এ কোন ময়দান ? রাতের চেয়েও অন্ধকার ! 

এ কোন ময়দান ? রাতের চেয়েও অন্ধকার ! 

শুধু ক্রিকেট-ফুটবল নয়। ময়দানের ভলিবল, বাস্কেটবল,হকি সহ সব খেলার জায়গাতেই একই চেহারা।

  • Share this:

#কলকাতা: এ কোন ময়দান? রাতের চেয়েও অন্ধকার! চেনা ময়দানের ছবি উধাও। চারিদিকে শুধু খাঁ খাঁ করছে। মাঠে বল গড়ানো বন্ধ। নেই কোনও লোকজন। ক্লাবের গেটে গুলোতে ঝুলছে তালা। পুরোটাই করোনা ভাইরাস আতঙ্কের জের।

গত সপ্তাহ থেকেই খেলাধুলা বন্ধ হয়ে গেছে ময়দানে। সরকারি নির্দেশে ৩১ মার্চ পর্যন্ত সমস্ত রকম খেলা বন্ধ। থমকে গেছে আই লিগ। ক্লাব ক্রিকেট বিশ বাঁও জলে। অনুশীলনও বন্ধ। ময়দান মুখো হচ্ছেন না কোনও খেলোয়ার। সন্ধ্যের দিকে দেখা মিলছে না কোনও কর্তার। ক্লাবে আসার ইচ্ছেটাই যেন চলে গেছে প্রত্যেকের।

প্রভাব পড়েছে মাঠের ক্যান্টিন গুলোতেও। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে মোহনবাগান ক্লাবের ক্যান্টিন। সিএবি বন্ধের সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ হয়ে গিয়েছে ক্লাব হাউজ লাগোয়া ক্যান্টিন। ব্যতিক্রম অবশ্য আছে। ইস্টবেঙ্গল মাঠের ক্যান্টিন খোলা। মূলত এটি ক্যাফেটেরিয়া হিসেবে পরিচিত। ম্যানেজার জানালেন," ময়দানে খেলা বন্ধ হয়ে গেলে ক্যাফেটেরিয়া খুলে রেখে কী লাভ? আমাদের খাওয়ার সমস্ত ক্লাবের অনুশীলন ও ম্যাচে যায়। এখন সব বন্ধ। তবুও আমরা খুলে রেখেছি ক্লাব কিছু বলেনি বলে। ইস্টবেঙ্গল ক্লাব নোটিশ দিলেই আমরা বন্ধ করব।" ইস্টবেঙ্গলের মত তালতলা, সেন্ট্রাল এক্সাইজের ক্যান্টিন খোলা। তবে সারাদিনে খদ্দের বলতে হাতেগোনা ৫-৭ জন। করোনা আতঙ্কে ক্যান্টিন ব্যবসাতেও প্রভাব পড়েছে।

মোহনবাগান ক্লাবের মেইন গেটে বেশিরভাগ সময় থাকছে তালা। ক্লাব কর্তারা সেভাবে আসছেন না। ইস্টবেঙ্গলের মূল ফটক খোলা থাকলেও হাতেগোনা কয়েকজন হাজির। শুধু ইস্ট-মোহন নয়। ময়দানের বেশিরভাগ ক্লাবেরই একই ছবি। নোটিশ জারি করে বন্ধ রাখা হয়েছে সিএবি। শুধুমাত্র খোলা রয়েছে মেডিকেল ইউনিট। খুব প্রয়োজনে কেউ আসলে আগে স্যানিটাইজার দিয়ে হাত ধুতে হচ্ছে। হাত পরিষ্কার করার পরই ইডেনে ঢোকার ছাড়পত্র মিলছে। তবে সারা বছর অনেকেই ইডেন দেখতে আসেন। তাদের কোন মতেই ভেতরে ঢোকার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। রোজ বিকেলে গমগম করতে থাকা সিএবি নিজের চেনা ছন্দের অনেক বাইরে। শুধু ক্রিকেট-ফুটবল নয়। ময়দানের ভলিবল, বাস্কেটবল,হকি সহ সব খেলার জায়গাতেই একই চেহারা।

বেঙ্গল অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের অফিসও নিয়ম করে ২ ঘণ্টার জন্য খুলছে। তবে লোক কম। ভিড় এড়িয়ে চলতে হবে বলে খেলোয়াড়রা বেশিরভাগই বাড়িতে রয়েছেন। ময়দানের এক পরিচিত কর্তার মতে,"নিয়ম অনুযায়ী বছরে ১৫ দিন ময়দান বন্ধ থাকে। তখনও এতটা শূন্যতা সৃষ্টি হয় না। ধর্মঘটের সময়ও ময়দানে বল গড়ায়। কিন্তু করোনা ভাইরাসের আতঙ্কে সব যেন পাল্টে গিয়েছে।"

সিএবি কর্তাদের মতে, "এইভাবে চলতে থাকলে ক্লাব ক্রিকেট শেষ করা খুব মুশকিল হবে। কয়েক মাস পর বর্ষা চলে আসবে। জানিনা কী করে টুর্নামেন্টগুলো শেষ করব। তবে জনস্বার্থে এই সাবধানতা প্রয়োজন।" কেন্দ্রীয় নির্দেশ মতো সল্টলেকের সাই বন্ধ রয়েছে। ফলে প্রস্তুতিতে বাধা পড়ছে অ্যাথলিটদের।

করোনা ভাইরাস আতঙ্ক পাল্টে দিয়েছে চেনা ময়দানকে। তবুও কঠিন সময় হাতে হাতে লড়তে তৈরি কলকাতা ময়দান। সবাই আশাবাদী সমস্ত বিপদ কাটিয়ে আর কিছুদিনের মধ্যেই চেনা ছন্দে ফিরবে গড়ের মাঠ।

Eeron Roy Barman

First published: March 19, 2020, 9:35 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर