মর্মান্তিক Lockdown!‌ বিশেষভাবে সক্ষম লোকটি হাতে ভর দিয়ে ১০০ কিমি পার করলেন

এমনভাবেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অসংখ্য অসংগঠিত ক্ষেত্রের কর্মীরা বাড়ি ফেরার চেষ্টা করছে‌ন।

এমনভাবেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অসংখ্য অসংগঠিত ক্ষেত্রের কর্মীরা বাড়ি ফেরার চেষ্টা করছে‌ন।

  • Share this:

    #‌লখনউ:‌ লকডাউন এরপর দেশ জুড়ে বিভিন্ন অংশে আটকে পড়া অসংগঠিত ক্ষেত্রের কর্মীরা চাইছেন নিজের বাড়িতে ফিরতে। কিন্তু যানবাহন নেই। তাই কেউ কেউ বাধ্য হয়ে পায়ে হেঁটেই বাড়িতে ফেরার চেষ্টা শুরু করেছেন। এমন চিত্র এখন প্রায় প্রত্যেক দিনই দেখা যাচ্ছে। দীর্ঘ পথ, না খেয়ে, পরিবার, আত্মীয়, প্রতিবেশীদের কাছে ফেরার অপেক্ষায় তাঁরা পাড়ি দিচ্ছেন যে যার মতো করে। তেমনই একটি ঘটনা উঠে এসেছে উত্তরপ্রদেশে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, একজন বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তি একটি কাঠের চাকা লাগানো গাড়িতে বসে হাতে ভর দিয়ে দিয়েই এগিয়ে চলছেন নিজের বাড়ি যাওয়ার জন্য।

    এমন করেই উত্তরপ্রদেশের জৌনপুর জেলার দেওরিয়া গ্রামে ফেরার জন্য ১০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়েছেন সেই ব্যক্তি। পানমশলা, গুটখা বিক্রি করে তার দিন চলছিলয। লখনউয়ে রাস্তার ধারে একটি দোকান ছিল। কিন্তু কয়েকদিন আগেই লখনউয়ে লকডাউন ঘোষণা করা হয়। তার মধ্যে তিনি আর ফেরার কোনও সুযোগ পাননি। কোনমতে একটি বাস ধরে গোরখপুর পৌঁছতে পেরেছিলেন। সেখান থেকে আবার গাজীপুরের বাস ধরেন। কিন্তু গাজীপুর পৌঁছে আর নতুন করে কোন বাস বা যানবাহন পাননি।

    তাই তার কাছে আর পথ খোলা ছিল না। বাধ্য হয়ে চলৎশক্তিহীন ওই মানুষটি ঠেলাগাড়ির উপর বসে নিজের হাতে ভর দিয়েই চলতে শুরু করেন। যেতে শুরু করেন বাড়িতে। বুধবার সকালে নিজের বাড়িতে পৌঁছে যান তিনি। সারাদিন ধরে বিভিন্ন শহর অতিক্রম করে সুস্থভাবে নিজের বাড়িতে পৌঁছে তিনি জানান, ‘‌আমি অনেক মানুষকে বলেছিলাম, পুলিশকে বলেছিলাম আমাকে সাহায্য করতে। কেউ আমায় সাহায্য করতে এগিয়ে আসেনি। তাই বাধ্য হয়ে এই ঠেলাগাড়িতে চেপে আমাকে আসতে হয়েছে। তিনি এটাও বলেছিলেন যে, রাস্তায় অনেকেই তাঁকে ভেবেছে তিনি করোনাভাইরাসের আক্রান্ত। তাই কেউ তাঁকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসেনি।

    এমনভাবেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অসংখ্য অসংগঠিত ক্ষেত্রের কর্মীরা বাড়ি ফেরার চেষ্টা করছে‌ন। কিন্তু তাঁদের ফেরার কোনো উপায় নেই। কেউ কেউ আটকে পড়েছেন অনেক দূরে। তাদের দিন কাটছে না খেয়ে। কেউ আবার কোনওমতে ফিরেছেন বাড়িতে।

    Published by:Uddalak Bhattacharya
    First published: