করোনার ওষুধ 2-DG কী ভাবে ধ্বংস করে ভাইরাস, কতটা কাজের, কবে বাজারে?

কতটা কার্যকর করোনার নতুন ওষুধ 2-DG, জানুন সব তথ্য।

ওষুধটি ঠিক কতটা কার্যকর, কারা ব্যবহার করতে পারবেন, কী ভাবে ব্যবহার সব প্রশ্নের উত্তর দিলেন ডিআরডিও-এর প্রজেক্ট ডিরেক্টর তথা বিজ্ঞানী সুধীর চন্দনা। কী ভাবে এই ওষুধটি তৈরি হল?

  • Share this:

    #কলকাতা: দেশে করোনার রোগীর সংখ্যা প্রতিদিনই চার লক্ষ ছাড়াচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে প্রবল কথাবার্তা 2-DG নামক সদ্য আবিষ্কৃত করোনার নয়া ওষুধ (Anti Covid Drug) নিয়ে। বলা হচ্ছে, সংকটজন করোনা রোগীর চিকিৎসায় এই নতুন ওষুধ। কার্যকর হবে। ডক্টর রেড্ডিস ল্যাবোরেটরি ও ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের (ডিআরডিও) যৌথ উদ্যোগে তৈরি ওষুধটির নাম টু ডিজি বা টু ডিঅক্সি ডি গ্লুকোজ। ইতিমধ্যেই ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের পরে ড্রাগ কন্ট্রোলার জেনারেল অব ইন্ডিয়া এই ওষুধটিকে ছাড়পত্র দিয়েছে। কিন্তু ওষুধটি ঠিক কতটা কার্যকর, কারা ব্যবহার করতে পারবেন, কী ভাবে ব্যবহার সব প্রশ্নের উত্তর দিলেন ডিআরডিও-এর প্রজেক্ট ডিরেক্টর তথা বিজ্ঞানী সুধীর চন্দনা।

    কী ভাবে এই ওষুধটি তৈরি হল?

    -আমরা ২ডিজি তৈরির কাজ গত বছর এপ্রিল মাস থেকেই শুরু করে দিয়েছিলাম। আমার দেখেছি, এই ওষুধটি করোনার সংক্রমণ আটকে দিতে পারে। হাতেনাতে প্রমাণ পেয়েই আমরা ড্রাগ কন্ট্র্রোলার জেনারেলের কাছে ক্লিনিকাল ট্রায়ালের আবেদন জানাই। ২০২০ সালের অক্টোবরের মধ্যে আমাদের দুই দফার ট্রায়াল শেষে ফল স্বস্তিজনক ছিল। স্ট্যান্ডার্ড কেয়ারে রয়েছেন এমন রোগীদের উপর খুবই ভালো কাজ করে ২ডিজি।

    স্ট্যান্ডার্ড কেয়ার বলতে আপনি কী বোঝাতে চাইছেন?

    -স্ট্যান্ডার্ড কেয়ারে থাকা রোগী মানে এমন কোনও রোগী যিনি সংক্রমিত তো বটেই, হাসপাতালে রেখে প্রাথমিক চিকিৎসা শুরুও হয়েছে , তাঁদের কথাই বোঝানো হচ্ছে।

    এই ওষুধটি কি করোনার মৃদু সংক্রমণে কার্যকর হবে নাকি যাদের শরীরে প্রবল উপসর্গ দেখা দিয়েছে তারাই উপকৃত হবেন?

    -আমাদের ওষুধটির পরীক্ষা হয়েছিল হাসপাতালে। সেখানে বেশির ভাগ রোগীই ছিলেন আশঙ্কাজনক অবস্থায়। তাতে দেখা যায় ওষুধটি দ্রুত কার্যকর হচ্ছে। আমরা লক্ষ্য করেছি এই ওষুধটির কোনও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। শুধু তাইই নয়, আমরা দ্বিতীয় দফার ট্রায়ালের পরে বুঝতে পারছিলাম আমাদের ওষুধের আরোগ্যের হার উল্লেখযোগ্য ভাবে বাড়ছে। আর তৃতীয় দফার ট্রায়ালে সামনে আসে, এই ওষুধ ব্যবহার করলে রোগীর কৃত্রিম অক্সিজেন নির্ভরতাও কমে আসছে।

    কী ভাবে অক্সিজেন নির্ভরতা কমায় এই ওষুধ? আর করোনাকেই কী ভাবে আটকায়?

    -২ ডিজি ওষুধটি অনেকটা গ্লুকোজের মতো। সারা দেহে ছড়িয়ে পড়ে। দেহের ভাইরাস সংক্রমিত কোষগুলিতে সংশ্লেষ বন্ধ করে দেয়। ফলে প্রোটিনটির শক্তি উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। পুশ্টির অভাবেই প্রোটিনটি নষ্ট হয়ে যায়। ফুসফুসে এইিজিড় ভাইরাস ছড়িয়ে পড়া রোধ করে ২ডিজি। এতে রোগীর অক্সিজেন নির্ভরতা ক্রমেই কমে।

    কবে থেকে পাওয়া যাবে এই ওষুধ?

    আমাদের এই ওষুধের উৎপাদন সঙ্গী ডক্টর রেড্ডিস ল্যাবোরেটরি। আমরা যৌথভাবে উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা করছি। কয়েক সপ্তাহের মধ্যে, বলা যায় এক মাসেরও কম সময়ে এই ওষুধ রোগীরা পাবেন।

    এই ওষুধের উপাদানগুলি কি দেশে পাওয়া যায় নাকি বাইরে থেকে আনাতে হয়?

    আমার জ্ঞান অনুযায়ী, দেশ থেকেই এই ওষুধের কাঁচামাল সংগ্রহ করা সম্ভব। এ ব্যাপারে আরও বিশদে জানাতে পারবে রেড্ডির ল্যাব।

    আমার শেষ প্রশ্ন, এই ওষ‌ুধে মৃ্ত্যু আটকানো যাবে, কোভিডের ঢেউ কি কমবে?

    ট্রায়ালে দেখা গিয়েছে এমন একজনও রোগী ছিল না যাদের উপর প্রয়োগ করে এই ওষুধের ফল পাওয়া যায়নি। ফলে আমরা আশাবাদী।

    Published by:Arka Deb
    First published: