corona virus btn
corona virus btn
Loading

করোনা নিয়ে গুজব ও আতঙ্কে ব্যাহত ক্যানসার রোগীদের ট্রিটমেন্ট, সোশ্যাল মিডিয়ার দ্বারস্থ চিকিৎসক

করোনা নিয়ে গুজব ও আতঙ্কে ব্যাহত ক্যানসার রোগীদের ট্রিটমেন্ট, সোশ্যাল মিডিয়ার দ্বারস্থ চিকিৎসক

করোনা নিয়ে গুজব আতঙ্ক যে কতটা ভয়ঙ্কর রূপ নিতে পারে সেই অভিজ্ঞতার ভুক্তভোগী ডাঃ অর্ণব গুপ্ত ৷ সোশ্যাল মিডিয়ায় বিস্তারিতভাবে জানালেন সেই ঘটনা ৷

  • Share this:

#কলকাতা: করোনা নিয়ে অযথা আতঙ্ক ছড়াবেন না ৷ করোনার মতো ক্যানসার রোগীদের ট্রিন্টমেন্টও খুব প্রয়োজনীয় ৷ আমাদের ক্যানসার রোগীদের সঠিকভাবে ট্রিটমেন্ট করতে সহযোগিতা করুন ৷ এমনই আর্জি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ার দ্বারস্থ ঠাকুরপুকুর ক্যানসার হাসপাতালের ডিরেক্টর ডাঃ অর্ণব গুপ্ত ৷ করোনা নিয়ে গুজব আতঙ্ক যে কতটা ভয়ঙ্কর রূপ নিতে পারে সেই অভিজ্ঞতার ভুক্তভোগী ডাঃ অর্ণব গুপ্ত ৷ সোশ্যাল মিডিয়ায় বিস্তারিতভাবে জানালেন সেই ঘটনা ৷

বর্তমানে করোনার কারণে রোগী ভর্তি বন্ধ ঠাকুরপুকুর ক্যানসার  হাসপাতালে ৷ থমকে ক্যানসারের চিকিৎসা ৷ স্বাস্থ্যকর্মীদের অভাবের কারণেই হাসপাতালে বন্ধ রোগী ভর্তি প্রক্রিয়া ৷ কোথা থেকে শুরু এই সমস্যার তাই নিয়েই সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হাসপাতালের ডিরেক্টর ও ক্যানসার সার্জেন অর্ণব গুপ্ত ৷ তিনি বলেন, সম্প্রতি ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্ত এক রোগীর করোনা ধরা পড়ার পরেই স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে ৷ হাসপাতালে আসা বন্ধ করে দেন ৯৫ শতাংশ স্টাফ ৷ তাদের কাজে আসতে বাধা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ চিকিৎসকের ৷ ব্যাহত হয় হাসপাতালে রোগীদের ট্রিটমেন্ট ৷ বাধ্য হয়ে নতুন করে রোগী ভর্তি বন্ধ করতে হয় কর্তৃপক্ষকে ৷ অসুবিধায় ক্যানসার পেশেন্টরা ৷ চিকিৎসক অর্ণব গুপ্ত জানিয়েছেন, ‘ফুসফুস ক্যানসারের ক্ষেত্রে করোনার উপসর্গ আগেভাগে বুঝতে পারা কঠিন ৷ তবুও ওই ক্যানসার পেশেন্টের ক্ষেত্রে সন্দেহ থাকায় তার নমুনা কোভিড টেস্টের জন্য পাঠানো হয় ৷ এর আগেও অনেক পেশেন্টের ক্ষেত্রে সন্দেহ থাকায় টেস্ট করা হয়েছে, সেসব ক্ষেত্রে রিপোর্ট নেগেটিভ আসলেও এই ভদ্রলোকের রিপোর্ট পজিটিভ আসে ৷ করোনা পজিটিভ এই কথা জানতে পারার পরই যথাযথও নিয়ম মেনে ব্যবস্থা নেওয়া হয় ৷ সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করে ওই রোগীকে নোডাল হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয় ৷ তার সংস্পর্শে আসা সমস্ত স্বাস্থ্যকর্মী ও চিকিৎসককে কোয়ারেন্টাইন করা হয় ৷ সমস্ত হাসপাতাল সহ রোগীর থাকার জায়গাকেও খুব ভালভাবে স্যানিটাইজ করা হয় ৷’
সমস্যার শুরু এর পর থেকেই ৷ চিকিৎসকের অভিযোগ, হাসপাতালে করোনা আক্রান্ত রোগী থাকার কথা সামনে আসতেই সবাই ভাবে করোনা গোটা হাসপাতালেই ছড়িয়ে গিয়েছে ৷ হাসপাতালের সাড়ে আটশোর উপর স্টাফই নাকি করোনায় আক্রান্ত হয়ে গিয়েছেন এমন ধারণা তৈরি হয়ে যায় ৷ এমনকি স্বাস্থ্যকর্মীদেরও কাজে আসতে বাড়ি, আবাসন ও পাড়ার তরফ থেকে বাধা দেওয়া হয় ৷ বলা হয়, হাসপাতালে কাজে যাওয়া যাবে না নাহলে বেরলে আর ফেরা যাবে না ৷ এমতাবস্থায় হাসপাতালের অধিকাংশ স্টাফ কাজে যোগ দিতে পারেননি ৷ সোশ্যাল মিডিয়ায় ডাঃ গুপ্তর আর্জি, ‘করোনা নিয়ে অযথা আতঙ্কিত হবেন না ৷ একজন পেশেন্টের করোনা ধরা পড়া মানে সবার করোনা নয় ৷ করোনা আক্রান্তের পাশে এলেই করোনা ছড়ায় না ৷ করোনা আক্রান্তের সঙ্গে ১৫ মিনিটের বেশি তিন ফুটের কম দূরত্বে বা সংস্পর্শে এলে সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কা থাকে ৷ করোনা সংক্রমণ নিয়ে ভুল ধারণা সবার আগে বন্ধ হোক ৷’ ডাঃ গুপ্ত বার বার নিশ্চিত করেছেন সংক্রমণ রুখতে যা যা প্রয়োজনীয় সেই সমস্ত নিয়ম মানছে ঠাকুরপুকুর ক্যানসার হাসপাতাল ৷ থার্মাল গান, পিপিই, মাস্ক, গ্লাভস, নির্দিষ্ট দুরত্ব, সঠিক স্যানিটাইজেশন সহ সমস্ত ব্যবস্থাই রয়েছে হাসপাতালে ৷ ভিডিওতে চিকিৎসক হিসেবে নিজের অসহায়তার কথা, ক্যানসার পেশেন্টদের অসহায়তার বার বার উঠেছে এসেছে তাঁর মুখে ৷ এই গুজব ও আতঙ্কের কারণে হাসপাতালের কর্মীরা কাজে যোগ দিতে না পারায় অনেক ক্যানসারের রোগীকে ফিরিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন ৷ বর্তমানে নামমাত্র কর্মীদের নিয়ে শুধু চিকিৎসাধীন রোগীদেরই পরিষেবা দিতে পারছেন তারা ৷ তিনি বলেন, ‘চোখের ছানি অপারেশন হয়ত থেমে থাকতে পারে কিন্তু ক্যানসারের চিকিৎসা নয় ৷ এরকম রোগের ক্ষেত্রে প্রতিটা মুহূর্ত অত্যন্ত মূল্যবান ৷ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীদের মধ্যে অনেক শিশুও যেমন আছে, তেমন অনেক ব্যক্তি আছেন যাদের অবস্থা গুরুতর ৷’ হাসপাতাল পরিষেবা স্বাভাবিক করতে সহযোগিতা করার আবেদনের সঙ্গে সঙ্গে ডাঃ গুপ্ত সমস্ত স্বাস্থ্যকর্মীদের তরফ থেকেই সহযোগিতা করার আর্জি রেখেছেন ৷ তিনি বলেছেন, যারা করোনার ট্রিটমেন্ট করছেন তাদের সঙ্গে সামাজিক দূরত্ব রাখলেও অচ্ছুত করে রাখবেন না ৷ আপনি অসুস্থ হলে তারাই আপনাকে সুস্থ করবেন কিন্তু স্বাস্থ্যকর্মী চিকিৎসকদের সঙ্গে এরকম ব্যবহার চলতে থাকলে দু’দিন পরে ভাবতে হবে অসুস্থ হলে কোথায় যাব ৷
Published by: Elina Datta
First published: April 21, 2020, 10:29 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर