Coronavirus in Bengal: ১৮ ঘণ্টা বাড়ির উঠোনেই পড়ে থাকল করোনায় মৃত বাবার দেহ! সিঙ্গুরে অসহায় অপেক্ষা ছেলের

Coronavirus in Bengal: ১৮ ঘণ্টা বাড়ির উঠোনেই পড়ে থাকল করোনায় মৃত বাবার দেহ! সিঙ্গুরে অসহায় অপেক্ষা ছেলের

ভোলানাথ পালের দেহ নিয়ে যাচ্ছেন প্রশাসনের কর্মীরা৷

সিঙ্গুর ব্লকের মির্জাপুর-বাঁকিপুর রেল স্টেশন সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা ভোলানাথ পাল করোনা আক্রান্ত হয়ে মঙ্গলবার রাত দশটা নাগাদ মারা যান৷

  • Share this:

    #সিঙ্গুর: করোনায় মৃত রোগীর দেহ ১৮ ঘণ্টা ধরে পড়ে থাকল বাড়ির উঠোনে৷ অমানবিক এই ঘটনাই ঘটল হুগলির সিঙ্গুরে৷ অভিযোগ, মঙ্গলবার রাত দশটায় রোগীর মৃত্যু হলেও প্রায় আঠারো ঘণ্টার পর এ দিন বিকেলে পৌঁছন জেলা প্রশাসনের কর্মীরা৷

    সিঙ্গুর ব্লকের মির্জাপুর-বাঁকিপুর রেল স্টেশন সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা ভোলানাথ পাল করোনা আক্রান্ত হয়ে মঙ্গলবার রাত দশটা নাগাদ মারা যান৷ ওই বৃদ্ধের পরিবারের তরফে জানানো হয়েছে, বেশ কয়েকদিন অসুস্থ থাকার পর গত ১৭ এপ্রিল ভোলনাথ বাবুর করোনা রিপোর্ট পজিটিভ আসে৷ ভোলানাথবাবুর বাড়িতে তাঁর স্ত্রী এবং ছেলে রয়েছেন৷ শারীরিক অবস্থা খুব গুরুতর না হওয়ায়, ভোলানাথবাবুকে বাড়িতেই হোম আইসোলেশনে রাখা হয় বলে দাবি তাঁর ছেলে বাবিন পালের৷

    কিন্তু মঙ্গলবার ভোলানাথবাবুর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়৷ তাঁর ছেলের অভিযোগ, বহুবার যোগাযোগ করেও অ্যাম্বুল্যান্স আসেনি৷ এর পর রাত দশটা নাগাদ অ্যাম্বুল্যান্স এসে পৌঁছলেও ততক্ষণে ভোলানাথবাবুর মৃত্যু হয়৷ এর পর অ্যাম্বুল্যান্স ফিরে যায়৷ তার পর থেকে বাড়ির উঠোনেই পড়ে থাকে বৃদ্ধের দেহ৷ অভিযোগ, বারংবার জেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও মরদেহ নিয়ে যাওয়ার জন্য কেউ আসেনি৷ সকাল গড়িয়ে দুপুর হয়ে যায়৷ ভোলানাথবাবুর ছেলে বাবিন পাল অসহায় ভাবে বলেন, 'আমি কী করব বলুন তো৷ প্রশাসনকে অনেক বার জানিয়েছি৷ অপেক্ষা করা ছাড়া তো আমাদের কোনও উপায় নেই৷ '

    এর পর সংবাদমাধ্যমে এই খবর দেখানোর পরই শেষ পর্যন্ত বিকেল চারটে নাগাদ চুঁচুড়া থেকে প্রশাসনের কর্মীরা শববাহী গাড়ি নিয়ে এসে ভোলানাথবাবুর দেহ সৎকারের জন্য নিয়ে যায়৷

    প্রায় ১৮ ঘণ্টা ধরে করোনা আক্রান্তের দেহ এভাবে উন্মুক্ত অবস্থায় পড়ে থাকায় এলাকাবাসীর মধ্যেও প্রবল আতঙ্ক ছড়ায়৷ দেহ নিয়ে যেতে এত সময় কেন লাগল, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন স্থানীয় বাসিন্দারা৷ যদিও দেহ নিতে আসা সরকারি এক কর্মী জানান, করোনা আক্রান্তদের দেহ নিয়ে যাওয়ার জন্য সহজে কর্মী পাওয়া যাচ্ছে না৷ কারণ এর আগে চুক্তির ভিত্তিতে যাঁরা এই কাজ করছিলেন, তাঁরা নিজেরাই করোনা আক্রান্ত হয়েছেন৷ নতুন করে কর্মী খুঁজে নিয়ে আসতে গিয়েই এতখানি সময় লেগেছে বলে দাবি করেছেন ওই কর্মী৷

    Rana Karmakar
    Published by:Debamoy Ghosh
    First published: