Lock Down! দার্জিলিংয়ে দরিদ্র মানুষের হাতে খাবার পৌঁছে দিচ্ছে জেলা পুলিশ

টানা ২১ দিনের লকডাউন। সময়সীমা বাড়বে কি না, তা পরিস্থিতি দেখে সিদ্ধান্ত নেবে কেন্দ্র ও রাজ্য।

টানা ২১ দিনের লকডাউন। সময়সীমা বাড়বে কি না, তা পরিস্থিতি দেখে সিদ্ধান্ত নেবে কেন্দ্র ও রাজ্য।

  • Share this:

#‌দার্জিলিং:‌ করোনা মোকাবিলায় বিশেষ উদ্যোগ নিল দার্জিলিং জেলা পুলিশ। দেশজুড়ে লকডাউনের জেরে অনেক গরিব মানুষ খাদ্য সংকটে পড়েছেন। বিশেষ করে যারা রোজকার উপার্জনে খেয়ে পড়ে বাঁচেন, তাঁদের অবস্থা শোচনীয়। পাহাড়ের প্রত্যন্ত গ্রামের ছবিটা যেন আরও করুণ। ২০১৭ সালে পৃথক রাজ্য গোর্খাল্যাণ্ড আদায়ের আন্দোলনে টানা ১০৪ দিনের বনধ দেখেছে পাহাড়বাসী। ওই সময় আমরা দেখেছি প্রত্যন্ত পাহাড়ী এলাকার ছবি। কেউ কুয়াশার ডাটার ঝোল, কেউ সিমরাই শাক আর ডাল দিয়ে এক মুঠো ভাত খেয়েছিল। দু’‌বেলা খাবার জোগাড় করাও সম্ভব হত না। চরম খাদ্য সংকটের মধ্য দিয়ে কেটেছিল দিনের পর দিন। খুব কাছ থেকে আমরা দেখেছি ওই দিনগুলো।

আজকের লকডাউনে পাহাড়ের প্রধান জায়গাগুলিতে তাও অল্প স্বল্প খাবার, চিকেন, ডিম জুটছে। কিন্তু তাও কতদিন, তা নিয়ে আশঙ্কা তো তৈরি হবেই। তাই এবারে এর মোকাবিলার পথে নামল দার্জিলিং জেলা পুলিশ। পাণিঘাটা, রোহিণী থেকে শুরু করে পাগলাঝোরার গ্রামগুলিতে নামলেন দার্জিলিং জেলা পুলিশ কর্মীরা। তিনচুলে থেকে লাভা, লোলেগাঁও। সর্বত্রই বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাঁরা পৌঁছে দিচ্ছেন খাদ্যসামগ্রী। চাল, ডাল, তেল–সহ প্রয়োজনীয় জিনিস তুলে দেওয়া হচ্ছে পাহাড়ী এলাকায়। আবার কোথাও রান্না করা খাবারও তুলে দেওয়া হচ্ছে।

২০১৭ সালের বনধে খাদ্যসংকট কী, তা টের পেয়েছিল পাহাড়বাসী। এবারে জেলা পুলিশ পাশে দাঁড়ানোয় খুশি তাঁরা। শুধু খাদ্য নয়, সঙ্গে দুঃস্থদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে হ্যাণ্ড স্যানিটাইজারও। শুক্রবার মিরিক ব্লকের লোহাগড়ে বাড়ি বাড়ি যায় পানিঘাটা ফাঁড়ির পুলিশ। পাহাড়ের দার্জিলিং, কার্শিয়াং, মিরিকের প্রতিটি কোণে কোণে যাচ্ছেন জেলা পুলিশ কর্মীরা।

টানা ২১ দিনের লকডাউন। সময়সীমা বাড়বে কি না, তা পরিস্থিতি দেখে সিদ্ধান্ত নেবে কেন্দ্র ও রাজ্য। স্বাভাবিকভাবেই আগামী দিনে সংকট আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও পাহাড়ে স্বাভাবিক রয়েছে বাজারঘাট থেকে মুদির দোকানের লেনদেন। কিন্তু পাহাড়ের প্রত্যন্ত গ্রামগুলিতে অন্য ছবি। আর তাই পুলিশ পৌঁছে যাচ্ছে পাহাড়ের বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলে। দুঃস্থদের হাতে খাবার তুলে দিতে।

Partha Sarkar

Published by:Uddalak Bhattacharya
First published: