ইন্টারনেট-কালার টিভি, দিনভর পুষ্টিকর খাবার, সেফ হোমের পরিষেবার আপ্লুত শহরবাসী

ইন্টারনেট-কালার টিভি, দিনভর পুষ্টিকর খাবার, সেফ হোমের পরিষেবার আপ্লুত শহরবাসী
পূর্ব বর্ধমানের করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসা চলছে বর্ধমান শহর লাগোয়া দু-নম্বর জাতীয় সড়কের পাশে বামচান্দাইপুরের কোভিড হাসপাতালে।

পূর্ব বর্ধমানের করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসা চলছে বর্ধমান শহর লাগোয়া দু-নম্বর জাতীয় সড়কের পাশে বামচান্দাইপুরের কোভিড হাসপাতালে।

  • Share this:

#বর্ধমান: সেফ হোমে রয়েছেন করোনা আক্রান্তরা। তাঁদের একঘেয়েমি কাটাতে ইন্টারনেট পরিষেবা চালু করল পূর্ব বর্ধমান জেলা প্রশাসন সেইসঙ্গে সেখানে বড় কালার টিভির ব্যবস্থা করা হয়েছে। পূর্ব বর্ধমানের জেলাশাসক বিজয় ভারতী জানিয়েছেন, করোনা আক্রান্তদের মনোরঞ্জনের জন্য সবরকম ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেখানে যাতে আক্রান্তদের কোনওরকম সমস্যা না হয় সে ব্যাপারে সজাগ রয়েছে জেলা প্রশাসন। দিনভর রোগীদের স্বাস্থ্য সম্মত পুষ্টিকর খাবারও দেওয়া হচ্ছে।

পূর্ব বর্ধমানের করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসা চলছে বর্ধমান শহর লাগোয়া দু-নম্বর জাতীয় সড়কের পাশে বামচান্দাইপুরের কোভিড হাসপাতালে। এছাড়া উপসর্গবিহীন ও কম উপসর্গ থাকা করোনা আক্রান্তদের হোম আইসোলেশনে রেখে চিকিৎসা চালানো হচ্ছে। বাড়িতে যাদের আলাদা থাকার পরিকাঠামো নেই তাদের সেফ হোমে রাখার ব্যবস্থা করেছে পূর্ব বর্ধমান জেলা প্রশাসন। এ জন্য বর্ধমানের কালনা রোডের পাশে নির্মীয়মান কৃষি ভবনে একশো শয্যার সেফ হোমের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেখানে যাতে রোগীরা সব রকম সুবিধা পান তা নিশ্চিত করার নির্দেশ জারি করেছে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর।

সেই নির্দেশ মেনে ইতিমধ্যেই সেখানে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট পরিষেবা চালু করেছে জেলা প্রশাসন। সেখানে ফ্রি ওয়াইফাইয়ের মাধ্যমে অ্যান্ড্রয়েড ফোন ব্যবহার করতে পারছেন আক্রান্তরা। সেই সঙ্গে সেখানে আক্রান্তদের একঘেয়েমি কাটাতে টেলিভিশন রাখার ব্যবস্থা করেছে জেলা প্রশাসন।


পূর্ব বর্ধমানের জেলা শাসক বিজয় ভারতী বলেন, সেফ হোমে সাধারণত সাতদিন রোগীদের রাখা হচ্ছে। তার মধ্যে তারা সুস্থ হয়ে উঠলে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। সেখানে থাকাকালীন সময় শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাদের কোভিড হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে। জেলার অতিরিক্ত মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিককে সেফ হোমের নোডাল অফিসার করা হয়েছে। সেখানে সর্বক্ষণের হেল্প ডেস্ক বসানো হয়েছে। এতদিন লিফট ছিল না। তাই রোগীদের সমস্যা হচ্ছিল। ইতিমধ্যেই সেখানে সেই লিফটের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সর্বক্ষণের ডাক্তার নার্স রাখা হয়েছে। সেখানে ল্যাবরটরিও তৈরি করা হয়েছে। নিয়মিত আক্রান্তদের ব্লাড প্রেসার, দেহের তাপমাত্রা মাপা হচ্ছে। তাছাড়াও দিনভর সেখানে রোগীদের পুষ্টিকর খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে।

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, একশো শয্যা এই সেফ হোমে এসে রোগীরা যাতে কোনও রকম অসুবিধা না বোধ করেন তা নিশ্চিত করতে সব রকম ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এই সময় আক্রান্তদের অনেকেই মানসিকভাবে দুর্বল বা চিন্তিত হয়ে পড়ছেন। তাই তাদের  মানসিকভাবে সবল রাখতে সেখানে মনোবিদেরও ব্যবস্থা করা হয়েছে।

Saradindu Ghosh

Published by:Shubhagata Dey
First published: