প্রথমদিন থেকেই সামনের সারিতে লড়ছিলেন, করোনা যুদ্ধে প্রয়াত জনপ্রিয় চিকিৎসক চক্রধর মান্ডি

প্রথমদিন থেকেই সামনের সারিতে লড়ছিলেন, করোনা যুদ্ধে প্রয়াত জনপ্রিয় চিকিৎসক চক্রধর মান্ডি
আদতে ঝাড়গ্রামের বাসিন্দা চক্রধর মান্ডি চিকিৎসক হিসেবে তাঁর ছাপ রেখেছিল সর্বত্রই। একদম পিছিয়ে পড়া এলাকা থেকে মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের চিকিৎসক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেছিল।

আদতে ঝাড়গ্রামের বাসিন্দা চক্রধর মান্ডি চিকিৎসক হিসেবে তাঁর ছাপ রেখেছিল সর্বত্রই। একদম পিছিয়ে পড়া এলাকা থেকে মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের চিকিৎসক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেছিল।

  • Share this:

#কলকাতা: আবারও করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হল এক চিকিৎসকের। গোটা বিশ্বজুড়ে গত এক বছর ধরেই প্রায় প্রতিদিন করোনা ভাইরাসের সঙ্গে যুদ্ধে একের পর এক চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মীদের মৃত্যু হচ্ছে। বুধবার সন্ধ্যায় ঝাড়গ্রামের বাসিন্দা বেলগাছিয়া আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের চিকিৎসক চক্রধর মান্ডির মৃত্যু হয়। তাঁর মৃত্যুতে শোকের আবহ রাজ্যের চিকিৎসক মহলে।

আদতে ঝাড়গ্রামের বাসিন্দা চক্রধর মান্ডি চিকিৎসক হিসেবে তাঁর ছাপ রেখেছিল সর্বত্রই। একদম পিছিয়ে পড়া এলাকা থেকে মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের চিকিৎসক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেছিল। ১৯৮৬ সালে এমবিবিএস পাশ করার পর আরও উচ্চশিক্ষা করে বর্তমানে বেলগাছিয়া আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের ডেমনস্ট্রেটর পদে কর্মরত ছিলেন। পাশাপাশি আরজিকর হাসপাতালের বয়েজ হোস্টেলের সুপারের পদও সামলাতেন। মেডিক্যাল পাঠরত ছাত্রদের মধ্যে জনপ্রিয় ছিলেন চক্রধর মান্ডি। গোটা করোনা সময়কালে একদম সামনের সারিতে দাঁড়িয়ে লড়াই চালিয়েছেন। হঠাৎ করে কয়েকদিন আগে শারীরিক অসুস্থতা বোধ করায় করোনা ভাইরাসের পরীক্ষা করান চক্রধর মান্ডি। রিপোর্ট পজিটিভ আসার পর কোনও উপসর্গ না থাকায় হোম-কোয়ারেন্টাইন বা আলাদা করে বাড়িতে ছিলেন। বুধবার সন্ধ্যায় হঠাৎ করেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে কোনওরকম চিকিৎসার সুযোগ না দিয়ে প্রয়াত হলেন চিকিৎসক মান্ডি। স্ত্রী এবং দুটি ছোট ছোট কন্যা সন্তানকে রেখে করোনা যুদ্ধের অন্যতম শহীদ হলেন চক্রধর মান্ডি।

রাজ্যে করোনা ভাইরাসের দাপট শুরু হওয়ার পর থেকেই চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মীদের একটা বড়ো অংশই সামনের সারিতে দাঁড়িয়ে বুক চিতিয়ে লড়াই চালায়। বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালের সুপার ডক্টর আশিস কুমার মান্না বলেন, "আমার সহপাঠী ছিল চক্রধর। কীভাবে যে কী হয়ে গেল এখনও ভাবতে পারছি না।  আর কত চিকিৎসক এরকম হবে অকালে ঝরে যাবে? সাধারণ মানুষ যেন আগামী দিনে ভাবে, চিকিৎসক নার্স স্বাস্থ্যকর্মীরা কতটা প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে এই করোনা যুদ্ধে শামিল হয়েছেন।"


রাজ্যে এখনো পর্যন্ত ৮৯ জন চিকিৎসকের করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন ওয়েস্ট বেঙ্গল ডক্টরস ফোরামের যুগ্ম সম্পাদক চিকিৎসক রাজীব পাণ্ডে। ডক্টরস অফ পেশেন্টস বা ডোপা-র পক্ষ থেকে চিকিৎসক শারদ্বত মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন,পরিস্থিতি এখনও যথেষ্টই উদ্বেগজনক। চিকিৎসকদের মৃত্যু মিছিল চলছে, তবুও রক্তক্ষরণ হলেও লড়াই থেমে থাকবে না। থামতে পারে না। লড়াই চলবেই।

ABHIJIT CHANDA

Published by:Shubhagata Dey
First published: