পর্যটনে আঁধার, সংসার চালাতে ভরসা হোম ডেলিভারি বা হকারি

পর্যটনে আঁধার, সংসার চালাতে ভরসা হোম ডেলিভারি বা হকারি
কোভিড দুর্বল হলেই আবার সব স্বাভাবিক হবে। ফিকে হয়ে যাওয়া স্বপ্ন আবার জেগে উঠবে। এই বিশ্বাস নিয়েই আপাতত প্রাণপাত করছেন মণীশেরা।

কোভিড দুর্বল হলেই আবার সব স্বাভাবিক হবে। ফিকে হয়ে যাওয়া স্বপ্ন আবার জেগে উঠবে। এই বিশ্বাস নিয়েই আপাতত প্রাণপাত করছেন মণীশেরা।

  • Share this:

#কলকাতা: করোনা ভাইরাস এবং তার পরবর্তী লকডাউন, স্বাস্থ্যবিধি, মৃত্যুমিছিল, উল্টেপাল্টে দিয়েছে বিললাক্ষ কিংবা মণীশের জীবনকে। ঝাঁ-চকচকে পর্যটনের অফিসে ঝাঁপ পড়েছে মাসচারেক আগে। জীবনের সঞ্চয় দিয়ে কোনওক্রমে কিছু দিন কাজ চলেছে। এরপর রাস্তায় এসে হাত পাতার জোগাড়। বাধ্য হয়ে অনেকেই বদলেছেন জীবিকা। কেউ করছেন হোম ডেলিভারি কেউবা ফিরি করছেন হ্যান্ড স্যানিটাইজার।

বিললাক্ষ ছিলেন ধর্মতলার ঝাঁ-চকচকে চাঁদনি ট্রাভেলসের কর্ণধার। দেশে বিদেশে পর্যটকদের ঘুরিয়ে স্বপ্নপূরণ করেছেন দিনের পর দিন, বছরের পর বছর। তার সঙ্গে নিজেও মাঝেমধ্যে স্বপ্ন দেখতেন। দেশে-বিদেশে যাওয়ার স্বপ্ন। সে সব স্বপ্ন আজ ফিকে। বেঁচে থাকার লড়াইয়ে বিললাক্ষর এখন হাঁসফাঁস অবস্থা। লকডাউনের শুরু থেকেই ব্যবসা চোপাট। কবে যে হাল ফিরবে, তার গ্যারান্টি তাবড় জ্যোতিষীও দিতে পারছেন না। কিন্তু 'পাপী পেট কা সওয়াল'! তাই, পর্যটনের ব্যাবসা ছেড়ে আপাতত বিললাক্ষ এবং তাঁর পরিবার মন দিয়েছেন বাড়ি থেকেই হোম ডেলিভারি ব্যবসায়। বলছেন, "কবে যে কী হবে, অবস্থা কতটা ফিরবে, তা কেউই বলতে পারছে না। কিন্তু সংসার তো চালাতে হবে। আপাতত, তাই হোম ডেলিভারিকেই আঁকড়ে ধরেছি।"


২০ বছর ধরে পর্যটনের ব্যবসায় অ্যাকাউটেন্টের কাজ করেছেন মণীশ রায়। এখন কাজ বেতনহীন ছুটিতে বসে কী করবেন ভেবে না পেয়ে হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিক্রি করছেন। বলছেন, "প্রথম প্রথম খুব অসুবিধে হচ্ছিল। এখন গা-সওয়া হয়ে গেছে। আগের মতো রোজগার হচ্ছে না। কিন্তু অন্তত ভাত-ডাল তো জোটাতে হবে। না হলে বাঁচব কী করে।"

শুধু বিললাক্ষ বা মণীশ নন, কলকাতায় পর্যটন ব্যবসায় এখন শ'য়ে শ' য়ে কর্মী হয় চাকরি হারিয়েছেন নয়তো বেতনহীন হয়ে বাড়িতে রয়েছেন ছুটিতে। ট্রাভেল এজেন্ট ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ার নেতা অনিল পাঞ্জাবির বক্তব্য, "প্রায় চার মাস ধরে ব্যবসা লাটে উঠেছে। অনেকে চাকরি খুইয়েছেন। অনেকে ছুটিতে রয়েছেন বেতন ছাড়াই। কর্মীরা কোথায় যাবেন! বাধ্য হয়ে তাঁরা নিজেদের মতো করে নতুন পেশা খুঁজে নিচ্ছেন।"তবে আশা কেউই হারাচ্ছেন না। কোভিড দুর্বল হলেই আবার সব স্বাভাবিক হবে। ফিকে হয়ে যাওয়া স্বপ্ন আবার জেগে উঠবে। এই বিশ্বাস নিয়েই আপাতত প্রাণপাত করছেন মণীশেরা।

Published by:Pooja Basu
First published: