EXCLUSIVE: করোনা সতর্কতায় 'ডিজিটাল চিকিৎসা’, কলকাতায় বসেই দেশ-বিদেশের রোগী চিকিৎসা !

সংক্রমণ ঠেকাতে নানাবিধ সাবধানতার অন্যতম ভিড় এড়িয়ে যাওয়া।

সংক্রমণ ঠেকাতে নানাবিধ সাবধানতার অন্যতম ভিড় এড়িয়ে যাওয়া।

  • Share this:

#কলকাতা: করোনা  সতর্কতায়  অভিনব ভাবনা  এক চিকিৎসকের। সংক্রমণ ঠেকাতে নানাবিধ সাবধানতার অন্যতম ভিড় এড়িয়ে যাওয়া। কিন্তু কেউ অসুস্থ হলে তাঁকে যখন কোনও চিকিৎসকের চেম্বারে যেতে হয় তখন সেখানে আরও অনেক রোগী থাকেন। ফলে সেখান থেকেও ছড়াতে পারে সংক্রমণ। এই ভাবনা থেকেই কলকাতার বাসিন্দা পেশায় চিকিৎসক রঞ্জন ঘোষ  আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে চিকিৎসা পরিষেবা দিচ্ছেন ।

চিকিৎসক হিসেবে পরিচিত নাম। শুধু কলকাতাই  নয়, দেশ ছাড়িয়ে বিদেশেও তিনি রোগীদের চিকিৎসা করেন। তবে  যেভাবে করোনা আতঙ্কে জেরবার  গোটা দুনিয়া তাতে একজন চিকিৎসক হিসেবে রোগীদের মধ্যে যাতে করোনা সংক্রমণের কোনও জীবাণু থাবা বসাতে না পারে সেই লক্ষ্যেই কলকাতার গোলপার্কে নিজের বাড়ি থেকেই এখন নয়া  ডিজিট্যাল  প্রেসক্রিপশনের মাধ্যমেই  দেশ-বিদেশে চিকিৎসা পরিষেবা প্রদান করছেন রঞ্জন ঘোষ।

অদ্ভুত পেনে প্রেসক্রিপশন। দূর থেকেই ট্রিটমেন্ট। আমেরিকা থেকে আমেদাবাদ। কলকাতা থেকে দেশ-বিদেশের নানা প্রান্তের রোগীদের সঙ্গে  প্রযুক্তির মাধ্যমে কথাবার্তা। সমস্যার কথা শুনে তারপর কলকাতায় বসে ডাক্তার লিখছেন প্রেসক্রিপশন। উন্নত প্রযুক্তির একটি পেন , স্মার্ট ফোন আর আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে তা লাইভ পৌঁছে যাচ্ছে রোগী কিংবা রোগীর পরিবারের মোবাইলে। করোনা সচেতনতায় ভারতে প্রথম এই ব্যবস্থা বলে দাবি চিকিৎসক রঞ্জন ঘোষের।

মনোবিদ এই চিকিৎসকের কথায়, আতঙ্ক আছেই। আতঙ্ক থেকে উদ্বেগ। করোনা আতঙ্ক জন্ম দিচ্ছে মানসিক রোগের। যা মাইসো ফোবিয়া নামে পরিচিত ।যেহেতু করোনা সামাজিক ইস্যু। আমেরিকা ও কলকাতা সহ ভারতের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে তাঁর অনেক রোগী। কিন্তু বর্তমানে করোনার কারণে কলকাতাতে বসেই তাঁর সমস্ত পেশেন্টদের  চিকিৎসা করছেন। ভিড় এড়িয়ে  দূরে বসেই লাইভ প্রেসক্রিপশনও হাতে পেয়ে যাচ্ছেন রোগীরা । চিকিৎসক রঞ্জন ঘোষের বক্তব্য, ‘‘করোনা নিয়ে  বহু মানুষ  গুজবও  ছড়াচ্ছেন  । তাতেই কিছু কিছু মানুষ ভয় পাচ্ছেন এবং সেখান থেকেই মাইসো ফোবিয়ার জন্ম হচ্ছে। এর মধ্যে বেশকিছু রোগী পেয়েছি যারা অবসেসিভ কম্পালসিভ ডিসঅর্ডারে  ভুগছেন । অর্থাৎ এক জিনিস নিয়ে বার বার ভাবনা থেকেই এই ধরনের রোগের জন্ম হচ্ছে। করোনা আতঙ্ক ছড়ানোর পর থেকেই এমন অনেক রোগীর  আমি সন্ধান পেয়েছি যাদের অনেকেরই এই মুহূর্তে মাইসো ফোবিয়ার চিকিৎসা চলছে। এবং এটি স্রেফ করোনা  উদ্বেগ আর আতঙ্ক থেকেই এই রোগের সৃষ্টি হয়েছে।’’

আধুনিক প্রযুক্তির এই পেনটি হাতে পেয়েছিলাম গত নভেম্বর মাসে । তখন সেভাবে পেনটি কাজে লাগেনি।  করোনা নিয়ে উদ্বেগ আর আতঙ্কের মুহূর্তে এখন বেশ কাজে লাগছে পেনটি। কথা প্রসঙ্গে বলছিলেন চিকিৎসক রঞ্জনবাবু। স্মার্টফোনের দৌলতে আর  উন্নত প্রযুক্তির একটি পেন এর ব্যবহারে রোগী কিংবা তার পরিবারের সদস্যরা সমস্যার কথা জানাচ্ছেন তাঁদের ডাক্তারবাবুকে। আর ডাক্তারবাবু ভাল করে সেই সব সমস্যার কথা শুনে চটপট লিখে ফেলছেন প্রেসক্রিপশনও। একটি অ্যাপ রোগী কিম্বা তার পরিচিতের স্মার্ট ফোনে ইনস্টল করা থাকে এবং ফোনের ওটিপি দ্বারা সুরক্ষিত থাকা সেই প্রেসক্রিপশন সরাসরি নির্দিষ্ট মোবাইলে পৌঁছে  যাচ্ছে। চিকিৎসকের চেম্বারে এসে ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করা নয় , ভিড়ের মধ্যে বসে থাকা নয় , সবচেয়ে জরুরী বিষয় , এই প্রযুক্তির মাধ্যমে চিকিৎসা পরিষেবা পাওয়ায় রোগীদের শরীরে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ারও  কোনও  সম্ভাবনা নেই । চিকিৎসা পরিষেবার  ক্ষেত্রে নিঃসন্দেহে এটি একটি  অভিনব বিষয়।

VENKATESWAR  LAHIRI 

Published by:Siddhartha Sarkar
First published: