে। তাহলে সর্বভারতীয় ইঞ্জিনিয়ারিং বা সর্বভারতীয় মেডিকেল পরীক্ষা কেন হবে না?" যদিও এই মতামতের বিরুদ্ধ মত মত উঠে এসেছে অভিভাবকদের মধ্যে থেকেই। শেক্সপিয়ার সরণি থেকে আসা অবশ্য এক অভিভাবক বলেন, " আমার মেয়ের এক বন্ধু করোনা পরিস্থিতির জন্যই শেষ পর্যন্ত পরীক্ষা দিতে আসতে পারিনি। বর্তমানে এই প্যানডেমিক এর সময় কেন বিশ্ববিদ্যালয়গুলি স্নাতকোত্তর স্তরের প্রবেশিকা নিচ্ছে সেটা নিয়ে ভেবে দেখা দরকার সরকারের।" যদিও এদিন লকডাউন হলেও পরীক্ষা নিয়ে কোনো বিশৃঙ্খলা না হয় তার জন্য বিধান নগর পুলিশ কমিশনারেটের পুলিশও সর্বক্ষণ মোতায়েন করা হয়েছিল।

 সোমরাজ বন্দ্যোপাধ্যায়

Published by: Elina Datta
First published: August 27, 2020, 8:20 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर